ঢাকা, মঙ্গলবার 4 September 2018, ২০ ভাদ্র ১৪২৫, ২৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

একটি মৃত্যু- কিছু কথা

শামসুন্নাহার : একজন facebook লিখেছে-নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর accident মনে হয় বেড়ে গেল। আর তাই ড্রাইভার গোষ্ঠী যেন জেদ মিটিয়ে ঝাল ঝেড়ে চলেছে মানুষের ওপর। দুর্ঘটনা নামক ঘটনাগুলো প্রত্যেকটাই স্পষ্টত খুন। জেনে বুঝে প্লান করা খুন। খুনিকে আটকানোর কেউ নেই। ভদ্রলোকের মত খুন হয়ে যেতে হবে আপনাকে। ক্যান সাপোর্ট দিসিলেন সড়ক আন্দোলনে? নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের চিঠিগুলো একেকটা খুনের ঘটনা দেখে টানা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। ওদের চোখে মুখে প্রচ- যন্ত্রণার ছাপ। ওরা ভাবে ওরা পারলো না। আরেকটু হলে হয়ত পারত। যে কয়টারে হাতের কাছে পাই তাদের বোঝাই। যা পারার ছিল পেরে ফেলেছিস। জমিয়ে রাখ কাজে আমার এতটা কেউ পারে নাই। এর বেশি কেউ পারবেনা। এদেশে তোদের মত করে কেউ পারেনা। কারো এতটা পারার সাহস নেই। তোদের এই পারাটা একদিন আমাদের সবাইকে মুক্তি দেবে দেখিস।
তবু যে প্রাণগুলো ঝরে সেগুলো তো ওরা ভুলতে পারে না। আমরা পারি না। এই বিষয়ে একটা প্রশ্ন তোলায় উত্তরে একজন স্যার বলেছিলেন, “ঘুমিয়ে থাক।” এমনিতেই মানুষের সংখ্যা কম। পেয়ে গিয়েছিলাম। জানোয়ারের দেশে মানুষ যে স্বার্থ নিচ্ছে এই তো বেশি। জোর যার সে তো খান বডি মিশে যেতেই পারে। মুল্লুক তো তারই? তাই না?
তবু আশা জাগে। সোনার টুকরা পিচ্চিগুলো তো এখানকারই। ওরা জেগেই আছে একবুক কষ্ট নিয়ে।
কথাগুলো আমার হৃদয় ছুয়ে গেল। একেকরে মনের কথা ওঠে এসেছে কথাগুলোর মধ্যে। কয়েকদিন থেকেই মনটা অস্থির। বেদনায় ভরাক্রান্ত ভাবছিলাম লিখব কিছু একটা। আমার এক নাতনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেল। সবসময় ওর সুন্দর হাসিমাখা মুখের নানু ডাক কানে ভেসে আসছে। টগবগে এক ফুটন্ত গোলাপ। অনার্স পরিক্ষার রেজাল্টের অপেক্ষায় হয়তবা তার সামনে ছিল রঙিন ভবিষ্যতের সুন্দর সপ্ন। মা বিয়ের জন্য রাজপুত্র খুজছিল।
সবরের চূড়ান্ত পরিক্ষা দেখিয়ে মামারা বলছে আমরা জান্নাতে সামিয়ার জন্যে বাসর সাজাবো। মা বলছে, খালাম্মা, হয়ত চাকুরীর বা পড়াশুনার জন্য বাইরে যেত।বিয়ে দিলে শশুর বাড়ি যেত। আমি তাকে নিজ হাতে গোসল দিয়ে সাজিয়ে আল্লাহর কাছে পাঠালাম। আল্লাহ আমার চাইতে যত্নে রাখবে। একটি জীবন। পানির মত যেকোন সময় ঝরে পড়বে।
ইসলামী পরিবারের এ একটা আশ্চর্য বৈশিষ্ট্য। হা হুতাশ নেই। আফসোস নেই। নেই কোন ফরিয়াদ। শুধু বুক ফাটা আর্তনাদ। আল্লাহ তুমি আমাদের প্রাণের ধনকে জান্নাতুল ফেরদৌসের বাসিন্দা কর। জান্নাতের পাখি বানিয়ে রাখ।
যার বুকের ধন যায় সেই নতুন করে বুঝে বেদনা কতবড়। বাংলাদেশের সড়ক দুর্ঘটনা যে এখন খুন এটা স্পষ্ট। ফুটপাতে চলতেও ভয় লাগে কখন চলন্ত গাড়ি গায়ের উপর ওঠে যায়। এরই প্রতিবাদে আমাদের শিশুরা রাস্তায় নেমেছিল। গড়ে তুলেছিল দুর্বার আন্দোলন। প্রকৃত অর্থেই অহিংস এক আন্দোলন। নিজেরা পরিশ্রম করে বড়দেরকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দোষত্রুটিগুলো দেখিয়ে দিল। কিভাবে নিয়ম মেনে চলতে হয় শিখিয়ে দিল। কিন্তু লাভ কি হল? তারা অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হল।
হিংস্র থাবায় থামিয়ে থামিয়ে দেওয়া হল কচি বাচ্চাদের এ কার্যক্রম। এরপর কি হল? accident এর সংখ্যা আরও বেড়ে গেল। এ যেন ঠিক তেমনি যেমন কোন অসুখে এক কোর্স এন্টিবায়োটিক শুরু করার পর কোর্স শেষ না করে মাঝ পথে অসুখ বৃদ্ধি করে দিলে জিবানুগুলো দিগুন শক্তি দিয়ে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। তেমনিভাবে এ হায়েনাগুলো দ্বিগুণ উৎসাহে accident নামের এ ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কে থামাবে এদের? সরকার? রাষ্ট্র? ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যে এরা তাদের হাতিয়ার। মানুষ মরলে তাদের কি আসে যায়।
আজ বৃহস্পতিবার। বাসের ধাক্কায় কুষ্টিয়ার চৌহর মোড়ে মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ল শিশু আসিক। হাসপাতালে শিশুটির মৃত্যু হয়। থেমে থাকা বাসের সামনে দিয়ে পার হওয়ার সময় পথচারীকে দেখেই চালিয়ে দিয়েছে ড্রাইভার। হয়ত ড্রাইভার মালিক সবার নামেই মামলা হবে। কিন্তু বাবা মায়ের আহাজারি কি থামবে? এমনি প্রতিদিন শত শত নাম যোগ হচ্ছে মৃত্যু মিছিলে।বাংলাদেশ এখন এক মৃত্যুপুরী। রাস্তাঘাট ও ভরা। রাস্তায় চলতে গেলে হাড় মাংস আলাদা হয়ে যায়। এসব নিয়েই উন্নয়নের মডেল শেখ হাসিনার বাংলাদেশ। শিশুরা সড়ক আন্দোলনে যে বিষয়গুলো চিহ্নিত করেছে তার মধ্যে হচ্ছে-
- ফিটনেস বিহীন যানবাহন
- লাইসেন্স না থাকা
- নেশাগ্রস্ত অবস্থায়
গাড়ি চালানো অথবা
গাড়িতে মাদক বহন।
- হেল্পারকে দিয়ে গাড়ি
চালানো ইত্যাদি
ইত্যাদি।
বিশ্বের যেকোন দেশে ট্রাফিক আইন, রাস্তায় বিশ্বের যেকোন দেশে ট্রাফিক আইন, রাস্তায় চলার- গাড়ি চালানোর নিয়ম কানুন থাকে।
পাশ্চাত্য দেশে যেখানে যত্রতত্র মদ খাওয়া হয়, মদ পাওয়া যায়, সেখানেও মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো নিষেধ। আর আমরা উন্নত দেশের খারাপ আবর্জনা অনেক কিছু অঞ্চলেও ভাল কিছু নিতে পারিনা। শিক্ষার্থীরা যানবাহনে মাদকও।
সরকার আনাড়ি; নৈতিকতা বিবর্জিত, যেসব মানুষকে ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয় সেটাতো আর অপেক্ষা রাখেনা। একটা বচন চালু আছে যে- ছাগল-গরু চিনলেই সে লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য।
দেশের যেমন তারা তেমন পায়। আর সরকার যেমন দেশ তেমনই চলে। যাই হোক আমরা যারা প্রতিনিয়ত মরছি, আমাদের মরার প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা মুসলমান। সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানের দেশ এ বাংলাদেশ। আমরা বিশ্বাস করি জন্ম মৃত্যুর নির্দিষ্ট সময় ছাড়া কেউ মৃত্যুবরণ করবেনা। আল্লাহর পক্ষ থেকে আমরা ভাগ্যের ভাল মন্দের উপর বিশ্বাস করা ঈমানের দাবী।
শান্ত¡না হিসেবে এটা আমাদের রয়েছে। সেই সাথে আখেরাতের পাথেয় আমাদের সবসময় সাথে রাখতে হবে। যেন বাংলাদেশী হিসেবে এ জীবনের কষ্ট আখেরাতে পেতে না হয়। জান্নাত নামক আরামদায়ক জায়গায় থাকতে পারি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ