ঢাকা, মঙ্গলবার 4 September 2018, ২০ ভাদ্র ১৪২৫, ২৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ডুমুরিয়ায় কোটি টাকা নিয়ে ইটভাটা মালিক লাপাত্তা

খুলনা অফিস : খুলনার ডুমুরিয়ায় এফএম ব্রিক্স ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে ইট বিক্রির দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডুমুরিয়া উপজেলা সদর, খর্ণিয়া ও রানাই গ্রামের ৪০ জনের কাছ থেকে নগদ ইট বিক্রি ও ফরোয়ার্ড সেল (কমদামে অগ্রিম বিক্রি) হিসেবে এই টাকা নেয়া হয়েছে। প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা ইটভাটা মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
জানা যায়, খর্ণিয়া-শৈলগাতি সড়কের রানাই গ্রামে এফএম ব্রিকস্’র মালিক মল্লিক হুমায়ুন কবির ইট পোড়ানোর জন্য কয়লা কেনার নামে ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেন। এর মধ্যে নগদ ইট বিক্রি বাবদ ১৪ লাখ ৮৭ হাজার, ফরোয়ার্ড সেল বাবদ ১ কোটি ৩৫ লাখ ও বাকি টাকা মজুরি বাবদ বকেয়া রয়েছে।
মৎস্য ব্যবসায়ী শাহিনুর রহমান জানান, ইট দেয়ার নাম করে তাদের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে তারা ইট না দিয়ে পালিয়ে গেছে। এলাকার অনেকের কাছ থেকে একইভাবে ইট দেয়ার কথা বলে অগ্রিম টাকা নিয়ে ইটভাটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
জানা যায়, একই এলাকার জাহিদুল ইসলামের নিকট থেকে ৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা, গুটুদিয়ার ইমরানের নিকট থেকে ১৪ লাখ টাকা, শেখ আসাদুজ্জামানের ১২ লাখ টাকা, সোহরাব সরদার ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, সাজাহান সরদারের ২৪ হাজার টাকা, হাদিউজ্জামানের ৩০ হাজার টাকা, মো. খায়রুজ্জামানের ৩০ হাজার টাকা ও ফিরোজের নিকট থেকে ৩০ হাজার টাকাসহ ৪০ জনের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
খর্ণিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ দিদারুল হোসেন দিদার বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ইটভাটা মালিকের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেছি। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ছাড়াও জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ইটভাটার মালিকানা ভাগাভাগির পর পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলা হয়। কিন্তু মালিকানা ভাগাভাগির বিষয়টিও ছিলো আরেকটি প্রতারণা। এখন তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’
ইটভাটা মালিক হুমায়ুন কবিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ইটভাটার ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম খোকন জানান, ভাটায় কয়লা কেনার জন্য এসব টাকা নেয়া হয়েছিল। কিন্তু ব্যবসায়িক মন্দায় ইট বা পাওনা টাকা ফেরত দেয়া যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ