ঢাকা, সোমবার 3 September 2018, ১৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২২ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার দাবি

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: আগামী ৪০তম বিসিএস পরীক্ষার আগে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ পর্যন্ত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে এই দাবি জানায় তারা। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক সঞ্জয় দাস, যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন আর রশিদ,সদস্য সবুজ ভূঁইয়া, কামরুন নাহার ঝুমা, রিপা ইসলাম প্রমুখ।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক সঞ্জয় দাস বলেন, ১৯৯১ সালে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স ২৭ থেকে বাড়িয়ে ৩০ করা হয়। তারপর, দীর্ঘ ১৮ বছরেও চাকরিতে প্রবেশের বয়স বাড়েনি। ২১ বছর পর সরকার অবসরের বয়স বাড়িয়ে ৫৯ করলেও প্রবেশের বয়স বৃদ্ধি করেনি।
তিনি আরো বলেন, আগে  যেখানে একজন ছাত্র ৪/৫ বছর বয়সে প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি হয়ে ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সে এসএসসি পাস করতে পারত, এখন সেটা ১৬ বছরের আগে কোনক্রমেই সম্ভব নয়। স্নাতক ও সম্মান উভয় ক্ষেত্রে ১ বছর করে বৃদ্ধি করে যথাক্রমে ৩ ও ৪ বছর করা হয়েছে। সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিকের দুই বছর যোগ করলে একজন সম্মান পাস ব্যক্তির বয়স দাড়ায় ২২ বছর। অপরদিকে, তিন বছর স্নাতকধারীর বয়স হয় ২৩ বছর। তাছাড়া, ফলাফল প্রকাশ, ভর্তি এসব কাজেও একজন শিক্ষার্থীর এক-দুই বছর চলে যায়। সেই দিক থেকে বিবেচনা করলে চাকরিতে প্রবেশের নিম্নসীমা ১৮ বছরও অযৌক্তিক। তাই রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের দাবি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা ৩৫ বছর করা হোক।
বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক হারুন-অর রশিদ বলেন, সরকারের বর্তমান মেয়াদের মধ্যে এ সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হবে। নবম সংসদের নির্বাচনের পূর্বেও চাকরিতে আবেদনের বয়স বাড়ানোর জন্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কিন্তু বাস্তবে তার সুফল এদেশের ছাত্ররা এখনো লাভ করনি। তাই আসছে নির্বাচনের আগেই এটা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।
মানববন্ধনে চাকরি প্রত্যাশীরা বলেন, সরকারের বর্তমান মেয়াদে ও ৪০তম বিসিএস পরীক্ষার আগেই এ সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের চাকরিতে আবেদনের বয়স ৩২ করতে চাচ্ছে। আমরা ৩২/৩৩ কোনোটাই মানবো না। আমরা চাকরিতে আবেদনের বয়স ৩৫ চাই।
বক্তারা আরও বলেন, নবম সংসদের নির্বাচনের আগেও চাকরিতে আবেদনের বয়স বাড়ানোর জন্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তা এখনও করেনি। তাই নির্বাচনের আগেই এটা বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকার যদি আমাদের দিকে না দেখে আমরা যাবো কোথায়। কোনদিন চাকরি পাবো, পরিবার আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাই আমরা চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ চাই, মেধা প্রমাণের সুযোগ চাই।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও বলেন, সেশন জটের কারণে একজন সাধারণ ছাত্রের অনার্স মাস্টার্স পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর চাকরির আবেদনের সময় থাকে ২/৩ বছর। এর মধ্যে চাকরির আবেদন করলে সেই চাকরির ফলপ্রকাশ করতে করতে সরকারি চাকরির বয়স শেষ হয়ে যায়। তাই সরকারি চাকরিতে আবেদনে বয়স ৩৫ করা দরকার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ