ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 September 2018, ২২ ভাদ্র ১৪২৫, ২৫ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কাতার ছাড়তে নিয়োগকর্তার অনুমতি লাগবে না বেশিরভাগ বিদেশি শ্রমিকের

৫ সেপ্টেম্বর, রয়টার্স : মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার ছাড়তে বেশিরভাগ বিদেশি শ্রমিককেই এখন থেকে আর নিয়োগকর্তা বা চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া লাগবে না বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসনিক উন্নয়ন, শ্রম ও সামাজিক মন্ত্রণালয়।

শ্রম অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবিতে সাড়া দিয়ে মঙ্গলবার উপসাগরীয় দেশটি তাদের বাসস্থান আইন সংশোধন করে অভিবাসী শ্রমিকদের কাতার ছাড়ার উপায় আরও সহজ করল।

তবে সব শ্রমিকের জন্য এ সুযোগ থাকছে না। নিয়োগকর্তারা চাইলে সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত বিদেশি শ্রমিকের দেশ ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তের এখতিয়ার নিজেদের কাছে রাখতে পারবে।

যাদের অনুমতি নেওয়া লাগবে তাদের নাম এবং ‘কী কাজের ভিত্তিতে তাদের দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়োগকর্তার কাছে থাকবে’ সরকারকে তা জানাতে হবে বলেও মঙ্গলবার জানিয়েছেন দেশটির প্রশাসনিক উন্নয়ন, শ্রম ও সামাজিক বিষয়ক মন্ত্রী ইসা আল-নুয়াইমি।

শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বাসস্থান আইনে শ্রমিকের দেশ ছাড়ার ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তার অনুমতিপত্রের বিধান বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ২০২২ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির মধ্যেই দোহা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা শ্রমিক শোষণের অভিযোগ মোকাবেলার পাশাপাশি সমৃদ্ধি ও উন্নতির চিত্র তুলে ধরতে যেসব তৎপরতা শুরু করেছে বাসস্থান আইনের বিধান সংশোধন তারই ধারাবাহিকতা।

নতুন আইনে কর্মরত বেশিরভাগ বিদেশি শ্রমিকই তাদের চাকরিদাতা বা নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমতি ছাড়াই কাতার ছাড়তে পারবেন বলে মঙ্গলবারের বিবৃতিতে জানান ইসা।

বিদেশি শ্রমিকদের দেশ ছাড়ার ব্যবস্থাপনা সহজ করাসহ শ্রম আইন সংস্কারের প্রতিশ্রুতি গত বছরই দিয়েছিল দোহা। তার ধারাবাহিকতায় নতুন এ ঘোষণাকে গ্যাস-সমৃদ্ধ কাতারের জন্য ‘উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও।

 “১৩ নম্বর আইনটি প্রণয়ন করায় স্বাগত জানাচ্ছে আইএলও, যা কাতারের অভিবাসী শ্রমিকদের জীবনযাত্রায় সরাসরি ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে,” বলেন চলতি বছরের এপ্রিলে দোহায় স্থাপিত শ্রম সংস্থাটির কার্যালয় প্রধান হুতান হুমায়ুনপুর।

শ্রম ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের মতো কাতারের ‘কাফালা’ পৃষ্ঠপোষক ব্যবস্থাপনার তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল।

 দেশটির ১৬ লাখ বিদেশি শ্রমিকের বেশিরভাগই এশিয়ান। দেশ ছাড়ে সুযোগ মিললেও কাতারে চাকরি বদলাতে অভিবাসী শ্রমিকদের এখনো নিয়োগকর্তার সম্মতি নেওয়ার বিধান বলবৎ থাকছে। এ বিধানের ফলে বিদেশি শ্রমিকদের ওপর নিপীড়ন চালানোর সুযোগ উন্মুক্ত থাকে বলে অভিযোগ মানবাধিকার সংস্থাগুলোর।  

 

ন্যূনতম মজুরি ও শ্রমিকদের নালিশ জানানোর সুযোগ করে দেওয়াসহ শ্রমিকবান্ধব আরও কিছু সংস্কারের প্রতিশ্রুতিও আছে কাতারের সরকারের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ