ঢাকা, সোমবার 3 September 2018, ১৯ ভাদ্র ১৪২৫, ২২ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

মীরসরাইয়ের চরাঞ্চলে ৩৫ হাজার কৃষক পরিবারের বাঁচার আকুতি

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের চরঞ্চলে ৩৫ হাজার কৃষক পরিবার বেঁচে থাকার আকুতি জানিয়েছেন। গত ৩০ আগসবট চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তারা এমন আকুতি জানায়। মীরসরাইয়ের চরাঞ্চলের ৩৫ হাজার কৃষক পরিবারের সমন্বয়ে গঠিত তিন মৌসমের ফসলী কৃষি জমি - মৎস্য খামার -প্রাণী সম্পদ প্রকল্প রক্ষা ফোরাম এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
 সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফেরামের সভাপতি মজিবুল হক বলেন, আমরা চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার উপকূলীয় চরাঞ্চলের কৃষি ও মৎস্য খামার প্রকল্পের জমির মালিকবৃন্দ। এ অঞ্চলের একটি উৎসাহী মহল প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশকে অমান্য করে মালিকানাধীন কৃষি জমি ও মৎস্য খামারের জমি পানির দরে অধিগ্রহণে লিপ্ত থাকায় ৩৫ হাজার কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রন্থ হচ্ছে। এসব জমিগুলো আর .এস.ও পি. এস এবং বি.এস রেকর্ডসহ খতিয়ার নামজারি চুড়ান্ত করা এবং খাজনা দাখিল আপডেট করা, প্রায় ৫০০০ দাগ সম্বলিত খতিয়ানভূক্ত। অত্র জমিতে তিনবার ফসল উৎপাদন করে প্রায় ৩৫ হাজারেরও বেশী কৃষক পরিবারসহ উপজেলার খ্যাদ্য ঘাটতি পূরণ করে এবং এখান থেকে চট্টগ্রাম শহরের ৩০ ভাগ মাছের যোগান দিয়ে থাকি।
তিনি বলেন, মীরসরাই তথা চট্টগ্রামবাসীর জন্য একটি সুখের সংবাদ, এখানের চরাঞ্চলে শিল্প জোন হচ্ছে। কিন্তু একটি উৎসাহী মহল অনাবাদী জমিগুলো ফেলে রেখে হাজার হাজার একর ফসলী জমিগুলো পনির দামে অধিগ্রহণে লিপ্ত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগ থেকে ঘোষনা দিয়েছেন, কোন প্রকার কৃষি জমি ও মৎস্য প্রজেক্ট নষ্ট করা যাবেনা। মহলটি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অমান্য করে ফসলী জমিগুলোকে টার্গেট করে কৃষকদের ক্ষতির সম্মুখীন করে চলেছে।
 সম্মেলনে ফোরামের সাধারন সম্পাদক নরুল আমিন ডিপটি বলেন, মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘোষণার পর থেকে আমরা খুশী। উন্নয়নের অংশীদার আমরা সকলেই। অর্থনৈতিক  জোনের জন্য বাগানের পশ্চিম সন্দ্বীপ চ্যানেলের তীরবর্তী নদী গাঁ ঘেষেই নদী সিকন্তী ও পয়েন্তীয় প্রায় ৫০ হাজার একরেরও বেশী অনাবাদী জমি রয়েছে। সেখান থেকে ১৭ হাজার ৫০০ একরের মত অধিগ্রহন করা হয়েছে। সেখানে আরো ৩০ হাজার একরের বিস্তৃত জমি পড়ে থাকলেও মহলটি আমাদের হাজার হাজার কৃষক পরিবারের অন্নের একমাত্র যোগানের স্থান এসব জমিগুলো অধিগ্রহনে লিপ্ত রয়েছে। তারা হাজার হাজার কৃষকের মুখের অন্ন কেড়ে নিতে এমনকি নিজেরা অর্থনীতিক ফয়দা লুটতে আমাদের ফসলী জমি ও মৎস্য খামারগুলো ধংস করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
 ফেরামের  সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফজলুল করিম বলেন, গত ১৭ আগস্ট বেজার চেয়ারম্যান আমাদের সাথে স্বাক্ষাতের সময় দিয়েও দেখা করেননি। পরের দিন ফসলী জমিতে খনন যন্ত্র লাগিয়ে ধানসহ মাটি কেটে ধংসযজ্ঞ চালায়। আমরা বেজার কর্মচারীদের মাটি না কাটার জন্য বারণ করলে, তারা কাজ বন্ধ করে। কিন্তু ওই দিন রাতের অন্ধকারে আবার ধানসহ মাটি কেটে ধংসযজ্ঞ চালায়। পরের দিন ২৭ আগষ্ট সকালে জমির মালিকরা খবর পেয়ে উক্ত কাজে নিষেধ করলে পুলিশ তাদেরকে ধাওয়া দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। পরে জমিতে কাজ করা ক্ষেত মজুরদের গ্রেফতার করে জোরারগঞ্জ থানা নিয়ে যায়। এখনো আটক আছে তারা।   সম্মেলনে হাজার হাজার কৃষকের অন্ন যোগানের নিজের জমিগুলো যেন ওই মহলের চক্রান্তে ধংস না হয়, কৃষকরা যেন পূর্ব পুরুষের ন্যায় এসব জমিতে ফসল ফলিয়ে পরিবার পরিজনরা যেন সারাবছর খেয়ে থাকতে পারে তার ব্যবস্থা করতে প্রাধানমন্ত্রীর নিকট বিনীত অনুরোধ করেন। একই সাথে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ কৃষি জমি বাঁচাও উক্তিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার আহবান জানানো হয়।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ফেরামের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সেলিম, প্রচার সম্পাদর  ফিরোজ, তথ্য সম্পাদক  নুরুল আলম, অর্থ ও দপ্তর সম্পাদক ওহিদুজ্জামান প্রমূখ। এরপরে মীরসরাইয়ের চরাঞ্চল থেকে আগত শত শত কৃষক চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্তরে মানববন্ধন করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ