ঢাকা, বুধবার 5 September 2018, ২১ ভাদ্র ১৪২৫, ২৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের গণদাবি উপেক্ষিত হলে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে -বিএনপি

গতকাল মঙ্গলবার নয়া পল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের গণদাবি উপেক্ষা করা হলে আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই হুশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, সরকারের পতনের মহালগ্ন উপস্থিত হয়েছে। আর কোনো উপায় নেই। তাদেরকে ক্ষমতা ছাড়তেই হবে। রোববার প্রধানমন্ত্রীর সাংবাদিক সম্মেলনের বক্তব্যে দাপট থাকলেও তার চেহারায় ছিলো অন্যমনস্কা ও দুশ্চিন্তার ছাপ।
সাংবাদিক সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া জুয়েল, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, এম এ মালেক, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, আসাদুল করীম শাহিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গত ১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সারাদেশে পুলিশ ব্যাপক ধড়পাকড় করছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে মাত্র ২/৩ দিনে চার‘শ অধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার আসামীর সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যাবে। অথচ এখন কোনো কর্মসূচি নাই। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে এই যে ব্যাপক সরকারের দমনপীড়নের অভিযান এটার কারণ আমার মনে হয় কারো বুঝতে বাকী নেই। ওই যে বললাম একধরণের আতঙ্কের মধ্যে ভোগে এই সরকার।
কুষ্টিয়া, ঢাকার কদমতলী, শ্যামপুর, ডেমরা, ওয়ারী, সূত্রাপুর,যাত্রবাড়ি, তেগগাঁও শিল্পাঞ্চল, কুষ্টিয়া, বগুড়া, বাগেরহাট, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, নড়াইল, রাজশাহী, নওগাঁও, ঝিনাইদহ, নারায়ণগঞ্জ, পিরোজপুর, সুনামগঞ্জসহ সারাদেশে নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার চিত্র তুলে ধরেন রিজভী।
তিনি বলেন, গুম,খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, দুনীর্তি দুঃশাসনের কায়দায় আটকের পরে সরকার এখন বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তারের মরণ কামড় দিচ্ছে। পুরনো মামলা চালু করা ও নাশকতার অভিযোগ এনে দেশব্যাপী মামলায় জড়ানো হচ্ছে নেতা-কর্মীদের। আমরা এর নিন্দা জানাই। আমি তাদের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি এবং যে সমস্ত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে তা প্রত্যাহারের দাবি করছি।
হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্মাষ্টমীর এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যে বক্তব্য দিয়েছেন তাকে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের অশুভ চক্রান্ত বলে মন্তব্য করেছেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন জাতীয় ঐক্যের নামে সাম্প্রদায়িক চক্রান্ত হচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। আকস্মিকভাবে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের চক্রান্ত অশুভ চক্রান্তের ইঙ্গিতবাহী। আহবান বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছেন ওবায়দুল কাদের সাহেবরা।
 জনসমাজে সাম্প্রদায়িক ঐক্য যখন অটুট বন্ধনে গ্রথিত, তখন তিনি (ওবায়দুল কাদের) আচমকা সাম্প্রদায়িকতা টেনে এনে দেশের মানুষকে পরিকল্পিতভাবে বিভাজনের দিকে ঠেলে দেয়ার চক্রান্ত করছেন। ক্ষমতার মোহে মশগুল হয়ে তারা মনে বিকারে প্রলাপ বকতে গিয়ে এখন রাষ্ট্র ও সমাজের স্থিতিকে ভেঙ্গে ফেলতে এখন গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন। জনবিচ্ছিন্ন সরকার ধর্মীয় উসকানি দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন বলে আমরা মনে করি।
বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এক লাখ লোক হত্যা হবে- বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, এই কাল্পনিক তথ্য তিনি (তোফায়েল আহমেদ) কোন পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে সংগ্রহ করেছেন জনগণ তা জানতে চায়। এই তথ্য কি হাসানুল হক ইনু না সজীব ওয়াজেদ জয়ের ? কারণ তারা মাঝে মাঝে উদ্ভট তথ্য দিয়ে থাকেন। বিএনপি তো অনেকবার ক্ষমতায় এসেছে কিন্তু কোথাও তো রক্তক্ষরণের কোনো দৃষ্টান্ত নেই।
রিজভী বলেন, ভোলা আপনার এলাকায় কোনো অপকর্মের কারণে তোফায়েল আহমেদ সাহেব এই আশঙ্কা করছেন? আপনার এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকরা ঘরবাড়ি ছেড়ে দোকানপাট, গরু-ছাগল বিক্রি করে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে মানবেতর জীবন যাপন করছে। নিজেদের এই অপকর্মের প্রতিশোধ হতে পারে এই আশঙ্কায় কী তোফায়েল আহমেদ সাহেবরা মানুষ হত্যার কাল্পনিক তথ্য দিচ্ছেন। আসলে ভবিষ্যতে ব্যাপক হত্যার ভীতি ছড়িয়ে জনসমাজে আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি করছেন তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ