ঢাকা, বুধবার 5 September 2018, ২১ ভাদ্র ১৪২৫, ২৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

রাজধানীর প্রধান সড়কে চলবে না লেগুনা ॥ হেলমেট না থাকলে তেল নয় মোটরসাইকেলে -ডিএমপি কমিশনার

স্টাফ রিপোর্টার : কোনো মোটরসাইকেল চালকের হেলমেট না থাকলে তার গাড়িতে জ্বালানি সরবরাহ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সেপ্টেম্বরজুড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে পেট্রোল পাম্পসংশ্লিষ্টদের প্রতি তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “ইতিমধ্যে প্রত্যেক পেট্রোল পাম্পকে অনুরোধ করেছি যে হেলমেট পরিধান করা না থাকলে কোন  মোটরসাইকেলে যাতে জ্বালানি সরবরাহ না করে।“এটা ইতিমধ্যে ঢাকা মহানগরে চালু হয়েছে। হেলমেট না থাকলে ট্রাফিক আইন না মানলে কোনো পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে না।”
 সেপ্টেম্বরজুড়ে ঢাকা মহানগরীতে বিশেষ ট্রাফিক কর্মসূচি পালনের কথা জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আমাদের লক্ষ্য হলো, ট্রাফিকের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা এবং যানজট কমানো এবং সকলে যেন আইন মেনে চলে সেবিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা। “এই একমাসে বিভিন্ন সুধী সমাজকে নিয়ে বিভিন্ন পয়েন্টে ট্রাফিক সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করব।”এই কাজে পুলিশের পাশাপাশি রোভার স্কাউট থাকবে জানিয়ে কমিশনার বলেন, প্রতি পালায় ৩২২ জন রোভার স্কাউট সদস্য থাকবেন।”
গত দেড় বছরের ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে প্রায় ৬ লাখ ২৬ হাজার মামলা হয়েছে। গত একবছরে ভিডিও দেখে ঢাকা মহানগরে ৯৯ হাজার মামলা দেওয়া হয়েছে বলে জানান কমিশনার।
ঢাকা মহানগরের ১২১টি বাস স্টপেজ চিহ্নিত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেই সব স্টপেজে সাইনবোর্ড লাগানোর কাজ চলছে। এক সপ্তাহের মধ্যে তা শেষ হবে।“ সেখানে সেখানে বাস যাতে না থামায় সেটা আমি নিশ্চিত করব।”ট্রাফিক সুবিধা নেওয়ার জন্য অনুপযুক্ত যেসব গাড়িতে ফ্লাগ স্ট্যান্ড লাগানো হয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
 সেপ্টেম্বর থেকে জাহাঙ্গীর গেইট থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত মডেল করিডোর চালু করা হবে জানিয়ে কমিশনার বলেন,“ সেখানে অটো সিগনালের মধ্যে দিয়ে গাড়ি চলাচল করবে এবং সব ধরনের শৃঙ্খলা ও নিয়ম প্রতিপালনের মধ্য দিয়ে এই মডেল করিডোর করা হবে।”পরে আস্তে আস্তে পরবর্তী মাস থেকে এটা অন্যান্য সড়কেও চালু করা হবে বলে তিনি জানান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকা মহানগরের বাসগুলোকে ৬টি কোম্পানির মাধ্যমে চালানোর ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মূখ্য সচিবসহ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে ভৌত অবকাঠামোর পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগর এলাকায় লেগুনা ও হিউম্যান হলার চলতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। ডিএমপি কমিশনার বলেন, “ঢাকা শহরে কোনো লেগুনা চলার কথা নয়, হিউম্যান হলার চলার কথা নয়। আমি স্পষ্টভাবে এটা সুনিশ্চিত করব যে ঢাকা মহানগরীতে কোনো ধরনের লেগুনা চলবে না।“ লেগুনা চলবে শহরের বাইরে। সেখানে তাদের রুট পারমিট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঢাকা মহানগরীতে কোনো লেগুনা চলতে দেওয়া হবে না।”তিনি বলেন, জনগণকে ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস ও জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পারাপার হতে হবে। রাস্তার মাঝ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে কেউ যাতে রাস্তা পারাপার না হয়। “এবিষয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মাইকিং করা হবে। তারপরও যদি কেউ ঝুঁকি নিয়ে পারপার হয়। সেক্ষেত্রে আমরা মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজার ব্যবস্থাও করব।”
ঢাকা শহরকে ‘রিকশার শহর’ উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, জেলায় যেসব রিকশার রেজিস্ট্রেশন হয়েছে সেসব রিকশা ঢাকা শহরে চলে আসছে। যে কারণে যানজট হচ্ছে ও শৃঙ্খলা বিনষ্ট হচ্ছে।“আমরা ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ঢাকা শহরের রেজিস্ট্রেশনভুক্ত নয়। এমন রিকশা জব্দ করবো। সেসব রিকশাকে চলতে দেওয়া হবে না।” যেসব গাড়ি বিশেষ সুবিধা আদায়ের জন্য অবৈধভাবে পতাকা ব্যবহার করে, তাদের পতাকা নামিয়ে ফেলার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। না হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মোটরসাইকেলে তিনজন যাত্রী উঠতে পারবেন না। যাত্রীকে অবশ্যই হেলমেট পরতে হবে। তিনি জানান, রিকশার শৃঙ্খলা আনার জন্য ঢাকা শহরের নিবন্ধন নেই-এমন রিকশা চলতে দেওয়া হবে না। বাসের মধ্যে চালকের মোবাইল নম্বর ও ছবি টাঙিয়ে রাখতে হবে। বাসের চালকদের চুক্তি ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া যাবে না, বেতনভুক্ত করতে হবে। প্রত্যেক চালককে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখার আহ্বান জানান তিনি।
ট্রাফিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের চাপ বা প্রভাব বিবেচনা করা হবে না জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ হবে। আইন না মানাই আইনে পরিণত হয়েছে। এটা এক দিনে তৈরি হয়নি। এটা ভাঙতে সময় লাগবে। তিনি সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
দখল হওয়া ফুটপাত মুক্ত করার বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজউক ও সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বসে ঢাকার বিভিন্ন দখল হওয়া ফুটপাত উদ্ধার করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, গুজব ছড়িয়ে যাঁরা সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ