ঢাকা, বুধবার 5 September 2018, ২১ ভাদ্র ১৪২৫, ২৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনা কনসোর্টিয়ামের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

* শর্তহীনভাবে ডিএসইর সদস্যরা পাবেন ৯৪৭ কোটি টাকা ---- এমডি
* বাংলাদেশের শেয়ারবাজার উন্নয়নে একসাথে কাজ করবো --- চীনা পরিচালক
স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাথে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনা কনসোর্টিয়ামের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী চীনের দুই প্রতিষ্ঠান শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ কনসোর্টিয়াম (জোট) ডিএসইর ২৫ শতাংশ শেয়ারের বিপরীতে ৯৬২ কোটি টাকা জমা দিয়েছে। এর মধ্য থেকে সরকারের কোষাগারে স্ট্যাম্প ডিউটি বাবদ ১৫ কোটি টাকা জমা দিয়েছে ডিএসই। বাকি ৯৪৭ কোটি টাকা ডিএসইর সদস্য ব্রোকারদের শর্তহীনভাবে ভাগ করে দেয়া হবে। দিনটি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ডিএসইর চীনা পরিচালক চি ওয়েন হাই বলেন, চীনের স্টক এক্সচেঞ্জের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তিগত দিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার উন্নয়নে একসাথে কাজ করবো। 
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে চীনা জোটের কাছ থেকে অর্থ প্রাপ্তি এবং ডিএসইর শেয়ার হস্তান্তর উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সম্মেলনে ডিএসই ও চীনা কনসোর্টিয়ামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম মাজেদুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম, পরিচালক বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, রকিবুর রহমান, মিনহাজ মান্নান ইমন, শরীফ আতাউর রহমান, চীনা জোটর প্রতিনিধি হিসেবে ডিএসইর নতুন পরিচালক নির্বাচিত হওয়া চি ওয়েন হাই প্রমুখ।
মাজেদুর রহমান বলেন, কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে দু’টি জোটের কাছ থেকে আমরা উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব পায়। সেই প্রস্তাব পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন পেতে শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ কনসোর্টিয়াম প্রস্তাব পাঠানো হয়। বিএসইসি আমাদের প্রস্তাব দ্রুত অনুমোদন করে। প্রস্তাবের দীর্ঘ এক বছর পর অনেক চড়াই উৎরায় পার হয়ে আমরা আমাদের উদ্যোগের সফলতা পেলাম। আজ (মঙ্গলবার) থেকে ডিএসইর সাথে চীন কনসোর্টিয়ামের আনুষ্ঠানিক পথা চলা শুরু হলো।
তিনি বলেন, ২৫ শতাংশ শেয়ারের বিপরীতে চীনা জোট ইতোমধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ট ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা দিয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) সকালে বোর্ড সভার মাধ্যমে ডিএসইর ২৫ শতাংশ শেয়ার চীনা জোটের অনুকূলে হস্তান্তর করা হয়েছে। শেয়ারের বিপরীতে চীনা জোটের কাছ থেকে ৯৬২ কোটি টাকা এসেছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫ কোটি টাকা স্ট্যাম্প ডিউটি হিসেবে সরকারের কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। বাকি ৯৪৭ কোটি টাকা ডিএসইর সদস্য ব্রোকারদের শর্তহীনভাবে ভাগ করে দেয়া হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শেয়ার বিক্রির এই টাকা ডিএসইর সদস্য ব্রোকারদের। কোনো প্রকার শর্ত ছাড়াই এ টাকা ব্রোকারদের বুঝিয়ে দেয়া হবে। ব্রোকাররা তাদের ইচ্ছা মতো টাকা বিনিয়োগ করতে পারবেন। তবে তারা যেহেতু শেয়ার ব্যবসা করেন, তাই আমরা আশা করব তারা এ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করবেন। তবে কবে নাগাদ শেয়ার বিক্রির টাকা সদস্যদের বুঝিয়ে দেয়া হবে তা নিশ্চিত করে বলেননি এমডি মাজেদুর রহমান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএসইর নতুন চীনা পরিচালক চি ওয়েন হাই বলেন, আজকের দিনটি বাংলাদেশের শেয়ারবাজার ও চীনা কনসোর্টিয়ামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। চীনের স্টক এক্সচেঞ্জের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তিগত দিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার উন্নয়নে একসাথে কাজ করবো। চীনা জোট গভীর গবেষণা ও পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে একটি আন্তরিক, সহযোগিতামূলক ও উভয়ের জন্য উপকারী কাজ করবে। দরপত্রে ব্যবসা ও প্রযুক্তিগত সহযোহিতার ভিশন নিয়ে স্পষ্ট ধারণা দেয়া হয়েছে। ডিএসই ও চীনা কনসোর্টিয়াম উভয় দেশের শেয়ারবাজারের উন্নয়নে সহযোগিতা করবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের উন্নয়নে সহযোগিতা করবে চীনের দুই শেয়ারবাজার শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়াম। এক্ষেত্রে লেনদেনে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, পণ্যের উন্নয়ন ও বাজারের বিভিন্ন বিষয়ের উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়া হবে।
ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম বলেন, শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে ডিএসইর অংশীদার হয়েছে বিশ্বের নামকরা শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ। এর মাধ্যমে ডিএসই আন্তর্জাতিকমানের স্টক এক্সচেঞ্জে রূপান্তর হয়েছে। সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ বিশ্বের চতুর্থ ও শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জ অষ্টম বৃহৎ স্টক এক্সচেঞ্জ। কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসাবে তারা ডিএসইর প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করবে। এছাড়া নতুন পণ্যের আনয়ন ও শেয়ারবাজারের টেকসই উন্নয়নে সহযোগিতা করবে।
উল্লেখ্য, চীনা জোটটিকে ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চলতি বছরের ৩ মে অনুমোদন দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিএসইসির অনুমোদনের পর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে গত ১৪ মে চীনা জোটের সঙ্গে চুক্তি সই করে ডিএসই। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান, শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জের প্রেসিডেন্ট ও সিইও ওয়াং জেনজুন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের সুপারভাইজারি বোর্ডের চেয়ারম্যান পেন শুয়েশিয়ান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তি সই করেন। ওই চুক্তি অনুযায়ী, কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনা জোট ডিএসইর ২৫ শতাংশ বা ৪৫ কোটি ৯ লাখ ৪৪ হাজার ১২৫টি শেয়ার কিনে নিয়েছে। বিনিময়ে ৯৬২ কোটি টাকা পরিশোধ করে ডিএসইর সাথে গতকাল (মঙ্গলবার) থেকে পার্টনার হিসাবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ