ঢাকা, সোমবার 3 September 2018, ১৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২২ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

এই দৈন্য কখন দূর হবে?

‘ধর্মমন্ত্রীর ছেলের বিরুদ্ধে অবশেষে মামলা নিলো পুলিশ’ শিরোনামে একটি খবর মুদ্রিত হয়েছে পত্রিকান্তরে। ২ সেপ্টেম্বর তারিখে মুদ্রিত খবরে বলা হয়, ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমানের ছেলে মোহিত উর রহমান ওরফে শান্তর বিরুদ্ধে অবশেষে মামলা নিয়েছে পুলিশ। ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের সদস্য সাজ্জাদ আলম শেখ আজাদকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই মামলা হয়েছে। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানায় নিহত সাজ্জাদের স্ত্রী দিলরুবা আক্তারের লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয় গত শুক্রবার ৩১ আগস্ট রাতে। উল্লেখ্য যে, মোহিত ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
খবরে বলা হয়, গত ৩১ জুলাই দুপুরে সাজ্জাদকে গুলী করে ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ২ আগস্ট নিহত ব্যক্তির স্ত্রী মামলা করতে লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় যান। লিখিত অভিযোগে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে মোহিতের নাম থাকায় পুলিশ মামলা নিচ্ছিল না বলে অভিযোগ করেন দিলরুবা। তিনি রিট আবেদন করলে গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট মামলা নথিবদ্ধ করার জন্য ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানার পুলিশকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ পেয়ে শুক্রবার রাতে মামলা নেয় পুলিশ। থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম জানান, মামলায় মোহিত এবং ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রাসেল পাঠান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সন্তু বাবু, যুবলীগের কর্মী শেখ ফরিদ, ফরহাদ, সেলিমসহ মোট ২৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। তবে ১ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকাল পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করা যায়নি। পুলিশ আসামীদের গ্রেফতারের জন্য কাজ শুরু করেছে বলে ওসি জানান। পুলিশ, দলীয় ও নিহত ব্যক্তির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ শহরের আকুয়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে যুবলীগের স্থানীয় দুই পক্ষের বিরোধ আছে। এর জের ধরে ৩১ জুলাই সাজ্জাদ প্রতিপক্ষের হাতে খুন হন। এ নিয়ে ২ আগস্ট শহরের কালীবাড়ি এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করেন নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে সাজ্জাদের স্ত্রী দিলরুবা দাবি করেন, সাজ্জাদ এক সময় মোহিতের পক্ষে রাজনীতি করতেন। পরে তিনি পক্ষ ত্যাগ করলে মোহিত তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। হত্যার সাত দিন আগে মোহিত মুঠোফোনে সাজ্জাদকে হত্যার হুমকি দেন। তার নির্দেশেই সাজ্জাদকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয় বলে স্ত্রী অভিযোগ করেন।
খবরে মামলার কথা, অভিযোগের কথা জানা গেল। রায় পেতে সময় লাগবে। সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের মাধ্যমে হত্যাকা-ের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরা উপযুক্ত শাস্তি পাবে বলে আমরা আশা করতে চাই। তবে আলোচ্য ঘটনায় একটি প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। আসামী মন্ত্রীর পুত্র হলে কিংবা ক্ষমতাসীন দলের নেতা হলে পুলিশ কি তার বিরুদ্ধে মামলা নিতে অক্ষম? আমরা দেখলাম হাইকোর্টের আদেশের পর পুলিশ মামলা নিলো। কিন্তু সাধারণ নাগরিক কিংবা বিরোধী দলের লোকদের বিরুদ্ধে মামলা নিতে তো পুলিশকে বেশ তৎপর দেখা যায়। তখন তো আদালতের আদেশের প্রয়োজন হয় না। এটি কিন্তু সুশাসনের লক্ষণ নয়। এই দৈন্য কখন দূর হবে?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ