ঢাকা, সোমবার 3 September 2018, ১৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২২ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মাধবদীতে অনেক কারখানা বন্ধ হাজার হাজার শ্রমিক বেকার

মোঃ আল আমিন, মাধবদী (নরসিংদী) : মাধবদীতে ঈদের আগে থেকেই বেশ কিছু বৃহৎ শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ঈদের ছুটি শেষে শিল্পাঞ্চল মাধবদীর অনেক কাপড় প্রস্তুতকারক তাঁত ও পাওয়ারলুম কারখানা বন্ধ রয়েছে। ফলে ছুটি শেষে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শ্রমজীবি হাজার হাজার মানুষ কর্মস্থলে এসে বেকার সময় পাড় করছেন। গতকাল রোববার ছোট মাধবদীর বেশ কিছু পাওয়ারলুম কারখানায় ঘুরে জানাগেছে সুতা, রং, কাঁচামালের মূল্য বেশী এবং উৎপাদিত কাপড় বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করতে সমস্যা ও ভারতীয় তৈরি পোশাকের প্রভাবে এখানকার অনেক কারখানায়ই উৎপাদিত কাপড়ের বিশাল স্টক হয়ে পড়ে থাকায় শ্রমিক, কর্মচারীদের মজুরী পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বাধ্য হয়ে মালিক পক্ষ কারখানা বন্ধ রেখেছেন। এর ফলে বেকার হয়ে পড়েছে হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারী, কর্মকর্তা। স্থায়ীভাবে বেকার হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন মাধবদী, শেখেরচর বাবুর হাট এলাকার স্বাধীনতা উত্তর সময় থেকেই তাঁত ও পাওয়ারলুমে তৈরি কাপড় ও তৈরি পোশাক উৎপাদন ও বৃহৎ বিপনন কেন্দ্র হিসেবে বাংলার ম্যানচেষ্টার খ্যাতি অর্জনকারী বিপণণ কেন্দ্রগুলো। এখানকার কাঠের তৈরি হস্ত তাঁত ও পাওয়ারলুম সেই স্বাধীনতা উত্তর সময় থেকেই পুরো ম্যানচেস্টার এলাকায় কাপড়ের জন্য প্রসিদ্ধ এলাকা হিসেবে সুনামের সাথে টিকে আছে মাথা উঁচু করে। জায়গা করে নিয়েছে অসংখ্য বস্ত্র কারখানা। কর্মসংস্থান হয়েছে হাজার হাজার বেকার মানুষের। এখানকার তাঁত ও পাওয়ারলুমে তৈরি কাপড় স্বনামধন্য দেশীয় পোশাক তৈরি প্রতিষ্ঠান আড়ং, অঞ্জন’স সহ বেশ কিছু বড় বড় পোশাক রফতানীকারক প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ হয়ে আসছে। উন্নত টেকসই কাপড় দিয়ে তৈরি পোশাক ও গ্রে-কাপড় সরবরাহ হয়। এক যুগ আগে থেকেই বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশে সম্মানজনক ভাবে রপ্তানী হচ্ছে এখানকার তাঁত ও পাওয়ারলোমে তৈরি কাপড় ও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের তৈরি পোশাক। যে কোন কারখানা বা বস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান যাদের শ্রমে উন্নয়নের উচ্চ শিখরে আরোহণ করে সে শ্রমজীবী মানুষের জীবনে উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি এখনও। তাদের প্রতি মালিক পক্ষের অবহেলা নির্যাতন ছাড়াও নারী/পুরুষের মজুরি বৈষম্যও দূর হয়নি এখনও। অথচ প্রতিটি বৃহৎ উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের মূল ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় অবহেলিত নি¤œ শ্রেণীর শ্রমিকদের শরীরে ঘাম আর বুকের তাজা রক্তই মিশে আছে উৎপাদিত বস্ত্রে সবচেয়ে বেশী। অথচ যুগ যুগ পেরোলেও সেই শ্রমিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি আজো। তাদের ন্যায্য মজুরিও নির্ধারিত হয়নি আজও। আর তাই মালিক পক্ষের ইচ্ছা মাফিক কাজ করেও শঙ্কাগ্রস্ত থাকতে হয় প্রতিটি শ্রমিককে। কারণ লিখিত কোন নিয়োগ চুক্তি না থাকায় যখন তখন ছাঁটাই বা কারখানা থেকে ছাঁটাই করে বের করে দিলেও কিছুই করার থাকেনা শ্রমিকের। বেশ কিছু কারখানায় শ্রমিক ও মালিকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে ঈদের পূর্বেই ছোট মাধবদীর ৮টি পাওয়ারলুম কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে।

 কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন মাধবদীতে সম্প্রতি অনেক কারখানায় কাঁচামাল, তুলা, রং, সুতা, খুচরা যন্ত্রাংশ সংকট চলছে তার ওপর বিভিন্ন জেলায় কাপড় সরবরাহ কম এবং ভারতীয় কাপড় ও তৈরি পোশাকের করহীন অনুপ্রবেশের কারণে প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন কারখানা বন্ধ হচ্ছে আর তাতে সেই সব কারখানার শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়ছে। দীর্ঘ হচ্ছে বন্ধ হওয়া কারখানার তালিকা, দীর্ঘ হচ্ছে বেকার শ্রমিকের লাইন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ