ঢাকা, বুধবার 5 September 2018, ২১ ভাদ্র ১৪২৫, ২৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

একাদশে সুযোগ পেলে সেরাটা দিতে চাই---- রনি

স্পোর্টস রিপোর্টার : এশিয়া কাপে বাংলাদেশের একাদশে সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা উজার করে দিতে চান বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার রনি। অনুশীলনে নিজেকে সেভাবেই প্রস্তুত করছেন তিনি। গত মাসে ফ্লোরিডায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের শেষ দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে খেলেছেন রনি। দুই ম্যাচ মিলিয়ে মাত্র একটি উইকেট পেলেও বোলিংটা খারাপ করেননি। প্রথম ম্যাচে বোলিং উদ্বোধন করে ৪ ওভারে দিয়েছিলেন ২৬ রান। পরের ম্যাচে ৩ ওভারে ২৭ রানে নেন একটি উইকেট। তাই আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই তার।  গতকাল মিরপুরে অনুশীলনের পর এশিয়া কাপে নিজের লক্ষ্য নিয়ে রনি বলেন,‘আমার ব্যক্তিগত লক্ষ্য বলতে যদি বলি, ম্যাচ খেলব কি না, এখনো নিশ্চিত না। এটা টিম ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার। এখন অনুশীলন চলছে, অনুশীলনে নিজেকে ভালোভাবে প্রস্তুত করা এখন আমার লক্ষ্য। আর যদি সুযোগ পাই তাহলে কীভাবে নিজের সেরাটা দিতে পারি। আমার আত্মবিশ্বাস খুব ভালো আছে। এখন পর্যন্ত খুব ভালো বোলিং হচ্ছে। শেষ দুটি সিরিজও খুব ভালো বোলিং হয়েছে। আমি চেষ্টা করব ওই ধারাটাই যেন ধরে রাখতে পারি। অনুশীলনেও খুব পরিশ্রম করছি। যদি সুযোগ পাই সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। আর দলীয় লক্ষ্য যদি বলি তাহলে যেহেতু গ্রুপ আছে, প্রাথমিকভাবে গ্রুপের ম্যাচ দুটোয় ভাল করে সেকেন্ড রাউন্ডে উঠতে চাই।’ বাংলাদেশের এশিয়া কাপের দলে পেসার আছেন চারজন- মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল  হোসেন ও আবু হায়দার রনি। এর মধ্যে রনির অভিজ্ঞতাটাই একটু কম। তিনি তাই অন্যদের থেকে শিখছেন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলে যারা আছে সবাই প্রতিষ্ঠিত বোলার। এর মধ্যে আমার অভিজ্ঞতা একটু কম। আমি চেষ্টা করছি এখান থেকে যতটুকু পারা যায়, নিজেকে অভিজ্ঞ করা যায়। সিনিয়রদের দেখে যতটুকু শেখা যায়। চারজন পেস বোলার আছি আমরা। তিনজন বা দুজন ভালো করছে। এটা আমার মধ্যেও তাগিদ আসে যে আমাকেও ভালো করতে হবে। জাতীয় দলে থাকতে হলে, ম্যাচ খেলতে হলে অনেক ভালো করতে হবে। এটা দলের মধ্যে একটা ভালো ব্যাপার যে অভিজ্ঞতা অর্জন করা, ভালো করার চেষ্টা করা। এটা উপভোগ করছি।’ পাশাপাশি নিজের বোলিং নিয়েও কাজ করছেন রনি। তিনি বলেন, নিয়েও কাজ হচ্ছে। আগে যেমন অফ কাটারটাও মারতাম, এখন ব্যাক অব দ্য হ্যান্ড, নাকল বলটাও চেষ্টা করছি। ইয়র্কারগুলা চেষ্টা করছি। পারফেকশন আনার চেষ্টা করছি। হয়ত একদিনে হবে না। দিনকে দিন অনুশীল করতে করতে আসবে।’ সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় দলে সিনিয়র-জুনিয়রদের অবদানের পার্থক্য। সিনিয়র খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরাটা দিলেও প্রায়শই তরুণ খেলোয়াড়দের ব্যর্থতার কারণে হাতছাড়া হয় অনেক জয়। দলের জুনিয়র ক্রিকেটারদের মধ্যে অন্যতম আবু হায়দার রনিও মনে করেন এমনটা। 

রনি ভাবছেন এখন সময় এসেছে জুনিয়রদের এগিয়ে আসার। ব্যাট হাতে লিটন দাশ,  মোহাম্মদ মিথুন, নাজমুল শান্তরা ভাল ফর্মে থাকায় এবার সিনিয়রদের সাথে জুনিয়ররাও ভালো পারফর্ম করতে পারবে বলে মনে করেন রনি। রনি বলেন, ‘আমাদের যারা সিনিয়র ব্যাটসম্যানরা আছেন মুশি ভাই, সাকিব ভাই, তামিম ভাই, রিয়াদ ভাই ভাল ফর্মে আছে। জুনিয়রদের মধ্যে আমাদের লিটন খুব ভাল টাচে আছে এখন। মিঠুন ভাই ভালো ফর্মে আছেন, শান্ত ভাল টাচে। এমন না যে সিনিয়রদের সঙ্গে আমরা জুনিয়ররা সাপোর্ট দিচ্ছি না, আমরাও দিচ্ছি। এটা যদি আরেকটু বেশি দিতে পারি তাহলে হয়ত আমাদের দলের জন্য ভাল হবে। সিনিয়রা নিয়মিত ভাল পারফর্ম করে যাচ্ছ, এখন আমাদের জুনিয়রদের দায়িত্ব নেওয়ার সময় এসেছে। এখন দেখা যাচ্ছে ১০ ম্যাচ খেললে ৫টা জিতছি। আমরাও সাপোর্ট দিলে হয়ত দেখা যাবে ৭/৮টা জিতব।’  এশিয়া কাপের কন্ডিশন নিয়ে তিনি বলেন, ‘দুবাইয়ে গরম থাকবে। গরমটা হয়ত তেমন প্রভাব ফেলবে না কারণ আমরা গরমে খেলে অভ্যস্ত। কন্ডিশনও আমাদের দেশের মতই। উইকেটে স্পিনাররা হয়ত সহায়তা পাবে, পেস বোলাররাও ওখানে ভাল বল করে। কারণ আমরা যখন  খেলেছি সবুজ ঘাস ছিল, আবুধাবিতে যে উইকেটে খেলেছি। যেমন আমরা পিএসএলে দেখি হয়ত কাছাকাছিই থাকবে। আমার মনে হয় ভাল স্পোর্টিং উইকেট থাকবে।’ এ সময় দুবাইয়ের কন্ডিশনের ব্যপারে আগে থেকেই ব্যাকফুটে না গিয়ে ইতিবাচক থাকার কথা বলেন রনি। তিনি বলেন, ‘আমি সেখানের কন্ডিশনের অসুবিধার কথা বলব না, সুবিধার কথাই বলব। যেরকম কন্ডিশনই থাক আমাদের সেরাটা দিতে হবে। যেহেতু এশিয়াতে খেলা। আশা করি ভালই করব।’ 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ