ঢাকা, রোববার 18 November 2018, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মিয়ানমারের চরিত্র বোঝা গুরুত্বপূর্ণ: দীপু মনি

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সাফল্য পেলেও সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে মিয়ানমারের চরিত্র সম্পর্কে বুঝতে পারাটা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি।

তার মতে, মিয়ানমারের চরিত্রটাই এমন যে তারা সহজেই আন্তর্জাতিক চাপের মুখে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য নিজ দেশে দ্রুত প্রত্যাবাসন করার পথ তৈরি করবে না।খবর ইউএনবির।

জাতীয় সংসদ ভবনে নিজ কার্যালয়ে ইউএনবিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন দেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বা সমঝোতার প্রচেষ্টা বন্ধ করা যাবে না। প্রতিবেশি দেশ মিয়ানমারের সাথে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নষ্ট না করে, যতদূর সম্ভব স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখার চেষ্টা থাকতে হবে। বাংলাদেশ সরকার দ্বিপাক্ষিকভাবে যেমন প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তেমনি আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক পর্যায়েও কাজ করছে।

রোহিঙ্গা সংকটের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান দীপু মনি বলেন, ‘এ সংকট মোকাবেলায় সারাবিশ্ব আমাদের সঙ্গে আছে। এটি আমাদের সফল কূটনীতির ফসল।’

‘এ ঘটনাটি ঘটার সাথে সাথে এবং বিগত মাসগুলোতে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন সংস্থা যেভাবে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, যেভাবে তারা রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, যেভাবে তারা রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ঘটনাটিকে গণহত্যা, জাতিগত নিধন ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, সেখানে আমি মনে করি, আমাদের অবশ্যই কূটনৈতিক সফলতা রয়েছে। আমরা বিশ্বকে আমাদের পাশে আনতে পেরেছি,’ যোগ করেন তিনি।  

মিয়ানমার রাষ্ট্রের চরিত্র সম্পর্কে সংসদ সদস্য দীপু মনি উল্লেখ করেন, ‘মিয়ানমার এমন একটি রাষ্ট্র যেটি তার নিজের জনগণের ওপর, জনগণের একাংশের ওপর, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর এমন নির্যাতন চালাতে পারে যা পৃথিবীর সকল বর্বরতার ইতিহাসকেও হার মানিয়েছে। শুধুমাত্র বিভিন্ন রাষ্ট্র তার ওপর চাপ প্রয়োগ করছে বলে তারা এক বছরের মধ্যে তাদের চরিত্র পাল্টে ফেলবে সেটি আশা করা যায় না।’

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাংলাদেশে আসেননি উল্লেখ করে সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, ‘তারা যেভাবে নির্যাতিত হয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের নিজ বাসভূমিতে তাদের ফিরে যাওয়ার মতো উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি না হবে, তারা সেখানে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপদ বোধ না করবেন, তাদের সেখানে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে চলতে পারার মতো ব্যবস্থা তৈরি না হবে, ন্যূনতম অধিকার নিশ্চিত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ সেখানে স্বেচ্ছায় ফিরে যাবেন না। আর স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথও নেই।’

‘সুতরাং এ ধরনের একটি সমস্যা, সংকট এক বছরের মধ্যেই নিরসন হয়ে যাবে, সেটি ভাবার কোনো কারণ নেই’, মনে করেন এই সাংসদ।

ইউএনবিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নারীর ওপর সহিংসতা নিয়েও কথা বলেন। তিনি একে নারীর উন্নয়নের পথে অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন।

তিনি বলেন, পুরষতান্ত্রিক মনোভাবের কারণে নারীর প্রতি সহিংসতার ক্ষেত্রে শুধু নারী নয়, পুরুষরাও আক্রান্ত। এজন্য পুরুষ ও নারী উভয়কে মিলে পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে।

‘নারীর প্রতি সহিংসতা শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর সব দেশে এমনকি উন্নত দেশগুলোতেও ব্যাপক আকারে রয়েছে। ঘরের ভেতরেও আছে, বাইরেও আছে’, যোগ করেন দীপু মনি।

‘নারীর অধিকার মানবাধিকার’ উল্লেখ করে সাবেক মন্ত্রী নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সকলকেই রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ