ঢাকা, বুধবার 5 September 2018, ২১ ভাদ্র ১৪২৫, ২৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সিরিয়া ইস্যুতে শুক্রবার ইরানে ত্রিদেশীয় বৈঠক

রুহানি, পুতিন ও এরদোগান

৪ সেপ্টেম্বর, রয়টার্স, পার্সটুডে : সিরিয়ার ইদলিবে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনীর অভিযান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির মধ্যেই শুক্রবার ইরানে একটি ত্রিদেশীয় শীর্ষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। বৈঠকে সিরিয়ার মিত্র রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও প্রতিবেশী তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান যোগ দেবেন।

  প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার সিরিয়াজুড়ে বিদ্রোহীদের দমন করতে পারলেও ইদলিবে এখনও বিদ্রোহীদের শক্ত ঘাঁটি রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দেশটির দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের শেষ বড় ধরনের লড়াই হবে এখানেই। জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে,  ইদলিবে এখনও ১০ হাজার আল-নসুরা ও আল-কায়েদা সদস্য অবস্থান করছে। সিরিয়ার সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা বিদ্রোহীদের শেষ শক্তিশালী ঘাঁটি ইদলিবে অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

সিরীয় বাহিনীর যেসব এলাকায় জয়লাভ করেছে সেখানকার বিদ্রোহী ও তাদের পরিবার ইদলিবে আশ্রয় নিয়েছে। এখন ইদলিব থেকে তাদের উৎখাত করা হলে সিরিয়ায় যাওয়ার মতো কোনও জায়গা নেই। ইদলিবে যে কোনও অভিযানে তুরস্কের সঙ্গেও উত্তেজনা বাড়বে। এই পরিস্থিতিতেই আগামী শুক্রবার তেহরানে সিরিয়া, ইরান ও তুরস্কের শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

গত সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন জানায়, সিরিয়ার চলমান পরিস্থিতি উন্নয়নের উপায় নিয়ে তিন প্রেসিডেন্ট আলোচনা করবেন।  বৈঠকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটন এবং রাজনৈতিক উপায়ে সিরিয়া সংকটের চূড়ান্ত সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হবে।

বিবৃতিতে ক্রেমলিন আরও জানায়, সিরিয়ার শরণার্থীরা যাতে তাদের নিজ দেশে ফিরে আসতে পারে সে পরিবেশ তৈরি করার বিষয়টি বৈঠকে অগ্রাধিকার পাবে। এর আগে ২০১৭ সালের নভেম্বরে রুহানি, পুতিন ও এরদোয়ান রাশিয়ার সোচি শহরে প্রথম সিরিয়া বিষয়ক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন।  ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল তুরস্কের আঙ্কারায় তিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।  এরই  ধারাবাহিকতায় এবার তেহরানে তাদের মধ্যে তৃতীয় বৈঠক হতে যাচ্ছে।

ইদলিবে হামলার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সতর্ক বার্তা

বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিব প্রদেশে ‘বেপরোয়াভাবে হামলা’ না চালাতে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ও তার মিত্র ইরান ও রাশিয়াকে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

এ ধরনের হামলায় লাখ লাখ লোক নিহত হতে পারে বলে সোমবার সতর্ক করেছেন তিনি, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

এক টুইটে ট্রাম্প লিখেছেন, “রুশরা ও ইরানিরা সম্ভাব্য এই মানবিক বিপর্যয়ে অংশ নিতে গিয়ে গুরুতর মানবিক ভুল করতে যাচ্ছে। লাখ লাখ লোক নিহত হতে পারে। এটি হতে দেওয়া যায় না!”

সম্প্রতি একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইদলিব পুনরুদ্ধার করতে ধাপে ধাপে আক্রমণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আসাদ।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় এই প্রদেশটি ও এর আশপাশের এলাকাগুলো আসাদের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিদ্রোহীদের দখলে থাকা শেষ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এই এলাকাগুলোতে প্রায় ৩০ লাখ বেসামরিক লোক বসবাস করে।

সাত বছর ধরে চলা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট আসাদকে সমর্থন দিয়ে আসছে মিত্র রাশিয়া ও ইরানের বাহিনীগুলো।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, ইদলিবে যে কোনো সরকারি আক্রমণকে সিরিয়া যুদ্ধের তীব্রতাবৃদ্ধি হিসেবে দেখে ওয়াশিংটন এবং মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করছে যে, দামেস্ক কোনো রাসায়নিক হামলা চালালে ওয়াশিংটন তার জবাব দিবে।   গত সোমবার রাতে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি টুইটারে লিখেছেন,“সব চোখ এখন ইদলিবে আসাদ, রাশিয়া ও ইরানের পদক্ষেপের দিকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ