ঢাকা, সোমবার 3 September 2018, ১৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২২ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র জঙ্গিবিমান ও সাবমেরিন উৎপাদনে ইরান

২ সেপ্টেম্বর, আইআরএনএ : ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক যুদ্ধবিমান ও সাবমেরিন অর্জনের পরিকল্পনা করছে ইরান। দেশটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এসব সরঞ্জাম অর্জনের চেষ্টা চালানো হবে। ইরানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ আহাদি বিদেশী সামরিক কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে এই ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার ইরানের ইসলামিক রিপাবলিক বার্তা সংস্থা (আইআরএনএ) এই খবর জানিয়েছে।

রাজধানী তেহরানে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের নতুন পরিকল্পনায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়ানো এবং পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এবং ভারি ও দূরপাল্লার রণতরী এবং সাবমেরিন ছাড়াও বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র সক্ষমতা বাড়ানোর চিন্তা রয়েছে।২০১৫ সালের ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়ার পর দুই দেশের উত্তেজনার মধ্যে ফ্রান্সের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার একদিন পর নতুন পরিকল্পনার কথা জানালেন ইরানি মন্ত্রী। চুক্তি থেকে বের হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ শুরু করেছে। তবে চুক্তি বহাল রাখতে চাওয়া ফ্রান্স ইরানের ভবিষ্যৎ পারমাণবিক পরিকল্পনা ও ব্যালিস্টিক মিসাইল অস্ত্র এবং চলমান আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেয়। তবে ওই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে তেহরান।যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন নিয়ে গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ইরানের আইনজীবীরা। তারা বলছেন, এই নিষেধাজ্ঞার কারণে সংকটে থাকা ইরানের অর্থনীতি ধ্বংস হতে বসেছে যা ১৯৫৫ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বন্ধুত্ব চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করছে। অবশ্য ওই চুক্তি সম্পর্কে বেশি কিছু জানা যায় না।আহাদি ভাষণে বলেন, নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অস্ত্র শিল্পের উন্নয়নের গতি কমেনি। তাকে উদ্ধৃত করে আইআরএনএ লিখেছে, ‘আমাদের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে আর আমাদের গবেষণা ও উন্নয়ন দরকার। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন ও হালনাগাদ প্রয়োজন। এজন্য আমরা নির্ভর করি নিজ দেশের উচ্চ বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা সম্পন্ন কারিগরি ও প্রকৌশল খাতে হাজার হাজার স্নাতকের ওপর।’সিরিয়া ও ইরাকে ইরানের তৎপরতাকে সমর্থন করে আহাদি বলেন, এই অঞ্চল থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠী আইএসকে হটানোর কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছেন তারা। তিনি  আরও বলেন, ‘ইরান ও তার মিত্ররা যদি ইসলামিক স্টেটকে না থামাতো তাহলে আজ এই অঞ্চলের মানচিত্র ভিন্ন রকম হতো আর বিশ্বকে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়দে হতো।’গত মাসে নিজেদের তৈরি প্রথম যুদ্ধবিমান প্রদর্শন করে ইরান। দাবি করা হয়, বিমানটি শতভাগ ইরানে তৈরি। একই সময়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, শত্রুদের পরাজিত করে দীঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় দেশের সামরিক শক্তি সাজানো হয়েছে। ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের সামরিক শৌর্য দেখে যুক্তরাষ্ট্র এখানে হামলার সাহস করে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ