ঢাকা, বুধবার 5 September 2018, ২১ ভাদ্র ১৪২৫, ২৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সংসদ ভাঙ্গবে না এমপিদেরও কোনও পাওয়ার থাকবে না -ওবায়দুল কাদের

স্টাফ রিপোর্টার: ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ বর্তমান ১০ম সংসদের ২২তম অধিবেশনে (৯ সেপ্টেম্বর শুরু হবে) পাস হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়ে বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে তিনি একথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পাস হওয়ার আগে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে অনুমোদন পাওয়া এই আইনটি আরও যাচাই-বাছাই করার সুযোগ রয়েছে। সংসদে উপস্থাপনের পরেও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আরও যাচাই-বাছাই হবে। সুতরাং মনে করার কোনও কারণ নেই যে মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদন হওয়া মানেই চূড়ান্ত অনুমোদন হয়ে গেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আমি স্যালুট করি, যে তারা এই বিষয়টি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল। যে কারণে আইনটি আলোর মুখ দেখেছে।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংসদের ২২তম অধিবেশনই হবে ১০ম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশন। এরপর সংসদের আর কোনও অধিবেশন বসবে না। তবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত এই সংসদ ভাঙবে না। এমপিদেরও কোনও পাওয়ার থাকবে না।’
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘রাজনৈতিক নেতাদের মদদ থাকার কারণেই সড়ক ও মহাসড়ক থেকে ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনগুলো বন্ধ করা যাচ্ছে না। সড়ক ও মহাসড়কে দুর্ঘটনার জন্য এসব থ্রি হুইলার যানবাহনও অন্যতম দায়ী।
 সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ছাত্রদের আন্দোলনের কারণেই আমরা সড়ক পরিবহন আইনটি দ্রুত করতে বাধ্য হয়েছি। ছাত্র আন্দোলনের এটি অবশ্যই একটি ভালো দিক। সংসদের আগামী অধিবেশনেই আশা করছি আইনটি পাস হবে। আইনটি কার্যকর হলে সড়ক মহাসড়কে দুর্ঘটনা অনেক কমে আসবে। চালক, মালিক ও শ্রমিকরা আরো বেশি সচেতন হবে।’
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘সড়ক- মহাসড়ক ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে শুধু আইন করলেই হবে না। আইন মানার প্রতি সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আমাদের দেশের লোকগুলোই যখন বিদেশে যায় তখন শতভাগ আইন মেনে চলে। কিন্তু দেশে আইন মানার বিষয়ে আমাদের অনেক অনীহা। কাজেই আইন প্রয়োগের উপযুক্ত পরিবেশও তৈরি করতে হবে।’
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘আইনে সর্বোচ্চ সাজা ১০ বছর করলে আইনটি টেকসই হবে।’ আইনটি পাস করার আগে এটি নিয়ে আরো যাচাই বাছাই করার পরামর্শ দেন ইলিয়াস কাঞ্চন। মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বক্তব্য দেয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ