ঢাকা, মঙ্গলবার 4 September 2018, ২০ ভাদ্র ১৪২৫, ২৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনা মহানগরীতে ত্রি-চক্রযানের অবাধ বিচরণ

খুলনা অফিস : খুলনা মহানগরীর রয়েল মোড় থেকে ফুল মার্কেট, ডাকবাংলা ফেরিঘাট মোড় থেকে পিকচার প্যালেস, সেখান থেকে থানার মোড়, বাংলাদেশ ব্যাংক, সিটি কর্পোরেশন, স্টেডিয়াম এবং আদালতপাড়া ও জেলখানা ঘাট-সবখানেই এখন যানজট নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ যানজটের মূল উপাদান হিসেবে ইজিবাইক ও ব্যাটারী চালিত রিকশা-ই-এখন মূখ্য ভূমিকা পালন করছে।

শহরে তিন চাকা’র এ যানের সংখ্যা এত পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে যে, মুহূর্তের মধ্যেই শ শ ইজিবাইক এক জায়গায় জড় হচ্ছে। আর অধিকাংশ নগরবাসীর গন্তব্য অফিস-আদালত পাড়া ও বাজার কেন্দ্রিক হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এ মোড়গুলোতে যানজট লেগেই থাকছে। এর বাইরেও নগরীর অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলরত মাহিন্দ্রা, অতুল, নন্দি, পিঁয়াজিও, টিভিএস এবং সিএনজি নামক অন্যান্য ত্রি-চক্র যানের কবলে পড়ে নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে, এখনই অভ্যন্তরীণ রুটের অনিয়ন্ত্রিত এসব যানবাহনের লাগাম টেনে ধরার দাবি উঠেছে নাগরিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে। তবে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে কেসিসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

কেসিসি’র সূত্র জানান, গত ২০১০-১১ অর্থবছরে খুলনা সিটি কর্পোরেশন থেকে ১ হাজার ৯৬৭টি ইজিবাইকের লাইসেন্স প্রদান করা হয়। পরবর্তিতে ২০১২ সাল পর্যন্ত তা নবায়ন করা হয়। আইনী জটিলতার কারণে কেসিসি কর্তৃপক্ষ লাইসেন্সগুলো আর নবায়ন করেনি। কিন্তু ইজিবাইক’র সংখ্যা লাইসেন্স’র মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বেড়ে চলেছে অনিয়ন্ত্রিত গতিতে। বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার ইজিবাইক রয়েছে বলে এর সাথে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এছাড়া নগরীর বেশ কয়েকটি ইজিবাইক’র শো-রুমে প্রতিদিন নতুন নতুন গাড়ি বিক্রি হচ্ছে। ফলে যানজটের মাত্রাও বাড়ছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, বিভিন্ন উপজেলাসহ অন্য জেলার মুমূর্ষু রোগী ও তার স্বজনরা এ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে যাওয়ার পথে নগরীর সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালস্থ চৌরাস্তা মোড়ে ইজিবাইকের সৃষ্ট যানজটে আটকে পড়েন। এ কারণে গুরুতর অসুস্থ অনেক রোগীর অবস্থা আরও শঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়ে। এছাড়া নগরীর শান্তিধাম মোড়, পিটিআই মোড়, গল্লামারীসহ বেশ কিছু মোড়ে দিনের বেশিরভাগ সময় ইজিবাইকের যানজট লেগেই থাকে।

এর বাইরে তিন চাকার সাধারণ রিকশায় ব্যাটারী লাগিয়ে সেগুলোকে যন্ত্রচালিত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর বেপরোয়া গতিতে প্রায়শই নগরীতে দুর্ঘটনা ঘটছে। সামান্য আঘাতেই বড় ধরনের জখমের শিকার হতে হচ্ছে পথচারি ও যাত্রীদের। বিশেষ করে এসব রিকশায় লাগানো এক ধরনের হর্ণের (মিউজিক) বিকট আওয়াজে শব্দ দূষণ এবং অনেকের কানেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। নগর ট্রাফিক বিভাগ ব্যাটারী চালিত রিকশার ব্যাটারি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে ব্যাপক তৎপর থাকলেও তা তেমন কোনো কাজে আসছে না। নগরীর বিভিন্ন মোড়ে ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা হাতে ‘প্লাস’ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও তাদের পরোয়া করছেনা চালকরা।

মহানগর ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নগরীতে পরিকল্পিতভাবে ইজিবাইক চলাচলের একটি নীতিমালা তৈরি করা হলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। পাশাপাশি নগরীতে যে সমস্ত ইজিবাইক শো-রুম আছে, আপাতত তাদের বিক্রি বন্ধ করতে হবে। তা না হলে যানজট নিরসনের পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে।

অপরদিকে, নগরীতে চলাচলরত ত্রি-চক্র যান থ্রি হুইলার ফোর স্ট্রোক গাড়ির মধ্যে রয়েছে মাহিন্দ্রা, অতুল, নন্দি, পিঁয়াজিও, টিভিএস ও সিএনজি। মাত্রাধিক দ্রুতগতিতে চালানোর কারণে রাস্তায় অন্যান্য যানবাহনের চালক ও পথচারিরা আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে পড়ে। ট্রাফিক আইন ও সিগন্যালের কোনো প্রকার তোয়াক্কা করেনা এসব থ্রি হুইলার ফোর স্ট্রোক গাড়ির চালকরা। এ কারণে নগরীর বিভিন্ন মোড় ও রাস্তায় ছোটখাটো দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ফুলতলা থেকে নগরীর রূপসা ঘাট পর্যন্ত এ গাড়ি চলাচল করছে। বর্তমানে নগরীতে ১১ শতাধিক ফোর স্ট্রোক থ্রি হুইলার গাড়ির লাইসেন্স দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিআরটিএ খুলনার সহকারী পরিচালক মো. আবুল বাশার। পর্যায়ক্রমে ২৫শ’ পর্যন্ত চলাচলের অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে এসব গাড়ির বেপরোয়া গতির বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

এদিকে, নগরীতে এসব ত্রি-চক্রযানের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে উদ্বেগ প্রকাশ করে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশারফ-উজ-জামান বলেন, এসব যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনের উচিত এখনই এসব নিয়ন্ত্রণ করা। 

মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট মোমিমুল ইসলাম বলেন, এসব যানবাহনের অধিকাংশ চালক অদক্ষ। ফলে দুর্ঘটনার পাশাপাশি যত্রতত্র পার্কিং করায় নগরীতে যানজটও বাড়ছে। 

এ ব্যাপারে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, খুলনা মহানগরীতে ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে কেসিসি, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বয়ে একটি কমিটি রয়েছে। এ কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ