ঢাকা, মঙ্গলবার 4 September 2018, ২০ ভাদ্র ১৪২৫, ২৩ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শাহজাদপুরে ডুবে গেছে বিস্তীর্ণ গো-চারণ ভূমি গো-খাদ্যের তীব্র সংকট

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : বন্যার পানিতে ডুবে গেছে গো-চারণভূমির একটি খামার

এম,এ,জাফর লিটন,শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ): বন্যা কবলিত শাহজাদপুর উপজেলার গো-চারণভূমি বিস্তীর্ণ গ্রামগুলোতে ও গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। খাদ্য সংকট ও দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দী থাকায় গবাদি পশুর রোগবালাইয়ের প্রকোপও বেড়েছে। চলতি বছর বন্যার পানি শাহজাদপুর উপজেলায় বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত না হলেও পানি অপরিবর্তিত থাকায় ফসলি মাঠ ডুবে আছে।  বন্যায় সম্পদ ও জীবিকা হারানো দুস্থ মানুষ গরু-বাছুর বাঁচাতে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। এছাড়াও সম্প্রতি কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার শুকিয়ে যাওয়া  নিম্নাঞ্চলের ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি ডুবে গেছে গো-চারণভূমিও। কাঁচাঘাস চাষের জমি তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলার অনেক এলাকায় দেখা দিয়েছে গো-খাদ্য সংকট। সংশ্লিষ্টরা জানান, গো-চারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় খাদ্য সংকটে পড়েছেন অনেক খামারিরা। আগে থেকে সংরক্ষণ করা খড়ও নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে বেড়ে গেছে গো-খাদ্যের দাম। দুগ্ধ গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শাহজাদপুর উপজেলার অধিকাংশ খামারী। খামারীরা বলেন, কাঁচাঘাস খেতে না পাওয়ায় গরুর দুধ উৎপাদন কমে গেছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদের প্রধান কর্মকর্তা  ডাঃ আব্দুস সামাদ বলেন, খাদ্য ঘাস সংকটের কারণে বিপদে পড়েছেন শাহজাদপুর উপজেলার কয়েক হাজার খামারি। জানা যায়,, ১৫ দিন আগে ৫০ কেজির এক বস্তা গমের ভুসি ১ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকায়। আগে ২৫ টাকা কেজিদরে বিক্রি হওয়া খৈল এখন বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকা কেজিদরে। ৫০০ টাকার খড় এখন ক্রয় করতে হচ্ছেছ ৮০০ টাকায়। বেশি দাম দিয়েও প্রয়োজনমতো খড় পাওয়া যাচ্ছেনা। শাহজাদপুরের যেসব এলকায় বন্যার পানিতে খাল ও ক্যানেল ভরপুর আছে সেসব এলাকায় তাড়াশ ও চলনবিল অঞ্চল থেকে ট্রলার নৌকায় করে ভ্রাম্যমান খড় বিক্রেতাগণ  খড় বিক্রি করছে। বন্যার কারণে গো-খাদ্যের প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ সংকটও সৃষ্টি হয়েছে।  এ কারণে বেশি দামেও প্রয়োজনমতো গো-খাদ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় দেড় মাস ধরে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় ফসলি জমির পাশাপাশি গো-চারণভূমিও তলিয়ে গেছে। ফলে খামারীরা গবাদী পশু নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ