ঢাকা, বুধবার 5 September 2018, ২১ ভাদ্র ১৪২৫, ২৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ওয়াশিংটন ঋণ পরিশোধ করছে মাত্র

পাকিস্তানের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি

৪ সেপ্টেম্বর, বিবিসি : যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা বাতিল করার খবরে পাকিস্তান বলেছে, এটাও মোটেও সহায়তা নয়। ওয়াশিংটন ঋণ পরিশোধ করছে মাত্র। পাকিস্তানের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি এ কথা উল্লেখ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাকিস্তান এরই মধ্যে এই অর্থ খরচ করেছে। এখন সেটি পরিশোধ না করলে তা হবে ভিন্ন বিষয়। কিন্তু নীতিগতভাবে তা পরিশোধ করা উচিত।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সদর দপ্তর পেন্টাগন গত শনিবার অর্থ সহায়তা বাতিলের বিষয়ে যে ঘোষণা দিয়েছিল, এর এক দিন পর এ বিষয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছে। তারা বলেছে, গত জানুয়ারিতে অর্থ সহায়তা স্থগিত করার সিদ্ধান্তের বৃহত্তর অংশ হিসেবেই এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

রবিবার পেন্টাগন মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল কোনে ফকনার বলেন, 'প্রাসঙ্গিতার বাইরে বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে দুর্ভাগ্যবশত কোয়ালিশন সাপোর্ট ফান্ডের (সিএসএফ) খবরটি বিকৃত করা হয়েছে। পাকিস্তানে নিরাপত্তা সহায়তা স্থগিতের বিষয়টি ২০১৮ সালের  জানুয়ারিতেই ঘোষণা করা হয়েছিল। সিএসএফ ফান্ড যথাস্থানেই আছে। এটা মোটেও নতুন সিদ্ধান্ত নয় অথবা নতুন ঘোষণাও নয়। এটি শুধুই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে জুলাই মাসের অনুরোধের বিবরণ মাত্র।' 

তিনি জানান, সেপ্টেম্বরে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ওই ফান্ডের পুন কর্মসূচির বিষয়ে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়। তিনি বলেন, এ ছাড়া পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ এবং সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর ওপর সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাপ অব্যাহত রেখেছে।

গত শনিবার পেন্টাগনের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে দিয়ে আসা ৩০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা বাতিল করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়, যা কংগ্রেসের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকের লক্ষ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওয়ের পাকিস্তান সফরের ঠিক আগে এই পরিকল্পনার কথা জানায় পেন্টাগন।

এই ঘোষণার পরের দিন গত রবিবার সন্ধ্যায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ডাকেন পাকিস্তানের তেহরিক-ই-ইনসাফ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি। তিনি বলেন, '৩০ কোটি মার্কিন ডলার কোনো সহায়তা (এইড) নয়, সাহায্যও (অ্যাসিস্টেন্স) নয়। এটি পাকিস্তানকে দেওয়া সেই অর্থ, যা জঙ্গি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাকিস্তান ব্যয় করেছে। এই অর্থ তারা (যুক্তরাষ্ট্র) ধার পরিশোধ হিসেবে দিয়ে থাকে। এখন তারা হয় এটি দিতে অনিচ্ছুক অথবা পরিশোধ করতে অক্ষম।' তিনি বলেন, 'এটা সবই আমাদের অর্থ, যা আমরা ব্যয় করেছি এবং তারা শুধু পরিশোধ করছে মাত্র।'

এর আগে বিবিসি উর্দুকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়া কোরেশি বলেন, 'নীতিগতভাবে এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া উচিত। কারণ জঙ্গি দমন এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য একটি অভিন্ন উদ্দেশ্যে আমরা এই অর্থ খরচ করেছি।' তিনি বলেন, 'এই বিষয়টি নিয়ে আমরা তার (পম্পেও) সঙ্গে বসে আলোচনা করব। আমরা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে চেষ্টা করব। আমরা তার কথা শুনব এবং আমরাও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরব।'

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ