ঢাকা, বুধবার 5 September 2018, ২১ ভাদ্র ১৪২৫, ২৪ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শহিদুলের জামিন আবেদন শুনতে বিব্রত হাইকোর্ট বেঞ্চ

স্টাফ রিপোর্টার: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় আলোকচিত্রী ও দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলমের জামিন আবেদন শুনতে বিব্রত বোধ করেছে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ।
গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে জামিন আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হলে সিনিয়র বিচারক বলেন, আদালত বিষয়টি শুনতে বিব্রত বোধ করছে।
আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সারা হোসেন, শাহদিন মালিক ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়।
পরে সারা হোসেন বলেন, আমি জানতে চেয়েছিলাম, বিষয়টি কয়েকদিন কার্যতালিকায় থাকার পর আজ (মঙ্গলবার) কেন বিব্রত বোধ করছেন? আদালত বিব্রত বোধ করার কারণ বলেননি। এভাবে বিব্রত বোধ করা সত্যিই অস্বাভাবিক।
তিনি বলেন, আমরা আজ (মঙ্গলবার) আদালতের কাছে বলেছি, আমাদের যে জামিন আবেদনটি আছে সেটি শুনানি করা হোক। সিদ্ধান্ত কী হবে সেটা আদালতের ব্যাপার। আমরা শুনানির সুযোগ চাই। এটা প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। আমরা কারণ জানতে চেয়েছি কেন আমাদের আবেদন শোনা হবে না। পাঁচদিন ধরে আমাদের আবেদনটি কার্যতালিকায় রয়েছে। কোনো না কোনো কারণে শুনানি করা যায়নি। এক পর্যায়ে আমাদের বলা হল, বাস্তবতা আমাদের বুঝতে হবে। আমরা তখন আদালতে বলেছি, বাস্তবতা কি এটাই যে, একজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজানো যাবে, তাকে আটকে রাখা হবে। তার জামিন চাইতেই দেওয়া হবে না, এটাই কি আমাদের বাস্তবতা?
এই আইনজীবী বলেন, আমি জানি সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিককে তার অধিকারের সুরক্ষা পেতে এই আদালতে আসতে হবে। এখানে আসার পর যদি ফিরিয়ে দেয়া হয় তাহলে কোথায় যাব সেটা আমরা বুঝতে পারছি না। এখন নিয়ম অনুযায়ী আবেদনটি প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। তিনি জামিন আবেদনটি শুনানির জন্য নতুন একটি বেঞ্চে পাঠাবেন। নতুন বেঞ্চে যেন দ্রুত শুনানি হয় সে জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করা হবে বলে জানান সারা হোসেন।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গত ৫ অগাস্ট রাতে পুলিশ দৃক গ্যালারি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা শহিদুলকে গ্রেপ্তার করে। পরে ‘উসকানিমূলক ও মিথ্যা’ অপপ্রচারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এ মামলা করে পুলিশ।
ঢাকার হাকিম আদালত শহিদুলের জামিন আবেদন নাকচ করে দিলে তার আইনজীবীরা ১৪ আগস্ট মহানগর দায়রা জজ আদালতে যান। বিচারক আবেদনটি ১১ সেপ্টেম্বর শুনানির জন্য রাখলে তারা শুনানির তারিখ এগিয়ে আনার জন্য আরেকটি আবেদন করেন।
কিন্তু বিচারক তা গ্রহণ না করলে ২৬ অগাস্ট শহিদুল আলমের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন চেয়ে ওই আদালতেই ফের আবেদন করা হয়। আদালত তা শুনানির জন্য গ্রহণ না করায় গত ২৮ অগাস্ট শহিদুলের জামিন আবেদন নিয়ে তার আইনজীবীরা হাই কোর্টে আসেন।
কয়েক দিন আটকে থাকার পর গত সোমবার আবেদনটি বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের বেঞ্চের কার্য তালিকায় আসে। কিন্তু ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায় সময়ের আবেদন করে আদালতকে বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল নিজেই এ শুনানিতে থাকতে চান।
এরপর আদালত বিষয়টি গতকাল মঙ্গলবার শুনানির জন্য রাখে। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার আদালত বিব্রত বোধ করায় শহিদুলের জামিন শুনানি আরও পিছিয়ে গেল।
হাইকোর্টের একটি বেঞ্চের বিব্রত হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় শহিদুল আলমের বিষয়টি খাটো করে দেখার উপায় নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেছেন, তিনি (শহিদুল আলম) আন্তর্জাতিকভাবে বহু লোকের সঙ্গে কানেক্টেড (সংযুক্ত)। ফেসবুক থেকে যদি একটি লাইভ পোস্ট করা হয় এবং যেখানে বিষয়টি স্পর্শকাতর, মিথ্যা ও উসকানিমূলক বিষয় হয়, তবে এটাকে তো খাটো করে দেখার উপায় নেই।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তার মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত ছিল। সকালে যখন তাদের আইনজীবী আবেদনটি শুনানির জন্য মেনশন করেছেন তখন বিচারপতি দু’জনের মধ্যে একজন বিব্রতবোধ করেছেন। ফলে মামলাটি শুনানি হয়নি। এ মামলাটি ও মামলার নথিপত্র এখন প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। প্রধান বিচারপতি আবার অন্য কোনো বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য নির্ধারণ করবেন।
বিব্রতের কারণ নিয়ে তিনি বলেন, বিব্রতের বিষয়ে আদালত কিছুই বলেননি। আমাদের কোর্টের মেটার অব প্রাকটিস অনুসারে বিব্রতের কারণ কখনো বলা হয় না বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ