ঢাকা, মঙ্গলবার 4 September 2018, ২০ ভাদ্র ১৪২৫, ২৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় আরো ১২ জন নিহত

সংগ্রাম ডেস্ক: নোয়াখালী, সাভার, ঢাকা, গাজীপুর ও লালমনিরহাটে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও কমপক্ষে ১৫ জন। রোববার রাত থেকে সোমবার সকালের মধ্যে এ দুর্ঘটনাগুলো ঘটেছে।
ঢাকা: রাজধানীর মতিঝিলে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান পাঠাও-এর চালক ও মোটরসাইকেলের এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। শীর্ষ নিউজ।
গত রোববার দিবাগত রাত ১০টার পর এই দুর্ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেলটির চালক রিপন সিকদার (৩০) খিলগাঁও হাজীপাড়ার বাসিন্দা। তাঁর পিতার নাম হজরত আলী। মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মোটরসাইকেলে থাকা নিহত যাত্রীর নাম জানে আলম গাজী (৩২)। জানে আলম গোপালগঞ্জ সদরের আবুল বাসার গাজীর ছেলে। জানা গেছে, নিহত জানে আলম গাজী ঢাকার জয়কালি মন্দিরের পাশে ডিসিসি রোডে থাকতেন। তিনি নবাবপুরে হাজী মার্কেটের ব্যবসায়ী।
নিহত জানে আলম গাজীর ভাগনে ইরানুর জানান, তাঁর মামা জানে আলম মিরপুর থেকে পাঠাও-এর মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফিরছিলেন। মতিঝিল এলাকায় আসার পর তাঁদের মোটরসাইকেলটিকে একটি লরি ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই তাঁর মামা ও মোটরসাইকেলটির চালক নিহত হন।
মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, মতিঝিলের ২৪তলা ভবনের পাশে একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে গেছেন চালক। এতে মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। সম্ভবত মোটরসাইকেলটি অ্যাপভিত্তিক কোনো রাইড শেয়ারিং সেবার অন্তর্ভুক্ত।
সাভার সংবাদদাতা: সাভারে পিকআপ ও ট্রাকের সংঘর্ষে তিন জন নিহত হয়েছে এসময় আহত হয়েছে অন্তত ৫ জন। গতকাল সোমবার ভোরে ঢাকা আরিচা মহাসড়কের সাভারের বলিয়ারপুর এস এন সিএনজি পাম্পের সামনে এঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, সোমবার মীর আখতার গ্রুপের ডাবল পিকআপে করে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন ওই তিন জন। এসময় তাদের বহনকারী ডাবল পিকআপটি ঢাকা আরিচা মহাসড়কের সাভারের বলিয়ারপুর এস এন সিএনজি পাম্পের সামনে পৌঁছলে সামনে থাকা দ্রুত গতির একটি ট্রাকের পিছনে ধাক্কা দিয়ে দুমড়ে মুচড়ে যায় ডাবল পিকআপটি। এসময় ঘটনাস্থলেই ডাবল পিকআপে থাকা মীর আখতার গ্রুপের প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম (৫৫), ড্রাইভার খলিলুর রহমান (৬৫) ও নুরন্নবীসহ তিন জন মারা যায়। পরে খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শহীদ সোরওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এদিকে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এবিষয়ে সাভার মডেল থানার এস আই আজগর আলী বলেন, এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নোয়াখালী: নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের সেনবাগ রাস্তারমাথা নামক স্থানে পিকআপ ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশুসহ অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছে। এঘটনায় আহত হয়েছে আরো ৩ জন।
গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাস্তার মাথা এনকে এন্টারপ্রাইজের সামনে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতরা হলেন- সেনবাগ উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের উত্তর রাজারামপুর গ্রামের ঈমান আলী খান বাড়ির ফিরোজা বেগম (৫০), তার ছেলে কুয়েত প্রবাসী মোহন খান (৩৫) ও নাতী মিরন খান (৬), সিএনজি চালক আবু তাহের (২৫)। আহতরা হলেন- শিম (২৬) ও পিকআপের চালক ও আরোহী।   
খবর পেয়ে সেনবাগ থানা পুলিশ ও বেগমগঞ্জ এবং সোনাইমুড়ি দমকল বাহিনীর তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তবে এর আগেই স্থানীয়রা হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করে। এদের মধ্যে মোহন ঘটনাস্থলে এবং ফরোজা বেগম সেনবাগ হাসপাতাল, মিরন এবং সিএনজি চালক নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে মারা যায়।
স্থানীয়রা জানায়, গতকাল সকালে ফেনী থেকে ছেড়ে আসা ফার্নিচার বহনকারী একটি হলুদ রংয়ের পিকআপ ঢাকা মেট্টো নং-১৫-৪৫৮৬ সাথে সেনবাগ উপজেলার ছমির মুন্সিরহাট বাজার থেকে ছেড়ে আসা নাম্বার বিহীন একটি সিএনজি চালিত অটো রিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে সিএনজিটি দুমড়েমুচড়ে যায়।
নিহতদের পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে স্থানীয় ৩নং ওয়ার্ড মেম্বার কামাল উদ্দিন জানান, গতকাল সকালে উপজেলার কাবিলপুর ইউপির ২নং ওয়ার্ড ইয়ারপুর হাবিদার বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়ে ওই স্থানে পৌঁছলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো:সোহেল।
হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শাহজাহান খান ও সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈন উদ্দিন সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
লালমনিরহাট সংবাদদাতা : জেলার আদিতমারী উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশা চালক আব্দুল খালেক (৩৫) ও যাত্রী আলমগীর হোসেন (১৮) মারা গেছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৫ যাত্রী। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের আদিতমারী সারপুকুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল খালেক আদিতমারী উপজেলার পলাশী গ্রামের রহমত আলীর ছেলে ও আলমগীর কালীগঞ্জ উপজেলার দুহুলী গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে।
আহতরা হলেন- আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ি গ্রামের শিবরামের মেয়ে মুক্তা রানী (২৪), মহিষাশ্বর গ্রামের গনেশ চন্দ্রের ছেলে প্রাণেস্বর রায় (৪০) ও তার ভাই রতুল চন্দ্র (৩৫), একই উপজেলার মহিষখোচা গ্রামের আলম মিয়ার স্ত্রী আরফিনা বেগম (৩০) ও কালীগঞ্জ উপজেলার দুহুলী গ্রামের জুয়েল মিয়া (১৮)।
আদিতমারী থানার ওসি মাসুদ রানা জানান, লালমনিরহাট থেকে ছেড়ে যাওয়া বুড়িমারীগামী একটি ট্রাক ওই এলাকায় যাত্রীবাহী একটি আটোরিকশাকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে মুচড়ে যায়। এসময় চালকসহ ৭জন আহত হয়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নিলে আলমগীর হোসেনকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। বাকি ৬জনের মধ্যে ৩জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অটোরিকশা চালক আব্দুল খালেক বিকাল ৪টার দিকে মারা যায়।
গাজীপুর: গাজীপুর সিটি কপোরেশনের জিরানী এলাকায় অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় নিরাঞ্জন সরকার (৩৫) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। নিহত নিরাঞ্জন বগুড়ার গাবতলী থানার হাতিবান্ধা এলাকার মলিন সরকারের ছেলে। গত রোববার দিবাগত রাতে চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সালনা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাসুদেব সিনহা গণমাধ্যমকে জানান, রাতে জিরানী এলাকায় রাস্তা পার হচ্ছিলেন নিরাঞ্জন। এ সময় একটি বাস ট্রানিং নেয়া একটি অ্যাম্বুলেন্সকে ধাক্কা দেয়। তখন অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথচারী নিরাঞ্জনকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ