ঢাকা, সোমবার 3 September 2018, ১৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২২ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যশোরে সাবেক সংসদ সদস্যসহ বিএনপি জামায়াতের দেড়শতাধিক নেতাকর্মীর নামে নাশকতার মামলা ॥ আটক ৩১

চৌগাছা (যশোর) সংবাদদাতা: যশোরের তিন থানায় বিএনপি জামায়াতের দেড়শতাধিক নেতাকর্মীর নামে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে কথিত নাশকতার মামলা দিয়েছে পুলিশ। গত দুই দিনে এসব মামলা রেকর্ড করা হয়। মামলায় যশোর- ২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জামায়াত নেতা মুহাদ্দিস আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহদৎ হুসাইনকেও আসামী করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায় ৩০ আগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর ঝিকরগাছা থানায় পুলিশ বাদী হয়ে দুইটি মামলা দায়ের করে। এদুটি মামলায় বিএনপি জামায়াতের ৬০ জন নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। আসামীদের মধ্যে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদৎ হুসাইন, ঝিকরগাছা থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হারুনুর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোর্তজা এলাহী টিপুসহ জামায়াত, বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। আসামীদের মধ্যে থেকে পুলিশ ১৫ জনকে আটক করেছে। তবে এলাকাবাসী বলছে পুলিশ শহরতলীর লাউজানী গ্রাম থেকে যে ১৫ জনকে আটক করেছে তারা বিএনপি জামায়াতের কোন নেতাকর্মী না। তারা গ্রামের সাধারণ খেঁটে খাওয়া মানুষ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন আইনজীবী বলেন ঝিকরগাছার লাউজানী গ্রাম থেকে পুলিশ যাদের আটক করেছে তারা একেবারে দ্বীনমজুর শ্রেণীর খেঁটে খাওয়া মানুষ। অপরদিকে জেলার শার্শা উপজেলার ৩৯ জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে বিস্ফোরক আইনে নাশকতার মামলা দিয়েছে পুলিশ। এই মামলায় আটক করা হয়েছে ৯ জনকে। রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোরে এসব নাশকতার ঘটনা ঘটে বলে দাবী করেছেন শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এম মশিউর রহমান। এউপজেলায় যাদেরকে আটক করা হয়েছে তারা হলেন- শার্শার দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামের নূরুল হক মোড়লের ছেলে আজগর আলী (৪২), আবুল হোসেনের ছেলে আলা উদ্দিন (৪৩), গোলাম নবীর ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৫০), আব্দুল অহেদ এর ছেলে নিপন হোসেন (২৮), যাদবপুর গ্রামের শান্তিপুর পাড়ার আবু হানিফের ছেলে মেহেদী হাসান জনি (৩০), রামপুর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে বাকী বিল্লাহ (৩৮), রাড়িপুকুর গ্রামের নবীছদ্দিনের ছেলে রুস্তম আলী (৪২) ও বাগআঁচড়া গ্রামের মৃত রুপচাঁদ বিশ্বাসের ছেলে আলমগীর কবীর (৪৫) ও তার ছোট ভাই মতিয়ার রহমান (৪১)। শার্শা থানা পুলিশ জানায়, আটক আজগরের বাড়িতে নাশকতার উদ্দেশ্যে আসামীরা মিটিং করছিল। এসময় গোপন সংবাদ পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ৯ জনকে আটক করে। এসময় অনেক আসামী পালিয়ে যায়। পুলিশ আরও জানায়, ঘটনাস্থল থেকে ৬টি ককটেল, ৫টি পেট্রোল বোমা, ২০টি রেল লাইনের পাথর ও ১৩টি লাঠি জব্দ করা হয়েছে। অবশ্য এ ব্যাপারে আটক আসামীদের স্বজনরা জানান, রাত আড়াইটার দিকে শার্শা থানার পুলিশ বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে তাদের আটক করেছে। তারা কোন মিটিং করেনি পুলিশের দাবী মিথ্যা। তারা আরও জানান, আটক আসামীদের নামে কোনও মামলা নেই। তাদের অপরাধ তারা বিএনপি করে।
আটক একজন আসামীর স্ত্রী জানান, ঘরের গেট ও দরজা ভেঙে তার স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি আরও জানান, তার স্বামী কিছুদিন আগে বিদেশ (মালয়েশিয়া) থেকে বাড়ি এসেছে। শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এম মশিউর রহমান জানান, জামায়াত-বিএনপির ৩৯ নেতাকর্মীর নামে নাশকতার মামলা করা হয়েছে এবং ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। এদিকে জেলার মনিরামপুর উপজেলার বিএনপির ৩২ নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। এ মামলায় সাত জনকে আটক করেছে পুলিশ। মামলায় মনিরামপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নিস্তার ফারুকসহ বিএনপির ৩২ নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে।
মনিরামপুর থানার এসআই প্রশান্ত কুমার বাদী হয়ে শনিবার এ মামলাটি দায়ের করেন। ইতিমধ্যে পুলিশ এ মামলায় শহিদুল ইসলাম নামে এক মাটিকাটা শ্রমিককে আটক করেছে। মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন , থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেনের তিন ছোটভাই সদর ইউপি চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুক, মনিরামপুর সরকারি কলেজের অফিস সহকারী আকতার হোসেন ও ব্যবসায়ী শাহিনুর রহমান। এ ছাড়া কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইমরান নাজির, ফতেয়াবাদ গ্রামের শহিদুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, শফিয়ার রহমান, কোরবান আলী, বাবলুর রহমান, টিপু, মিজানুর রহমান, লোকমান হোসেন, ফারুক হোসেন, রনি, রফিকুল ইসলাম, হারুন, আশরাফ সিদ্দিকী, জনি, মিঠু, খোকন, রব, মাসুদ, মতিয়ার, মামুন, মোমিন, শাহিদুল, বদু, সাবেক ইউপি মেম্বার মুক্তাদির হোসেন, শহিদুল, বিল্লাল হোসেন, মিকাইল ও সরোয়ার।
মামলার বাদী এসআই প্রশান্ত কুমার দাবি করেন, ইউপি চেয়ারম্যান নিস্তার ফারুকের নেতৃত্বে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের ৩০-৩২ নেতাকর্মী মনিরামপুর কলেজের পশ্চিম পাশে মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসা মাঠে বসে সরকার উৎখাতের জন্য এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনার জন্য বৈঠকে মিলিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এমন খবর পেয়ে তিনিসহ একদল পুলিশ সদস্য শুক্রবার রাত প্রায় ৯ টার দিকে সেখানে অভিযান চালান। এ সময় সেখান থেকে আটক করা হয় শাহিদুল ইসলাম নামে এক শ্রমিককে। বাকিরা পালিয়ে যায়।
এদিকে পুলিশের দায়েরকৃত এ মামলাকে মিথ্যা ভিত্তিহীন এবং ষড়যন্ত্রমূলক উল্লেখ করে মনিরামপুর থানা বিএনপির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন জানান, জনবিচ্ছিন্ন হওয়ায় সরকার দিশেহারা হয়ে বিএনপির নিরীহ নেতাকর্মীদের নামে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। তবে থানার ওসি মোকাররম হোসেন জানান, সুনির্দ্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এ মামলা করা হয়েছে। এসব মিথ্যা মামলা দায়েরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানিয়েছেন যশোর জেলা বিএনপি জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ