ঢাকা, সোমবার 3 September 2018, ১৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২২ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সরকারি মহিষ প্রজনন খামারে ১২ পদ শূন্য

খুলনা অফিস : খুলনা-মংলা মহাসড়কের পাশে দেশের একমাত্র মহিষ প্রজনন কেন্দ্রটিতে ১২টি পদ শূন্য। পরিচালিত হচ্ছে বিশেষজ্ঞ ছাড়াই। ভেটেরিনারি সার্জন নেই। এ প্রতিষ্ঠানে একজন চিকিৎসক রয়েছেন। তিনিই প্রশাসনিক কর্মকর্তা। ৩৪ বছর আগে ফকিরহাটের পিলজঙ্গ এলাকায় ৮০ একর জমিতে প্রজনন কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত করা হয়।

১৯৮৪-১৯৮৫ সালে খুলনা-মংলা মহাসড়কের পাশে ফকিরহাট উপজেলার পিলজঙ্গে দেশের একমাত্র মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়। মহিষ প্রাণীকে বাঁচিয়ে রাখতে, গোশের ও দুধের ঘাটতি পূরণে গড়ে ওঠে মহিষ প্রজনন কেন্দ্র। ভোলা, চরফ্যাশন, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, হাতিয়া উপজলা, লক্ষ্মীপুর, যশোরের কেশবপুর, বাগেরহাটের ফকিরহাট, চিতলমারি, শরণখোলা, খুলনার ডুমুরিয়া, দিঘলিয়া, ফুলতলা, তেরখাদা, সাতক্ষীরার দেবহাটা ও কালিগঞ্জ উপজেলা, গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া, টুঙ্গিপাড়া ও শরীয়তপুর ইত্যাদি স্থান থেকে শুরুতে একশ’ মহিষ এখানে আনা হয়।

জানা গেছে, মহিষ প্রজাতির বংশ বিস্তার, গোশ ও দুধের চাহিদা পূরণে এ প্রতিষ্ঠান শুরুতেই একশ’ মহিষ নিয়ে যাত্রা শুরু করে। গত ৩৪ বছরে এখানে মহিষের সংখ্যা ৫৪০টি। প্রতি বছর ৭৫ থেকে ৮০টি বাচ্চা হয়। ইটালিয়ান মোররা প্রজাতির মহিষ এ কেন্দ্র থেকে দৈনিক গড়ে আড়াইশ’ লিটার দুধের যোগান দেয়। প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘একটি পূর্ণ বয়স্ক মহিষ প্রতিদিন সর্বনিম্ন ৪ কেজি থেকে ৭ কেজি পর্যন্ত দুধ দেয়। দিনে একবার করে দুধ দোয়ানো হয়।’ কর্মচারী নিখিল দাস ও গনেষ দাস বলেন, ‘মহিষকে সকালে সুষম খাবার, দুপুরে ঘাষ এবং বিকেলে খড় কুটো খাওয়ানো হয়। এছাড়া কেন্দ্রে রোপণকৃত নেপিয়ার এবং জার্মান জাতীয় ঘাষ মহিষকে খেতে দেয়া হয়।’ ডা. মো. লুৎফর রহমান জানান, মহিষের বংশ বিস্তারের জন্য মোররা প্রজাতি ছাড়াও পাকিস্তানের লিনিরাহি প্রজাতির মহিষের সিমন এনে প্রজনন বৃদ্ধি করা হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে এ অঞ্চলে আগ্রহী কৃষকদের মধ্যে বাজারদরের চেয়ে অর্ধেক দামে একশ’টি এঁড়ে মহিষ বিক্রি করা হয়েছে। এ প্রজনন কেন্দ্রে পশুর খাবারের জন্য বছরে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। তিনি জানান, উৎপাদিত দুধ প্রজনন কেন্দ্র থেকে জনসাধারণের কাছে বিক্রি করা হয়।

প্রতিষ্ঠানের সহকারী পরিচালক ডা. মো. লুৎফর রহমান জানান, এখানে বিশেষজ্ঞ নেই। তাই, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের কাছ থেকে পরামর্শ নেয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ