ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 September 2018, ২২ ভাদ্র ১৪২৫, ২৫ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

গণতন্ত্র শক্ত বলেই মানুষের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত হচ্ছে -প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নতুন সংযোজিত বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজের উদ্বোধন করেন -পিআইডি

# নতুন বিমান আকাশবীণা’র উদ্বোধন
স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সাম্প্রতিক সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ায় এটাই প্রমাণিত হয়, দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রয়েছে এবং গণতন্ত্র শক্ত ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, জনগণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে নিজস্ব পছন্দের প্রার্থী, সরকারি ও বিরোধীদলীয় সদস্যকে অবাধে ভোট দিতে পেরেছে। প্রত্যেক এলাকার মানুষ অবাধে তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
গতকাল বুধবার সকালে গণভবনে রাজশাহী ও সিলেটের নবনির্বাচিত মেয়র এবং কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজশাহীর মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর শপথবাক্য পাঠ করান এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন কাউন্সিলরদের শপথবাক্য পাঠ করান। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব জাফর আহমেদ খান শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং রাজশাহী ও সিলেটের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র, ৪০ জন কাউন্সিলর এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও ৩৬ জন কাউন্সিলর এ বছর ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নির্বাচিত হন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আর সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় ছিল বলেই এই উন্নয়ন সম্ভবপর হয়েছে।
জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর সরকারের লড়াই-সংগ্রামের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তারা তাদের ইচ্ছেমতো প্রার্থীকে নির্বাচিত করার সুযোগ পাচ্ছে।
একটি দেশের উন্নয়নে দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা বজায় থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, গত ১০ বছর দেশে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় ছিল বলেই বাংলাদেশ প্রতিটি ক্ষেত্রে বিস্ময়কর উন্নয়ন সাধিত করেছে।
 দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ দেশে দিনবদলের অঙ্গীকার নিয়েই তাঁর সরকার ২০০৯ সালে সরকার গঠন করে। আজ আপনারা সেই দিনবদল নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন, জনগণ ক্ষুধা থেকে মুক্তি পেয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ এবং এই উন্নয়নের ধারাকে টেকসই রূপ দিতে তাঁর সরকার ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’ নামে আগামী একশ বছরের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
সিলেটে একটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তাঁর সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার কখনই কোনো রাজনৈতিক ভিত্তিতে স্থানীয় সরকারের বাজেট বরাদ্দ করে না।
অতীতে তাঁর সরকার রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের জন্য ব্যাপক বরাদ্দ প্রদান করেছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, কে কোন দলের মেয়র, সেটা চিন্তা না করে জনগণের কল্যাণের কথাটাই সরকার আগে চিন্তা করে।
‘ ভোট জনগণের সাংবিধানিক অধিকার আর এই সাংবিধানিক অধিকারের যথাযথ প্রয়োগের ওপরই গণতন্ত্র নির্ভরশীল। আর আমরা জনগণের এই অধিকারকে সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর এবং যেকোনো মূল্যেই তাদের এই অধিকারকে রক্ষা করা হবে।’
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা জনগণের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করবেন আশাবাদ ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শুধু নিজেদের সম্পদ গড়ে তোলায় মনোনিবেশ করলেই চলবে না, জনগণ কীভাবে সম্পদশালী হতে পারে সেদিকেও লক্ষ রেখেই কাজ করতে হবে।
নবনির্বাচিত মেয়র এবং কাউন্সিলরদের সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব রকমের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে সরকার কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি এবং জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস এবং অসামাজিক কর্মকান্ড বরদাশত করবে না।
তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য।’
আকাশবীণা’র উদ্বোধন :
এদিকে গতকাল বুধবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে নতুন সংযুক্ত বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ‘আকাশবীণা’র উদ্বোধন করার পর  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঢাকায় তৃতীয় টার্মিনাল এবং কক্সবাজারের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরকে আধুনিক করা হবে।  দেশের সুনাম অক্ষুণœ রাখতে বিমানের সেবার মান আরো বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের উন্নয়নে সবার সহযোগিতা চান তিনি।
গত ১৯ আগস্ট বিকাল ৫টা ১৯ মিনিটে ঢাকায় এসে পৌঁছায় আমেরিকায় তৈরি বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমান ‘আকাশবীণা’।
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল পেনফিল্ড থেকে কোনও যাত্রাবিরতি ছাড়াই টানা সাড়ে ১৪ ঘণ্টা উড়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিজি-২৮০১ ফ্লাইটটি। ওয়াটার ক্যানন স্যালুটের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয় এই আকাশযানকে।
এর আগে সিয়াটলে বোয়িং ফ্যাক্টরি থেকে ড্রিমলাইনার বিমানটি গ্রহণ করেন বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান এয়ার মার্শাল (অব.) ইনামুল বারীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল।
আকাশবীণার মধ্য দিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বাইরের উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৫টিতে।
নতুন এ উড়োজাহাজের আসন সংখ্যা ২৭১টি। এরমধ্যে বিজনেস ক্লাস ২৪টি আর ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস। বিজনেস ক্লাসের আসনগুলো বানিয়েছে অ্যাসটেলা। আর ইকোনমি ক্লাসের আসনগুলো হেইকোর বানানো।
বিজনেস ক্লাসে ২৪টি আসন ১৮০ ডিগ্রি পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড হওয়ায় যাত্রীরা আরামদায়কভাবে ভ্রমণ করতে পারবেন। দু’পাশের প্রত্যেক আসনের পাশে রয়েছে বড় আকারের জানালা।
একই সঙ্গে জানালার বোতাম টিপে আলো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। জানালা থেকে শুরু করে কেবিনেও রয়েছে মুড লাইট সিস্টেম।
ফলে যাত্রীরা সহজেই পরিবর্তন করতে পারবেন লাইটিং মুড। দীর্ঘ সময় ভ্রমণেও যাত্রীরা যেন ক্লান্তি অনুভব না করেন সেজন্য এর ভেতরে এয়ার কম্প্রেসার সিস্টেম অন্যান্য বিমানের তুলনায় উন্নত।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আরো লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে বিদেশী এবং স্থানীয় যাত্রীসাধারণ সেই সাথে প্রবাসী বাংলাদেশেরীরা দ্রুত ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে তাদের মালপত্র নিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পাদন করতে হবে।’ তিনি এ সময় বিমান কতৃর্পক্ষকে নিরাপত্তার বিষয়টিতেও আরো গুরুত্বারোপ করার আহবান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ