ঢাকা, বুধবার 5 September 2018, ২১ ভাদ্র ১৪২৫, ২৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শিশুসহ ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে

খুলনা অফিস : দিনকে দিন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। মানসিক চিন্তা ভাবনায়, খাদ্যাভ্যাস, জীবনাচরণ এবং পরিবেশের দূষণ মূলত দায়ি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। চলতি বছরে গত ৮ মাসে ডায়াবেটিস নির্ণয়ে পরীক্ষা করে ১ হাজার ৮৪৪ জন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। পুরুষ-মহিলার পাশাপাশি শিশুরাও রয়েছে এই তালিকায়।
খুলনা ডায়াবেটিক হাসপাতাল সূত্র মতে, গত ২০১৭ সালে ৮৬ হাজার ৬৩৩ জনকে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগী রেজিস্টেশনভুক্ত করা হয়। ২০১৮ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নতুন করে ১ হাজার ৮৪৪ জন রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৮ হাজার ৪৭৭ জন।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, মানুষ আগের চেয়ে বেশি সচেতন হওয়ায় নিজেরাই বিভিন্ন টেস্ট করাতে এসে এই রোগ ধরা পড়ছে। জীন ও বংশগত কারণে শিশুরা ডায়াবেটিস আক্রান্ত হচ্ছেন। মূলত শিশুরা কোমল পানীয়, ফাস্টফুড খাচ্ছে কিন্তু শাকসবজি ও মাছ খাচ্ছে না। এছাড়া তাদের শরীরচর্চা ও এবং খেলাধুলার ব্যবস্থা নেই। অধিকাংশ স্কুলে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত খেলাধুলার মাঠ গড়ে ওঠেনি।
ডায়াবেটিসের যতগুলো উপকরণ রয়েছে, সবগুলোই আমরা তাদের চাপিয়ে দিচ্ছি। ডায়াবেটিস থেকে নানা ধরনের ব্যাধি হতে পারে। এর মধ্যে হৃদরোগ, চক্ষু, স্নায়ু, চর্ম, রক্তবাহি শিরা ও উপশিরা এবং মূত্রগ্রন্থির রোগই প্রধান। ডায়বেটিক আক্রান্ত রোগীরা বেশির ভাগই চোখের অসুখে ভোগেন।
অভিজ্ঞতার আলোকে চিকিৎসকেরা জানান, শিশুদের ডায়াবেটিস হলে অনেক অভিভাবক একে ভিন্নভাবে দেখেন। তারা কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে বিভিন্ন অপচিকিৎসা গ্রহণ করেন। এতে রোগীর ক্ষতি ছাড়া ভালো হয় না। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস হলে ইনসুলিন নিতে হবে। এর বিকল্প কোনো পদ্ধতি এখনো উদ্ভাবন হয়নি।
ডায়াবেটিক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমান ‘শূন্য’ থেকে ১৮ বছর বয়সী প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন ডায়াবেটিস আক্রান্ত শিশু নিয়মিত এখানে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছে। এছাড়াও প্রতিদিনই চিকিৎসার জন্য আসছে ডায়াবেটিস আক্রান্ত নতুন নতুন শিশু।
ডায়াবেটিক হাসপাতালের সুপার ও সিনিয় মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আব্দুস সবুর বলেন, আগের চেয়ে মানুষ এখন বেশি সচেতন। নিজেরাই বিভিন্ন টেস্ট করাতে এসে ডায়াবেটিস শনাক্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, মানসিক টেনশন বেশি করায় ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। এছাড়া জীন ও বংশগত কারণে শিশুরা ডায়াবেটিস আক্রান্ত হচ্ছেন। বর্তমানে টাইপ-১ ডায়াবেটিস শিশুর সংখ্যা ১ থেকে ২ শতাংশ। আর টাইপ-২ ৯৫ শতাংশ বড়রা। আগামী ৬ সেপ্টেম্বর ডায়াবেটিস সেবা দিবস উপলক্ষে তাদের এ হাসপাতালে বিনামূল্যে ডায়াবেটিস নির্ণয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া রোগীদেরকে নিয়ে ডায়াবেটিস বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা করা হবে। ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম এই রোগে মৃত্যুবরণ করায় তার স্মরণে এই ডায়াবেটিস সেবা দিবস প্রতি বছর পালন করা হয়।
উল্লেখ করা যেতে পারে, ডায়াবেটিক সমিতি ও হাসপাতাল মিলিয়ে ২০১৭ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত ৮১ হাজারের ঊর্ধ্বে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের রেজিস্ট্রেশনভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালের ২০ জুন পর্যন্ত ৭৮ হাজার ২২২ জন ডায়বেটিক রোগী সমিতির অন্তর্ভুক্ত ছিল।
শিশুদের ডায়াবেটিসের লক্ষণ সম্পর্কে ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, বেশি বেশি খিদে পাওয়া, বেশি প্রসাব, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ বড়দের চেয়েও শিশুদের বেলায় দু’তিন সপ্তাহের মধ্যে রোগ জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ