ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 September 2018, ২২ ভাদ্র ১৪২৫, ২৫ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দুধ কারখানা ও সুতা প্রসেসিং বর্জ্যে দূষিত শাহজাদপুরের নদী ও খালের পানি

শাহজাদপুরের পোরজনা হুরাসাগর নদীর তীরে একটি দুধ ছানা তৈরির কারখানা -সংগ্রাম

এম,এ,জাফর লিটন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) থেকে : শাহজাদপুর শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী করতোয়া, হুরাসাগর, বড়াল নদীর পানি দুধের ছানা তৈরির কারখানার নির্গত পানি ও সুতা প্রসেসিং বর্জ্যে দূষিত হয়ে উঠেছে। সুতা রং করা বিষাক্ত পানির নির্গত বর্জ্যে নদীর মাছ যেমন মারা যাচ্ছে ঠিক তেমনিভাবে নদীতে গোসল করা নারীÑপুরুষ, শিশুর শরীরে নানা রকম চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে শাহজাদপুরের সুশিল সমাজ ও সচেতন মহল দারুণ উদ্বীগ্ন। সরেজমিন ঘুরে করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত করতোয়া সেতুর উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তের বেশ কয়েকটি তাঁত শিল্প কারখানার সুতা প্রসেসিং বর্জ্য নিয়মিতভাবে পাইপ দিয়ে করতোয়া নদীতে ফেলার দৃশ্য লক্ষ করা গেছে। সুতা রং করা নানা ক্যামিক্যালের বিষাক্ত বর্জ্য দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে প্রকাশ্যে পাইপ স্থাপন করে নদীতে ফেলে পরিবেশ দূষণ করলেও যেন কোন প্রতিকার ছিলনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তাই তো দেখার কেউ না থাকায় সহসাই বন্ধ হচ্ছেনা বিষাক্ত বর্জ্য ফেলার কাজ।
এ ছাড়াও উপজেলার হুরাসাগর, বড়াল নদীর তীরে গড়ে উঠা বিভিন্ন দুধের ছানা তৈরির কারখানার নির্গত টক পানি পাইপ দিয়ে নদী ও খালের পানির সাথে মেশানো হচ্ছে। ফলে মুহুর্তেই পানি কালো রঙ ধারণ করে দুঃসহ গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিশেষ করে পোরজনা, চিথুলিয়া, জামিরতা, উল্টাডাব, ডায়া, রতনকান্দী, বাঘাবাড়ীতে গড়ে উঠা ছানা তৈরির কারখানা এসব নদ-নদী ছাড়াও পুকুর খালের পানিতে মারাত্মক দূষিত করছে। সাধারণ মানুষ ছানার পানির দূর্গন্ধে বাড়ীতে বসবাস করতে পারছেনা। নদীর চলন্ত পানিতে নদীর তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন গোসল করাসহ এর পানি দিয়ে বিভিন্ন কাজ করছে। নদীতে গোসল করার কারণে নানা রকম পানি বাহিত রোগ যেমনটা মানুষকে তেমিন জেলেরা আশানুরুপ মাছ পাচ্ছেনা নদীতে। মাঝে মধ্যেই জেলেদের জালে রোগাক্রান্ত মাছ ধরা পড়ছে। এসব রোগাক্রান্ত মাছ খেয়েও অসুস্থ হয়ে পড়ছে মানুষ। যার ফলে দ্রুত নদীর চলন্ত পানিতে মিলের বিষাক্ত নির্গত বর্জ্য ফেলাবন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল। পরিবেশবিদরাও এটাকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকী বলে উল্লেখ করেছেন। নদী তীরবর্তী দু পাড়ের হাজার হাজার মানুষের প্রাণের দাবী সূতা প্রসেসিং বর্জ্য যেন নদীর পানিকে আর বিষাক্ত করতে না পারে। নদীর জীব বৈচিত্র মাছ সহ সকল প্রাণীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। তাছাড়া নদী তীরবর্তী তাঁত শিল্প কারখানার মালিকগণ প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছেনা সাধারণ মানুষও। এজন্য জনস্বাস্থ্যের স্বাথে কর্তৃপক্ষকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসেইন খাঁন জানান, যেহুতু অভিযোগ পাওয়া গেছে তাই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। করতোয়া নদীর পানি দূষণ রোধ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ