ঢাকা, বুধবার 5 September 2018, ২১ ভাদ্র ১৪২৫, ২৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

৫ মাসের ব্যবধানে টনপ্রতি কাগজের দাম বেড়েছে ৩৫ হাজার টাকা

#  নতুন সংকটে প্রিন্ট মিডিয়া
#  প্যাকেজিং শিল্পে চরম বিপর্যয়
#  বই ছাপানোর খরচও বেড়েছে
কামাল উদ্দিন সুমন : নিউজপ্রিন্টসহ সব ধরনের কাগজের দাম বেড়েই চলেছে। প্রতিদিনই বাড়ছে কাগজের দাম। গত ৫ মাসের ব্যবধানে টন প্রতি বেড়েছে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। কাগজের দাম বাড়ায় বই উৎপাদনের খরচও বেড়েছে। ফলে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে প্রকাশনা শিল্পে। এছাড় দীর্ঘ দিনের সংকটে থাকা প্রিন্ট মিডিয়া নতুন করে সংকটে পড়েছে। নিউজপ্রিন্টের দাম অত্যাধিক হারে বেড়ে যাওয়ার ফলে প্রিন্ট মিডিয়ার টিকে থাকাই মুশকিল হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। কাগজের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়ে যাওয়ার পেছনে সিন্ডিকেট রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
শুধু সাধারণ কাগজই নয়, বেড়েছে খাম ও প্যাকেজিং কাগজের দামও। বিভিন্ন ধরনের বক্স, মিষ্টি, শাড়ি, জুতা বা বিরিয়ানির প্যাকেট বানানোর জন্য যে অটো বোর্ড ব্যবহার করা হয়, বেড়েছে সেই অটো বোর্ডের দামও।
কাগজ শিল্পের সাথে জড়িতরা বলেছেন আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে কাগজের দাম। এ সুযোগ নিয়েছেন দেশের মিলমালিক ও আমদানিকারকরা। কাগজের ডিলার ও পাইকারদের এতে সমস্যা না হলেও বেকায়দায় পড়েছেন প্রকাশক ও ভোক্তারা। কাগজের দাম বাড়ায় ব্যয় বেড়েছে শিক্ষা উপকরণেও। ফলে চাপে পড়েছেন অভিভাবকরা। তবে দাম বাড়া যৌক্তিক বলে দাবি করছেন কাগজ উৎপাদনকারীরা।
সূত্র জানায়, সরকারের কোনো তদারকি না থাকায় দেশের কাগজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে জিম্মি সাধারণ মানুষ। এ অবস্থায় সরকারসহ ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠনের মাধ্যমে এ খাতের উদ্যোক্তা থেকে আমদানিকারকদের একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবেন- এমন শঙ্কা তাদের।
কাগজের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ডিলার, পাইকার ও প্রকাশকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে কাগজের দাম। মানভেদে কাগজের দাম বেড়েছে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। দাম বাড়ার মূল কারণ হিসেবে তারা বলছেন, সব মিলমালিক এক হয়ে সিন্ডিকেট করেছেন। তাদের নিয়ন্ত্রণে কোনো সংস্থা না থাকায় ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন। ফলে বেকায়দায় পড়েছেন ডিলার, পাইকার, প্রকাশক, সর্বোপরি সাধারণ ভোক্তারা।
কাগজের দাম বাড়ার বিষয়ে তাজ পেপার স্টোরের স্বত্বাধিকারী হামীম আহমাদ বলেন, চার থেকে পাঁচ মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে কাগজের দাম বাড়ছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয়-উভয় বাজারেই কাগজের দাম বাড়তি। গত পাঁচ মাসের ব্যবধানে প্রতি টন দেশী কাগজের দাম মানভেদে বেড়েছে ২০ থেকে ২৩ হাজার টাকা। চলতি বছরের এপ্রিলে যে কাগজের দাম টনপ্রতি ছিল ৬৫ থেকে ৬৮ হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯০ থেকে ৯৫ হাজার টাকায়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারেও কাগজের দাম বেড়েছে। আগে যে কাগজ আমদানি করতে ৮৫০ থেকে ৯০০ মার্কিন ডলার লাগতো এখন সেখানে লাগছে ৯২০ থেকে এক হাজার ডলার।
তিনি বলেন, চীন, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়া থেকে বেশি কাগজ আমদানি হয়। এসব দেশে কাগজ উৎপাদনের মূল কাঁচামালের (পাল্প) দাম বেড়েছে। ফলে কাগজের দামও বাড়তি। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার সুযোগ নিয়েছেন দেশের মিলমালিকরা। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে দাম বাড়িয়েছেন। অর্থাৎ সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হয়েছে। সাধারণ ব্যবসায়ীদের এ সিন্ডিকেট ভাঙার কোনো ক্ষমতা নেই। এ কারণে সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়া কাগজের দাম নিয়ন্ত্রণ কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
কাগজের পাইকারি ব্যবসায়ী পেপার গ্যালারির স্বত্বাধিকারী মাহফুজুর রহমান বলেন, কয়েক মাস ধরে ধাপে ধাপে দাম বাড়ছে। সবগুলো মিল একসঙ্গে সমন্বয় করে এ দাম বাড়িয়েছে। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই। তিনি বলেন, বেশি দামে কেনার কারণে বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্যদিকে দাম বাড়ায় পুঁজি খাটাতে হচ্ছে বেশি, ক্রেতাও কমে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে কাগজের ব্যবসা এখন মন্দা যাচ্ছে।
এদিকে কাগজের দাম বাড়ায় বই উৎপাদনের খরচও বেড়েছে। ফলে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে প্রকাশনা শিল্পে। এ বিষয়ে প্রকাশকদের সংগঠন একাডেমিক অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ পাবলিশার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এসিপিএবি) সভাপতি ফরিদ আহমেদ বলেন, ‘কাগজের দাম বাড়ার কারণে বই ছাপাতে খরচ বাড়ছে। ফলে বইয়ের দামও বাড়বে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হবে পাঠক ধরে রাখা।’
তিনি বলেন, যেহেতু কাগজের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট সংস্থা নেই, তাই আমরা বিষয়টি সুরাহার জন্য ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের কাছে যাবো। আশা করছি একটি ফলপ্রসূ সমাধান হবে।
দাম বাড়ার কাগজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান একটি গণমাধ্যমকে বলেন, বিশ্ববাজারে কাগজের মূল উপাদান পাল্পের (মন্ড) দাম বেড়েছে। আমাদের পেপার ইন্ডাস্ট্রি পাল্প আমদানি নির্ভর। ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। বাধ্য হয়েই কাগজের দাম আমাদের বাড়াতে হয়েছে।
এদিকে ‘সিন্ডিকেট’ করে কাগজের দাম বাড়ানোর অভিযোগ এনে তার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ লোকাল কার্টন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের সভাপতি এমএ বাশার পাটোয়ারি বলেন, ২০১০-১১ অর্থবছরের বাজেটে কাগজশিল্পকে শুল্ক সুবিধার আওতায় আনার পর থেকে ব্যবসায়ীরা কাগজের দাম বাড়াতে থাকে।
“সে  সময় কাগজের দাম প্রায় দ্বিগুণ করে ফেলা হয়েছিল। আমাদের আন্দোলনের মুখে পরে দাম কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় আসে। কিন্তু গত ১৯ মার্চ কাগজকল মালিকরা সিন্ডিকেট করে আবারও কাগজের দাম ৩০ ভাগ থেকে ৩৫ ভাগ বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে কাগজের দাম কেজিপ্রতি ১২ টাকা ৫০ পয়সা বেড়ে যায়। দাম বৃদ্ধির কারণে প্যাকেজিং শিল্পে বিপর্যয় নেমে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
বাশার পাটোয়ারী বলেন, যারা প্রতিষ্ঠান কার্টন কেনে, তারা কাগজের দাম অনুযায়ী কার্টনের দাম বাড়াচ্ছে না। এ অবস্থায় আমাদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। কাগজের দাম বাড়ানোর ফলে মোড়কজাত পণ্যের দামও বেড়ে যাবে। যার খেসারত দিতে হবে রপ্তানি শিল্পমালিকদেরও। কাগজের দাম বাড়ার কারণ অনুসন্ধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এনবিআর ও এফবিসিসিআইকে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে কার্টন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।
বাশার পাটোয়ারি বলেন, পেপারমিল মালিকরা মধ্যস্বত্বভোগী ফরিয়া তৈরি করে আমাদের জিম্মি করে রেখেছে। সরাসরি কারখানা থেকে কাগজ না কিনে তাদের মাধ্যমে কিনতে হয়।
এদিকে অত্যন্ত সংকটকাল পার করছে প্রিন্ট মিডিয়া। এই সংকটের মধ্যে নতুন সংকট হলো নিউজপ্রিন্টসহ সব ধরনের কাগজের দাম বৃদ্ধি পাওয়া। একটি গণমাধ্যমের কাছে এমন শঙ্কার কথা জানান বিশিষ্ট সাংবাদিক মানব জমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী।
তিনি বলেন, এমনিতেই দেশে বিজ্ঞাপনের বাজার সংকুচিত হয়েছে। অন্যদিকে প্রিন্ট মিডিয়ার ব্যয়ও বেড়েছে। কাগজ আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ হয়েছে।’
‘সরকারি বিজ্ঞাপনের হার কমে যাওয়া, বছরের পর বছর সরকারি বিজ্ঞাপনের বিল বাকি থাকা- এই শিল্পের জন্য বড় সমস্যা। তবে এসবের চেয়ে বড় সংকট হলো কাগজের দাম বেড়ে যাওয়া। নিউজপ্রিন্টের দাম অত্যাধিক বেড়েছে। ফলে প্রিন্ট মিডিয়ার টিকে থাকাই মুশকিল হয়ে পড়েছে।’
মতিউর রহমান বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের বেশকিছু পেপার মিল বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে সহজেই কাগজ আমদানি করা যাচ্ছে না। প্রতি টনে বাড়তি পয়সা গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের বাজারেও কাগজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন মিলমালিকরা। ফলে মুদ্রণ শিল্প বেকায়দার মধ্যে পড়েছে’- যোগ করেন তিনি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় কী এবিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারের উচিত এই শিল্পের প্রতি বিশেষ নজর দেয়া, সহযোগিতা করা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেমনটি দিয়ে থাকে। এখানে সহযোগিতা বলতে নগদ অর্থ নয়, কাগজ আমদানির শুল্ক উঠিয়ে দেয়া এবং দেশের পেপার মিলগুলোকে একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা। কারণ মন চাইলেই মালিকরা যেন কাগজের দাম বাড়িয়ে দিতে না পারেন।’
তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক প্রিন্ট মিডিয়া বন্ধ হয়ে গেছে। আমাদের দেশেও নতুন বিনিয়োগ আসছে না। যেগুলো আছে সেগুলো অনেক কষ্ট করে টিকে আছে।
হঠাৎ করে সব ধরনের কাগজের এই মূল্য বৃদ্ধির জন্য মিলমালিক ও বড় ব্যবসায়ীদের দায়ী করছেন পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা। তাদের অভিযোগ, মিলমালিকরা বড় ডিলারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে কাগজের দাম বাড়িয়েছে। এ প্রসঙ্গে নয়াবাজারের পাইকারি বিক্রেতা চৌধুরী অ্যান্ড ব্রাদার্স পেপারস হাউজের স্বত্বাধিকারী মো. হƒদয় বলেন, ‘মিলমালিকরা সিন্ডিকেট তৈরি করে কাগজের দাম বাড়িয়েছে। এর ফলে আমাদের বিক্রি কম হচ্ছে, আমাদের লস হচ্ছে।’
কাগজের সাপ্লইয়ার আলামিনও একই অভিযোগ করে বলেন, ‘ডিলাররা বলছেন মিলমালিকরা তাদের জানিয়েছেন কাগজের কাঁচামাল পাল্পের দাম বেড়েছে, তাই কাগজের দাম বেড়েছে।’ তবে এমন যুক্তিতে অসন্তুষ্ট এই ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, ‘এসব মিলমালিকদের কারসাজি, ওরাই সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছে।
বেড়েছে খাম তৈরির কাগজ প্যাকেজিং বাক্রের দাম। গড়ে প্রতি টন প্যাকেজিং বাক্রের দাম বেড়েছে আট হাজার টাকা। এর সত্যতাও পাওয়া গেল পাশের এক পাইকারি স্টেশনারি দোকানে। দোকানের মালিক আরিফুর জানান, গেল কয়েক দিনে বেশ বেড়েছে বিভিন্ন ধরনের খামের দাম। তার তথ্যমতে, এক হাজার খামে গড়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকা দাম বেড়েছে। এ-ফোর সাইজের এক হাজার পিস খাম দিন বিশেক আগে তিনি ৮৫০ টাকায় পাইকারি বিক্রি করতেন, যা এখন বিক্রি করছেন ৯০০ টাকায়। এ-থ্রি সাইজের খাম বিক্রি করছেন দুই হাজার ৪০০ টাকায়, যা আগে বিক্রি করতেন দুই হাজার ২০০ টাকায়। চিঠির সাধারণ খাম ৪৫০ টাকার পরিবর্তে বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ টাকায় আর ভালো মানের ৬১ গ্রামের কাগজের খাম আগের ৪৮০ টাকার পরিবর্তে এখন বিক্রি হচ্ছে ৫২০ টাকায়।
সঙ্গত কারণে একই সঙ্গে বেড়েছে কম্পিউটারের প্রিন্টের কাগজের দামও। এ-ফোর সাইজের ৮০ গ্রামের ৫০০ পিসের অফসেট পেপারের প্যাকেট আগে বিক্রি হতো ২২০ টাকায়, যা এখন বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়। লিগ্যাল সাইজের একই কাগজ ২৬০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকায়। ৭০ গ্রামের এ-ফোর সাইজের প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়, যার আগের মূল্য ছিল ১৮০ টাকা; লিগ্যাল সাইজের একই কাগজ বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকায়, যা ছিল ২৪০ টাকা।
ঢাকা কাগজ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মীর সামসুদ্দিন নাহিদের অভিযোগ মিলমালিকরা পাল্পের দাম বাড়ানোর অজুহাতে কাগজের দাম বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কিছু দিন আগে এক মিলমালিককে এক টন কাগজের জন্য ৮০ হাজার টাকা দিয়েছি, এখন সেই মিলমালিক বলেন এক টনের জন্য ৮৯ হাজার টাকা দিতে হবে।’ এই ব্যবসায়ী আরও অভিযোগ করেন, বিশ্ববাজারে পাল্পের দাম যে হারে বেড়েছে বাংলাদেশের মিলমালিকরা তার চেয়ে বেশি হারে কাগজের দাম বাড়িয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ