ঢাকা, মঙ্গলবার 4 September 2018, ২০ ভাদ্র ১৪২৫, ২৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাতক্ষীরায় রাজনীতিতে উত্তাপ নেই তবু বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা: এখানে কোনো রাজনৈতিক উত্তাপ নেই, তবু নতুন নতুন মামলা দায়েরসহ চলছে গ্রেফতার। গত এক সপ্তাহে জেলায় অর্ধশতাধিক নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে। কলারোয়া, পাটকেলঘাটা, সাতক্ষীরা সদর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় দুইশতাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। সরকার পতনের ষড়যন্ত্র, নাশকতা কর্মকা-, বোমার সরঞ্জাম, জিহাদী বইসহ সরকার পতনের বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ। বিএনপি ও জামায়াতের প্রভাবশালী  কোনো নেতাকে প্রকাশ্যে দেখাতো দূরের কথা মোবাইলেও পাওয়া যাচ্ছে না। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারিকুল হাসান জানান, প্রকাশ্যেতো দূরের কথা লুকিয়ে থাকাও দায় হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় গোটা জেলাতে যেন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আটক ও মামলা দেয়া হচ্ছে রাজনৈতিক দলের মামলা পরিচালনাকারী আইনবীদেরও। জামায়াতের মামলা পরিচালনার অভিযোগে এড. হাফিজুর রহমানকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের কামালনগরের বাসা থেকে ইটাগাছা পুলিশফাঁড়ির কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার তাকে আটক করে। পরে রাত ১১টার দিকে সাতক্ষীরা সদর থানা হাজতে তাকে রাখা হয়। শুক্রবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত  তাকে আদালতে পাঠানো হয়নি বলে জানা যায়। সাতক্ষীরা জজ কোটে আইন পেশায় নিয়োজিত বিএনপি এবং জামায়াতের বেশিরভাগ আইনজীবীর নামে রাজনৈতিক মামলা রয়েছে। এমন অবস্থায় নতুন করে গোটা জেলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ বলছে আতঙ্ক নয় অপরাধীদের ধরতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। অপরাধী যেই হোক কাউকে ছাড় নয়। নতুন করে বিএনপি জামায়াতের ২০ নেতাকর্মীসহ ৯৬ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সাতক্ষীরা জেলার আটটি থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের বিরুদ্ধে ৪টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে, সাতক্ষীরা সদর থানা থেকে ২২ জন, কলারোয়া থানা থেকে ৮ জন, তালা থানা থেকে ৮ জন, কালিগঞ্জ থানা থেকে ১১ জন, শ্যামনগর থানা থেকে ১৮ জন, আশাশুনি থানা থেকে ২০ জন, দেবহাটা থানা থেকে ৪ জন ও পাটকেলঘাটা থানা থেকে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। আশাশুনিতে সরকার পতনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বিএনপি-জামায়াতের ৯ নেতাকর্মী আটক করেছে পুলিশ।
উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের মধ্যম বেউলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার এর নীচতলায় সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পুলিশ তাদেরকে আটক করে। পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) বিপ্লব কুমার দেবনাথ জানান, পুলিশ সুপার মোঃ সাজ্জাদুর রহমানের নির্দেশনা মতো বুধবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে তার (ওসি) নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় শে^তপুর গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিন ঢালীর পুত্র কবির আহমেদ, বুধহাটা গ্রামের আঃ কাদেরের পুত্র আব্দুল্লাহ আল-মামুন, কাপসন্ডা গ্রামের মৃত মোকছেদ সানার পুত্র মিজানুর রহমান সানা, বুধহাটা   গ্রামের মৃত আঃ সাত্তারের পুত্র আবুল কালাম, কুল্যা গ্রামের রুহুল আমিন সরদারের পুত্র আমিরুল, শ্রীউলা গ্রামের মৃত ইমদাদ আলী সরদারের পুত্র আঃ রহমান, দক্ষিণ বাইনতলা গ্রামের ইসহাক মোল্যার পুত্র আঃ সালাম, নওয়াপাড়া গ্রামের জালাল উদ্দিন সরদারের পুত্র আলা উদ্দিন, আশাশুনি গ্রামের রুস্তম আলীর পুত্র জহুরুলকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। এসময় ধৃতরাসহ পলাতক আসামীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। আটক ও পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে নাশকতা মামলা ১৯(৮)১৮ নং মামলা রুজু করা হয়েছে। এদিকে পাটকেলঘাটার খলিষখালিতে পর পর তিনটি রাজনৈতিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসসব মামলায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের বেশির ভাগ নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে। জামায়াত সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এডভোকেট হাফিজুর রহমানকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের কামালনগরের বাসা থেকে ইটাগাছা পুলিশফাঁড়ির কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার তাকে আটক করে। পরে রাত ১১টার দিকে সাতক্ষীরা সদর থানা হাজতে তাকে রাখা হয়। এড. হাফিজুর রহমান সাতক্ষীরা কোটে ওকালতি করতেন । তার মুহরী সুলাইমান জানান, এড.হাফিজুর রহমানকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে গেছে। কোন মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরওয়ানা জারি ছিল না। তিনি দেবহাটা উপজেলার শীবনগর গ্রামের রাজব আলীর ছেলে। শক্রবার সকাল ৯টার দিকে সাতক্ষীরা সদর থানায় ডিউটিরত পুলিশ সদস্য জয়দেব আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মুস্তাফিজুর রহমান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে থানাতে মামলা রয়েছে। এড. হাফিজুর রহমান জামায়াতের মামলা পরিচালনা করতেন।
সাতক্ষীরায় রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা
৪৮ ঘণ্টায় আটক ১৫৪ জন 
সাতক্ষীরা: নাশকতার পরিকল্পনা ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি রহমতুল্লাহ পলাশ, সাধারণ সম্পাদক তারিকুল হাসান, জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি নূরুল হুদা, সহকারী  সেক্রেটারি এড. আজিজুল ইসলামসহ ৭৭ জন জামায়াত-বিএনপি’র নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা হয়েছে। সদর থানার এসআই কবির হোসেন বাদি হয়ে নাশকতার পরিকল্পনা ও বিস্ফোরক আইনে শুক্রবার রাতে এ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারিকুল হাসানের বাড়ির সামনে ৭০/৮০ জন বিএনপি-জামায়াতের সশস্ত্র নেতা-কর্মী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বানচাল করার লক্ষ্যে জড়ো হয়। তারা সমবেত হয়ে সরকারবিরোধি ষড়যন্ত্র করাকালিন পুলিশ সেখানে হাজির হলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশও পাল্টা লাটিচার্জ করলে নেতা-কর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় সেখান থেকে সদর থানার ভোমরা ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সভাপতি মাও. ওবায়দুল্লাহ, শহরের কামালনগর মধ্যপাড়ার রজব আলীর ছেলে এড. হাফিজুর রহমান ও আলিপুর বাজার এলাকার মাহাবুবর রহমানের ছেলে মোহাম্মদ আলীকে আটক করে পুলিশ। অন্যরা পালিয়ে যায়। এমামলায় আরও আসামী করা হয়েছে, শহরের পলাশপোল নিউমার্কেটের পেছনের বাসিন্দা জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কামরুল ইসলাম ফারুক, আলিপুরের আব্দুস সাত্তারের ছেলে পৌর বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান হবি, ঝাউডাঙ্গার রফিক চেয়ারম্যান, পলাশপোল নিউ মার্কেটের পেছনের বাসিন্দা জিয়াদ আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম বাবু, পুরাতন সাতক্ষীরার এড. তোজাম্মেল হোসেন তোজাম, মুন্সিপাড়ার আবু জাহিদ ডাবলু, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী একই এলাকার জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মুকুলসহ এজাহার নামীয় ৩২ জন আসামী। এমামলার পলাতক ৪০/৪৫ জন আসামী। সদর থানার ওসি মোস্তাাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সরকার বিরোধীদের ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না। জেলা বিএনপি’র সভাপতি রহমতুল্লাহ পলাশ জানান, আমি ঈদের আগে থেকেই ঢাকাতে অবস্থান করছি। অথচ সাতক্ষীরাতে আমার নামে মামলা হচ্ছে। যেটা হাস্যকর ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের কোনঠাসা করার পায়তারা। বিএনপি’র প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সারা দেশে চলমান আন্দোলন স্তিমিত করতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গণহারে মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে। তিনি সদর থানায় দায়েরকৃত মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এ ছাড়া গত ৪৮ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ১৫৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে শুক্রবার সন্ধা থেকে শনিবার সকাল  পর্যন্ত ৫৮ জন ও বৃহস্পতিবার সন্ধা থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ৯৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ