ঢাকা, মঙ্গলবার 4 September 2018, ২০ ভাদ্র ১৪২৫, ২৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

“পরিবার থেকে প্রজন্ম”

রুফা : একটি বৃক্ষের প্রতিকুল পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষমতা অনেকটা নির্ভর করে তার শিকড় কতটা মজবুত তার উপর। যার শিকড় যমিনের যত গভিরে প্রোথিত থাকে সেই বৃক্ষ ততটাই মযবুত ভাবে সমুন্নত শাখাপ্রশাখা মেলে দাঁড়িয়ে থাকতে সক্ষম হয়। মাটির সাথে বন্ধন যত সুদৃঢ় হয় মজবুতিটা ও তত দঢ় হয়। প্রজন্মের পর প্রজন্মের সৃষ্টির মাধ্যমেই ইতিহাস রচিত হয়। তেমনি সেই ইতিহাস ই আবার এক একটি প্রজন্মের সাক্ষ্য হয়ে আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় আমাদের অতীত। বর্তমান সময়ে বুদ্ধিজীবী শ্রেণি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ প্রত্যেকেই 
চিন্তিত মুল্যবোধহীন ক্ষয়িষ্ণু আগামী প্রজন্ম নিয়ে। আর এর সমাধান কল্পেও কাজ করে যাচ্ছে কিছু সংস্থা। কিন্তু লক্ষ্যনীয় তেমন কিছু চোখে পড়ছেনা। আর এর আসল কারন হচ্ছে আমরা এই প্রজন্মের মূলে পৌছাতে পারছিনা। শুধুই উপর থেকে সার প্রয়োগ করছি। তাহলে কোথায় এর মূল? পরিবার থেকেই প্রজন্মের সৃষ্টি। আর এ পরিবার ই প্রজন্মের মূল বা শিকড়। আজ এই শিকড়ের বিস্তৃতিটা খুবই ছোট হয়ে এসেছে আর বন্ধনটা ও খুবই নড়বড়ে। সত্যিই!!! এক সময় আমরা একান্নবর্তী পরিবারে বসবাস করতাম অতঃপর যৌথ, তারপর একক পরিবার, এখন একা পরিবার আর বেলা শেষে একা। পরিণাম হতাশা, বিস্বাদ, অপরাধ। একটু দৃষ্টি মেলে ধরলেই দেখতে পাব একান্নবর্তী পরিবার যেন রূপকথা। বর্তমানে যৌথ পরিবার নেই বললেই চলে। আর একক পরিবার গুলোতে নানা কলহ, সন্দেহ ও স্বার্থপরতা বৃত্তি। যা আমাদের আগামী প্রজন্মের উপর ব্যপক প্রভাব ফেলছে। আর একা পরিবার, সেখানে বাবা বা মা কোন এক জনের সাথে বেড়ে ওঠে সন্তানেরা। বর্তমানে ডিভোর্সের হার আশঙ্কা জনক হারে বেড়ে গেছে। তাছড়াও সামান্য ব্যাপার নিয়ে দুজনে পৃথক থাকা বা কর্মক্ষেত্র বেশি দুরত্বে হওয়ার কারণে বা বিদেশে কর্মরত থাকার কারণেও সৃষ্টি হচ্ছে অসংখ্য একা পরিবার। আর দিন শেষে একা!! হ্যাঁ তাই। সময়ের সাথে বেড়েছে প্রয়োজন। ফলাফল পিতামাতা দুজনকেই চাকরি করতে হয়। এজন্য আমাদের সন্তানেরা বড় হয় পাশের বাড়ির খালা, কাজের বুয়া, ডে কেয়ার সেন্টার বা কোন হোস্টেলে। ফলাফল মানুষিক বিকাশে চরম বাধাগ্রস্ত, হতাশা, হিংসাত্মক আচরণ, নৈতিকতা বর্জিত, ফোন আসক্তি, মাদক, অসৎ সঙ্গ, অপরাধ প্রবণতা, হিংস্র মনোভাব ইত্যদি। আমরা সন্তানকে আরাম আয়েশ, সুখ, টাকা পয়সা সব দিতে পারলেও বর্তমানে তাদেরকে দিতে পারছিনা পর্যাপ্ত সময় আর সোহাগপূর্ণ শাসন। পারছি না স্নেহ প্রীতির বন্ধন, পারছিনা পারিবারিক নৈতিক শিক্ষা দিতে, পারস্পারিক ছাড় দেয়া বা ত্যগের মানসিকতা তৈরি করতে বা ভাগকরে নেওয়ার অকৃত্রিম আনন্দ উপভোগের শিক্ষা দিতে। বেলা শেষে শত শত ঐশি রূপে যা আমাদের মাঝে ফিরে আসছে। আত্মার খোরাক বঞ্চিত লোফাফা দেহ সর্বস্ব এই প্রজন্মই যদি কখনো প্রশ্ন করে বসে তার মূল সম্পর্কে তখন দেবার মত যথার্থ জবাব কি খুঁজে পাবো আপনারা বা আমরা??

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ