ঢাকা, মঙ্গলবার 4 September 2018, ২০ ভাদ্র ১৪২৫, ২৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

“ধৈর্য বিনিময় সফলতা”

মোর্সেদা সম্পা : মানুষের মহৎ একটি গুণ সবর বা ধৈর্য। জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি মানবজীবনে বিপদ - আপদ কমবেশি এসেই থাকে। এসব বিপদেরর মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে পরীক্ষা করেন এর মাধ্যমে মুমিন বান্দাদের গুনাহ মাফ করেন, মর্যাদাও বৃদ্ধি করেন।
তাই প্রত্যক মুমিনের কর্তব্য হলো বিপদ আপদে বিচলিত না হওয়া।
সুতরাং অনেক বেশি ধৈর্য ধারণ করা এবং তা থেকে নিস্কৃতি পাওয়ার চেষ্টা করা।
 কারণ বিপদ আপদ এটা মুমিনের নিয়তি।
আল কুরাআনে বর্ণিত : “হে ঈমানদারগণ! সবর ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য গ্রহণ করো আল্লাহ সবর কারীদের সঙ্গে আছেন।” (সূরা বাকারা- ১৫৩)
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ধৈর্য বা সবরকে এমন এক যন্ত্র বানিয়েছেন যা কখনো পথভ্রষ্ট হয় না, এমনকি এমন বিজয়ী সৈনিক বানিয়েছেন যে কখনো পরাজিত হয় না। ধৈর্য এমন সুরক্ষিত দুর্গ যা কখনো ধ্বংস হয় না।
রাসূল (সা.) বলেন: “কোনো বান্দাকে ধৈর্য্যরে মতো উত্তম সম্পদ অন্য কিছুই দেয়া হয়েনি।”
 সুতরাং মুমিনের পথচলা কখনো ফুলের গালিচার মতো মসৃন হবে না, এটাই স্বাভাবিক।
কেন না রাসুল( সা.) বলেছেন, “দুনিয়া হলো মুমিনদের জন্য কয়েদখানা”।
এজন্য দুনিয়ায় মুমিনদের ওপর চারপাশ থেকে বিপদ- আপদ যে কোনো মুহূর্তে ঝাঁপিয়ে পড়তে থাকবে।
আর এই কঠিন পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে সার্বক্ষণিক পথ চলতে হবে।
আল্লাহ তায়ালা ধৈর্য্যরে অনেক গুণ বর্ণনা করেছেন।
 ধৈর্য হলো মুমিনের একটি বৈশিষ্ট্য। যা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এ গুনটির উপস্থিত অপরিহার্য, সুতারাং মানুষের উন্নতি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের অনেক বড় একটি মাধ্যম সবর।
এজন্য যতো বেশি সবর অবলম্বন করা যায় ততো বেশি গুনাহ মাফ হয় এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গেই আছেন, নিশ্চই সহনশীলদের তাদের পুরুস্কার হিসাব ছাড়া দেয়া হবে।
“হে ঈমানদারগণ ধৈর্য ধারণ কর এবং মোকাবেলায় দৃঢ়তা অবলম্বন করো, আর আল্লাহকে ভয় করতে থাকো যাতে তোমরা তোমাদের উদ্দেশ্য লাভে সমর্থ হতে পারো। (সূরা ইমরান: ২০০)
সর্বোপরি দুনিয়ায় নবীরা হলেন সবচেয়ে ওপরের স্তরের তাদের ওপর সবচেয়ে বেশি পরীক্ষা এসেছিলো।
এমনকি প্রিয় নবীর (সা.) জীবনে অনেক কঠিন পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরিস্থিতির সম্মুখিণ হয়েও ঈমানের পরীক্ষা দিয়েছিলেন এবং দ্বীনের পথে অটল ছিলেন।
তেমনি দুনিয়ায় যারা আল্লাহ তায়ালার প্রিয় বান্দা হয়েছেন তারা ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
এজন্য প্রত্যেক মুমিনের উচিত বিপদে ভেঙ্গে না পরে সবরের মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য প্রত্যাশী হওয়া।
আল্লাহ আমাদের সবর অবলম্বনের মাধ্যমে দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন।
“রব্বানা আফরিগ আলাইনা সবরাও ওয়া তাওয়াফ্ফানা মুসলিমিন”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ