ঢাকা, সোমবার 3 September 2018, ১৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২২ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিইসির আত্মস্বীকৃতি ও ভঙ্গুর গণতন্ত্র

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা : ভারতীয় সংসদ সদস্য অধীর চৌধুরী নির্বাচন কমিশনকে একহাত নিয়েই বলেছিলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সম্মান রাখার দায়িত্ব কমিশনারদের। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সকালে-বিকালে দু’রকম কথা বলছেন! সরকারকে খুশি করতে, শাসক দলের নেতাদের খুশি করতে কমিশনকে একটা সার্কাসে পরিণত করেছেন। সেই সার্কাসের সবচেয়ে বড় জোকার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজেকে।’
মূলত আস্থাহীনতা থেকেই একজন আইন প্রণেতা নিজ দেশের নির্বাচন কমিশন নিয়ে এমন তীর্যক মন্তব্য করেছিলেন। কমিশনের ওপর যদি মানুষ আস্থাহীন হয়ে পড়ে তাহলে সে কমিশনের দায়িত্বে থাকার কোন নৈতিক ভিত্তি থাকে না। কথাটা যে শুধু ভারতীয় নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে প্রযোজ্য এমন নয় বরং একই উপযোগিতা ও মুদ্রাদোষ আমাদের দেশের নির্বাচন কমিশনকেও পেয়ে বসেছে।
দেশে একের পর এক নিয়ম রক্ষার নির্বাচন হচ্ছে কিন্তু নির্বাচনে জনমতের তেমন প্রতিফলন ঘটছে না। এসব নির্বাচনকে প্রতীকী বলায় অধিক যুক্তিযুক্ত। কারণ, চরদখলের আদলে ভোট কেন্দ্র দখল, গণহারে জালভোট, মৃত ও প্রবাসীদের ভোট প্রদান আমাদের দেশের নির্বাচনী সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। মূলত আমাদের দেশে নির্বাচন এখন রীতিমত তামাশায় পরিণত হয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হলেও কমিশন সে দায়িত্ব পালন করতে অনেকটাই ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি কমিশনের পক্ষ থেকে কখনো স্বীকার করা হয়নি বরং কমিশন এতদিন বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পক্ষেই সাফাই গেয়ে আসছে। তবে সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য থেকে এ বিষয়ে এক প্রকার আত্মস্বীকৃতি মিলেছে। তার এই বিলম্বিত উপলব্ধি আগামী দিনে আমাদের জন্য দিক নির্দেশনা দেবে কি না তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে আত্মপোলব্ধির জন্য সিইসি সাধুবাদ দিতে কার্পণ্য করাও যৌক্তিক হবে না।
সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের একটি মন্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। যা দেশের গণতন্ত্র প্রিয়  মানুষকে বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। কথাটা খুবই সংক্ষিপ্ত হলেও এর প্রতিক্রিয়া যে সুদূরপ্রসারী তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। গণতন্ত্রের নামে আমাদের দেশে যে সার্কাস চলছে তা সিইসির বক্তব্য থেকে খুবই স্পষ্ট। আর এই সার্কাসের প্রযোজনা সংস্থা নেপথ্যে থাকলো তার পাত্র-মিত্র ও কলা-কুশলীদের নিয়ন্ত্রণ যে নির্বাচন কমিশনের হাতে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
কয়েক দিন আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার গণমাধ্যমকর্মীদের বেশ জোর দিয়েই বলেছেন, ‘বাংলাদেশের বাস্তবতায় জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম একেবারেই হবে না, এমন নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব নয়’। তার ভাষার প্রয়োগ ও উপস্থাপনা দেখে মনে হয় তার দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে দেশে কোন নির্বাচনই ত্রুটিমুক্ত হয়নি। আগামীতেও হওয়ার কোন সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে না। এ জন্য তিনি ‘আমাদের দেশের বাস্তবতা’ কথাটা স্পষ্ট  করেই উল্লেখ করেছেন।  তিনি তার বক্তব্যে একথায় বলতে চেয়েছেন যে, আমাদের দেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন নিয়ে আমরা যে রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি তাতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হওয়ার তেমন কোন সম্ভবনা তিনি দেখেন না। কিন্তু তিনি ত্রুটিমুক্ত নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতারগুলো আমাদের সামনে পরিস্কার করেননি। আমাদের দেশের বাস্তবতা কী এবং কেন ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন সম্ভব নয় হয়তো সেকথা তিনি ভাল করেই জানেন। কিন্তু তা যদি আমাদের সামনে প্রকাশ করতে পারতেন তাহলে আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞই থাকতাম। কিন্তু আমাদের ভাগ্য ততটা সুপ্রসন্ন নয়।
একথা সত্য যে, আমাদের দেশের গণতন্ত্রের এই দৈন্যদশা উচ্চাভিলাষী রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে হয়েছে। ক্ষমতালিপ্সার নেতিবাচক ও গণবিচ্ছিন্ন রাজনীতিই প্রধানত এ জন্য দায়ী। কিন্তু এই প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করতে হয়েছে নির্বাচন কমিশনকেই। কাজী রকিব কমিশনের হাত ধরেই আমাদের দেশের গণতন্ত্রের অবনমন শুরু হয়েছে, যা এখন পূর্ণতা পাচ্ছে বর্তমান হুদা কমিশনের মাধ্যমেই। তাই বর্তমান কমিশনের অধীনে আগামী একাদশ  জাতীয় নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে কিনা তা নিয়েই সংশয় প্রকাশ করছে দেশের সকল শ্রেণি ও পেশার মানুষ।
সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেছে নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ও ব্যক্তি, সুশীল সমাজ ও দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমও। আসলে বর্তমান কমিশন দেশের সকল শ্রেণি ও মানুষের আস্থা হারিয়েছেন। এই কমিশন যে দেশে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারবে না তা ইতোমধ্যেই পরিস্কার হয়ে গেছে। আর নির্বাচন কমিশনের মত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যদি জাতিকে ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন উপহার দিতে না পারে তাহলে জনগণের পয়সায় ‘পালের গোদা’ আর ‘আমড়া  কাঠের ঢেঁকি মার্কা’ কমিশন পোষার কোন যৌক্তিকতা দেখা যায় না।
যদিও বর্ষীয়ান অর্থমন্ত্রী বলেছেন ভিন্ন কথা। তিনি বেশ জোড়ের সাথেই দাবি করেছেন যে, বর্তমান সরকারের সময়ে দেশে হাজার-হাজার, লাখ-লাখ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তার সবগুলীই অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে। এটা তার বয়সজনিত প্রমাদ না ক্ষমতার অন্ধত্ব তা নিশ্চিত করে বলা না গেলেও বর্তমান ক্ষমতাসীনদের সময়ে যে দেশে  হাজার হাজার বা লাখ লাখ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি তা অন্তত নিশ্চিত করে বলা যায়। মূলত প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সর্বসাম্প্রতিক আত্মস্বীকৃতি প্রমাণ করে দেশে যতসংখ্যক নির্বাচনই হোক না কেন কোন নির্বাচনই ত্রুটিমুক্ত হয়নি আর আগামীতে হওয়ার কোন সম্ভবনাও দেখা যাচ্ছে না। তাই নির্বাচন নিয়ে অর্থমন্ত্রীর আষাঢ়ে গল্প ‘টোটালী রাবিশ’ বলেই মনে হচ্ছে।
অবশ্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সহকর্মী অন্য চার নির্বাচন কমিশনার তার কথার সাথে পুরোপুরি দ্বিমত পোষণ করেছেন। তারা সিইসি’র কথার বিরোধীতা করে বলেছেন এটা তার ব্যক্তিগত কথা। কমিশনের বক্তব্য নয়। ফলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের সাথে তার সহকর্মীরা দ্বিমত পোষণ করায় কমিশনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতার বিষয়টি প্রকাশ  পেয়েছে এবং  জনমনে নতুন করে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। কারণ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান যে সুনিয়ন্ত্রিত পন্থায় চলছে না তা তাদের বক্তব্য থেকে খুবই সুস্পষ্ট। এ ধরনের একটি বিশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠানের পক্ষে জাতিকে একটি সুন্দর ও সাবলীল নির্বাচন উপহার দেয়া সম্ভব নয় তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
খোদ কমিশনাররাই যখন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন তখন সে কমিশনের আর কোনই গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। সিইসির সহকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, কোনো আগাম আলোচনা ছাড়াই নির্বাচন কমিশনের প্রধান বা অন্য সদস্যরা কমিশনের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে ব্যক্তিগত মন্তব্য করতে পারেন না। আবার সাংবিধানিক পদে থেকে অন্য ৪ কমিশনার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এ ধরনের সমালোচনা করতে পারেন কিনা তা নিয়েও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা জোড়ালো প্রশ্ন তুলেছেন।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দলটির সাধারণ সম্পাদক কম কথা বলার পরামর্শ দিয়ে সিইসিকে রীতিমত শাসিয়ে দিয়েছেন। বিষয়টিকে একেবারে হালকা করে দেখার সুযোগও থাকছে না। কারণ, সরকার দলীয় একজন সিনিয়র নেতা কর্তৃক সিইসিকে শাসানো গণতন্ত্রের জন্য ভাল লক্ষণ বলে মনে হচ্ছে না। তারা যে নির্বাচন কমিশনকে দাসানুদাসে পরিণত করতে চায় এটাই তার সুস্পস্ট প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। আর বর্তমান কমিশনও যে প্রভূ ভক্তির অনন্য নজীর স্থাপন করেছে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়।
ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক সিইসি রসনা নিয়ন্ত্রণের জন্য এ ধরনের উপদেশ বা শাসন করতে পারেন কি না তা নিয়েও রীতিমত প্রশ্ন উঠেছে। এতে নির্বাচনের কমিশনের স্বাধীন সত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ, সংবিধানে নির্বাচন কমিশনকে আইন ও সংবিধানের অধিনস্থ করে স্বাধীন সত্তা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদের ৪ উপঅনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘The Election Commission shall be independent in exercise of its functions  and subject only to this Constitution and any other law’ ‘অর্থাৎ নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে স্বাধীন থাকিবে এবং কেবল এই সংবিধান ও আইনের অধীন হইবেন’।   তাই সিইসিকে উপদেশ বা শাসন করাকে কেউই ভাল চোখে দেখছেন না বরং সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন।
সিইসির সর্বসাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা হলেও তার বক্তব্যে দেশের নির্বাচনী বাস্তবতা উঠে এসেছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তিনি হয়তো এমনটা বলতে চাননি। জাগ্রত বিবেকের অবচেতনা থেকেই হয়তো তার মুখ থেকে এমন রূঢ় বাস্তবতা প্রকাশ পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এ ধরনের বক্তব্য দেয়ার আগে তার কমিশনের ব্যর্থতার দায়ভার স্বীকার করে নিয়ে তার পদত্যাগ করা উচিত ছিল।
আমাদের চরম দুর্ভাগ্য যে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ হওয়ার পরও বর্তমান কমিশন পদ-পদবিকে ‘যক্ষের ধন’ এর মত আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। স্বপদে বহাল থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের এ ধরনের বক্তব্য দেয়া মোটেও উচিত হয়নি। কেন না, মনে রাখতে হবে, তিনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান। তার বক্তব্যে এমন কোনো বার্তা যেন না আসে- তিনি বা তার কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন করতে ব্যর্থ। আর প্রকৃতপক্ষেই যদি নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হয় তাহলে সে কমিশন কোন ভাবেই দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে পারে না বরং ব্যর্থতার দায় নিয়ে বিদায় নেয়াটাই যৌক্তিক।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য থেকেই প্রমাণ হয় তিনি বা তার কমিশন যথাযথভাবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না বা তাদেরকে সেভাবে দায়িত্ব পালন করতে দেয়া হচ্ছে না। অতীতের কিছু ঘটনা প্রবাহ সেদিকেই অঙ্গলী নির্দেশ করে। কারণ, নিকট-অতীতে নির্বাচন কমিশন যত সিদ্ধান্তই গ্রহণ করেছে তার সবই নির্বাচন কমিশনের অনুকুলে করেছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে কমিশনকে সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে দেখা যায়নি।
এর আগে সরকারি সিদ্ধান্তের অনুকুলেই নির্বাচন কমিশন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সাংসদদের প্রচারের সুযোগ সৃষ্টি করে আইন প্রণয়ন করেছিল। কমিশন নির্বাচনী এলাকার সীমানা পূনঃনির্ধারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেও সরকারি দলের আপত্তির মুখে সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
সরকারি দলের নেতারা যেসব আসনের সীমানা নির্ধারণে অনাপত্তি জানিয়েছে শুধুমাত্র সেসব আসনে সীমানা পূনঃনির্ধারণ করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে। মূলত সরকারি দলের আপত্তির মুখে ইসির নতুন আইন করার উদ্যোগ থেমে যায়। বিদ্যমান আইনে ৪০টি সংসদীয় আসনে পরিবর্তন প্রস্তাব করেছিল ইসি। কিন্তু এতেও ক্ষমতাসীনরা আপত্তি জানায়। যেসব মন্ত্রী ও সাংসদ তাঁদের সংসদীয় এলাকার সীমানায় পরিবর্তন প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়েছিল তাঁদের এলাকায় পরিবর্তন প্রস্তাব কার্যকর কার্যকর করতে পারেনি ইসি। যা কমিশনের স্বাধীন স্বত্ত্বাকেই প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করেছে।
তাই এমন একটি নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ত্রুটিমুক্ত নির্বাচন করা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। যেহেতু রাজনৈতিক দলগুলো বর্তমান কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না তাই আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয় কি না তা নিয়ে সন্দেহ-সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একথা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে নির্বাচন কমিশন টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করতে পারছে না। কমিশনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও জনসমক্ষে প্রকাশ পেয়েছে। যা গণতন্ত্রের জন্য মোটেই শুভ লক্ষণ নয়।
সিইসির বক্তব্য সঙ্গত বা অসঙ্গত যা-ই হোক না কেন এর মাধ্যমে আমাদের দেশের গণতন্ত্রের বাস্তবচিত্র বের হয়ে এসেছে বলেই মনে করছেন আত্মসচেতন মানুষ। নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য কমিশনের হাতে শক্ত আইন আছে। সুষ্ঠু না হলে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতাও কমিশনের আছে। কিন্তু আইন ও সংবিধান নির্বাচন কমিশনের অনুকুলে থাকার পর শুধুমাত্র দাসপ্রবণ মানসিকতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবেই আমাদের দেশের গণতন্ত্র এখন খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে এবং গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তি ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে।
মহল বিশেষের উচ্চাভিলাষ ও নির্বাচন কমিশনের পৌনঃপুনিত ব্যর্থতার কারণেই স্বাধীনতার প্রায় ৫ দশক অতিক্রান্ত হলেও আমাদের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এখনও বিকশিত হয় নি। দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোও মজবুত ভিত্তি পায়নি। তাই বাস্তবতায় আমাদেরকে ভারতীয় সাংসদের তীর্যক মন্তব্যই স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের আশাহত হওয়ার কোন সুযোগ নেই।
নির্বাচন কমিশন সার্কাস আর কমিশনের কর্তারা জোকার হিসেবে চিত্রিত হোন তা আমরা চাই না বরং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ তার সহকর্মী কমিশনাররা তাদের দায়িত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে কমিশনের মর্যাদা উচ্চকিত করবেন সে প্রত্যাশা আমাদের সবার। নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করার জন্য সংবিধান কমিশনকে যথেষ্ট ক্ষমতা দিয়েছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রদত্ত ক্ষমতার যথাযথ ব্যবহারই আমাদেরকে চলমান গণতান্ত্রিক সংকট থেকে মুক্তি দিতে পারে। দেশের মানুষ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছেই দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে।
smmjoy@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ