ঢাকা, বুধবার 5 September 2018, ২১ ভাদ্র ১৪২৫, ২৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

আমরা এটাকে ক্যামেরা ট্রায়াল মনে করছি

#  সরকারের এই সিদ্ধান্ত সংবিধান বিরোধী, সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন
#  সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিগগিরই রাজনৈতিক কর্মসূচি দেয়া হবে
স্টাফ রিপোর্টার : কারাবন্দী দলের চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানির জন্য কারাগারের ভেতরে আদালত বসানোর যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তার কঠোর সমালোচনা করেছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরী সাংবাদিক সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এটা সংবিধান বিরোধী। আমরা এটাকে ক্যামেরা ট্রায়াল মনে করছি। এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আইন বিষয়ক সম্পাদক সানাউল্লাহ মিয়া, কায়সার কামাল, মাসুদ আহমেদ তালুকদারসহ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
পুরনো ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে বিচারালয় বসিয়ে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার কার্যক্রম শুরু করার সরকারের সিদ্ধান্তকে সংবিধানের পরিপন্থী বলে এর বিরুদ্ধে শিগগিরই রাজনৈতিক কর্মসূচি দেওয়ার কথা বলেছেন মির্জা ফখরুল।  তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি সরকার একটা বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এই প্রজ্ঞাপনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাষ্ট্রের মামলা যেটা আলীয়া মাদরাসার মাঠে বিচারালয় তৈরি করে সেখানে বিচার করা হচ্ছিল। এখন আবার সেখান থেকে এটাকে ট্রান্সফার করে নিয়ে আসা হচ্ছে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে সেটা আজ (বুধবার) থেকে শুরু হবে।
আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, সরকারের এই সিদ্ধান্ত সংবিধান বিরোধী, সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংবিধানের আর্টিক্যাল ৩৫(৩) ধারা মতে এই ধরনের মামলা প্রকাশ্যে অনুষ্ঠিত হতে হবে। এখানে ক্যামেরা ট্রায়াল করার সুযোগ নেই। আমরা তাদের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং অসুস্থ দেশনেত্রীর বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দেবার আহ্বান জানাচ্ছি।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা মনে করি এটি ক্যামেরা ট্রায়াল। আমরা রাজনৈতিকভাবে এ বিষয়টাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছি। দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা, সর্বোপরি তিন একজন নাগরিক, তাঁর অধিকার হরণ করা হচ্ছে সংবিধান লঙ্ঘন করে। এর চেয়ে বড় অপরাধ কী হতে পারে। এটাকে কোনোভাবেই হালকা করে নেয়ার সুযোগ নেই। আমরা অবশ্যই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিয়ে পরবর্তি কার্যক্রম ঘোষণা করবো।
পরবর্তি কার্যক্রম কী হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা রাজনৈতিক কর্মসূচি দেবো। বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, অন্যায় ও বেআইনিভাবে উচ্চতর আদালতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হওয়ার পরও বিভিন্ন কারসাঁজির মধ্য দিয়ে তাকে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। এই গণবিরোধী সরকার সম্পূর্ণ  রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করে দেশনেত্রীকে অন্যায়ভাবে  হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এবং তাকে নির্যাতন করার উদ্দেশ্যে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করা এবং একদলীয় শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার হীন উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে আমরা মনে করি।
সিআরপি’র ধারা ব্যাখ্যা করে সাবেক আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমদ বলেন, একটি দেশ চলে সংবিধানের অধীনে। সংবিধানের অধীনে অন্যকোনো আইন নেই বাংলাদেশে। যারা মৌলিক অধিকারের কথা বলেন বা যে মূল সংবিধান ১৯৭২ সালের কথা বলেন সেই সংবিধান থেকে এখন পর্যন্ত অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করা হয় নাই। ৩৫(৩) এ স্পষ্ট করে বলা আছে, যেকোনো ফোজদরি মামলা এটা প্রকাশে হতে হবে। আজকে জেলখানা অভ্যন্তরে বিচার করার অর্থ হলো ক্যামেরা ট্রায়াল। এটা আমাদের সংবিধান সম্মত নয়। সিআরপিএস’র ৩৫২ ধারাও একই কথা লেখা আছে যে, এই বিচার প্রকাশ্যে হতে হবে। এখন যেটা সরকার করছে এটা সম্পূর্ণভাবে সংবিধান পরিপন্থী।
তিনি বলেন, আমরা এই ব্যাপারে কথা-বার্তা বলব, পর্যালোচনা করবো এবং কোনো আইনি ব্যবস্থা করা  যায় কিনা সেব্যাপারে চিন্তা করব।
কূটনৈতিকদের সাথে বৈঠক: বিদেশী কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে গুলশান বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। চলে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত।
জানা গেছে, বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূত, আমেরিকা, সুইজারল্যান্ড, পাকিস্তান, কানাডা, স্পেন, ফিলিস্তিন, জাপান, নরওয়ে, মিয়ানমার, ভারত, চায়না, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, তুর্কি, ইংল্যান্ডসহ আর কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এছাড়াও বিএনপির পক্ষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খোন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, তাবিথ আওয়াল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র জানায়, বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিরুদ্ধে থাকা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীনদের মনোভাব, নির্বাচন কমিশনের ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম), ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া, নির্বাচনে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানসহ সার্বিক বিষয়াদি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া সরকারের দমনপীড়নসহ সার্বিক অবস্থার একটি কপিও কূটনৈতিকদের কাছে দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ