ঢাকা, বুধবার 5 September 2018, ২১ ভাদ্র ১৪২৫, ২৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

অভয়নগরে ৩১ বছরে একদিনও ছুটি না কাটানো সেই শিক্ষককে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও লাখ টাকা পুরস্কার

মফিজুর রহমান, অভয়নগর (যশোর) থেকে : কর্তব্যপরায়ণতার এক অনন্য নজির স্থাপনকারী যশোরের অভয়নগর উপজেলার সেই মহৎপ্রাণ শিক্ষাগুরুর হাতে পৌঁছে গেলো দায়িত্ব ও কর্তব্যপরায়ণতার স্বীকৃতি ও পুরস্কার। টানা ৩১ বছরের কর্মজীবনে দু’চোখে কেবল আলোর দ্যুতি আর শিশুদের মানুষের মতো মানুষ করার অনাবিল স্বপ্নে যে মানুষটি অকাতরে উৎসর্গ করেছেন সুখ, ঐশর্য্য। এমনকি অবসর, গল্প-আড্ডা ও বিনোদনকেও ছুটি দিয়েছেন জীবন থেকে। সামাজিকতা, অনুষ্ঠানাদী, অসুস্থ্যতা সবকিছুর উর্ধ্বে যিনি কর্তব্যকে ঠাঁই দিয়ে ৩১ বছরে একদিনও ছুটি কাটাননি সেই মহান শিক্ষাগুরুর হাতেই পৌঁছেছে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, পুরস্কার ও প্রশংসা পত্র। লোকচক্ষুর অন্তরাল থেকে উঠে আসা এ শিক্ষককে স্বয়ং মন্ত্রী পাঠিয়েছেন প্রশংসা পত্র। এক দিনও ছুটি না নেওয়া ও স্কুলের সব নিয়ম মেনে চলে কর্তব্যপরায়ণতার বিরল নজির স্থাপনকারী শিক্ষক অভয়নগর উপজেলার ধোপাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক সত্যজিত বিশ্বাসকে নিয়ে একটি তথ্যবহুল ফিচার। তার পরই আলোচনায় আসেন তিনি।
গতকাল সোমবার তারই পুরস্কার হাতে পেয়ে আনন্দে বিগলিত শিক্ষক সত্যজিত ছেড়েছেন আনন্দ্রশ্রু। তাকে এক লাখ টাকার চেক দিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। দিয়েছেন প্রশংসা পত্র ও স্বীকৃতির স্মারক।  গতকাল সোমবার দুপুরে অভয়নগর উপজেলার ধোপাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য এক আয়োজনের মধ্যদিয়ে মন্ত্রীর পক্ষে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক স্বপন কুমার রায় এ চেক তুলে দেন।
ধোপাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি তপন কুমার বসুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য ও ধোপাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উপদেষ্টা এমএম আমিন উদ্দিন, অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এমএম মাহমুদুর রহমান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কেএম আবু নওশাদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দেবাশীস কুমার বিশ্বাস, ধোপাদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, শিক্ষক সত্যজিত বিশ্বাস ৩১ বছর চাকরি জীবনে একদিনও ছুটি নেননি, কোনোদিন এক মিনিট দেরি করেও স্কুলে আসেননি। এমনকি বাবার মরদেহ বাড়ি রেখে স্কুলে ক্লাসে এসে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করিয়েছেন।
বিয়ের দিনও ক্লাস নিয়েছেন। ছুটি নেননি অসুস্থতার মধ্যেও। বাড়ি থেকে সাত কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় বর্ষার দিনে হাঁটু কাদা পার করে স্কুলে আসতে হয়েছে তাকে। বিদ্যালয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, ছেলে মেয়েরা কেঁদেছে, মাথায় পানি দিয়েছে, ছুটি নিয়ে বাড়ি যেতে শিক্ষক শিক্ষিকারা পিড়াপীড়ি করেছে কিন্তু শিক্ষক সত্যজিত বাড়ি যেতে পারেন নি। স্কুলই যেন তার প্রাণ আর শিক্ষার্থীরা তার প্রাণ শক্তি। এ প্রাণ আর প্রাণ শক্তি ছেড়ে গেলে যেন তিনি নিঃস্ব রিক্ত হয়ে পড়েন। বাবার মৃত্যুর দিন সৎকার শেষ করে স্কুলে যেয়ে নিজ দায়িত্ব পালন করেছেন শিক্ষক সত্যজিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ