ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 September 2018, ২২ ভাদ্র ১৪২৫, ২৫ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

দুবাইয়ে অর্থ পাচারের অভিযোগে ৫ ব্যবসায়ীকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ

স্টাফ রিপোর্টার : অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দুবাইয়ে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ৫ ব্যবসায়ীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের প্রধান কার্যালয়ে গতকাল বুধবার সকাল থেকে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন সংস্থার পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন ও সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান।
যাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, তাঁরা হলেন আরএকে পেইন্টসের পরিচালক কামার উজ্জামান, রোজা প্রোপার্টিজের পরিচালক আশফাক উদ্দিন আহমেদ, আরএকে কনজ্যুমার প্রোডাক্টসের পরিচালক মো. আমির হোসাইন ও এম এ মালেক এবং আরএকে সিরামিকসের স্বতন্ত্র পরিচালক ফাহিমুল হক।
একই ঘটনায় গতকাল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হলেও বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক আলী ফালু, আরএকে পেইন্টসের পরিচালক শায়লিন জামান আকবর, আরএকে পাওয়ার লিমিটেডের পরিচালক মো. মাকসুদুল ইসলাম এবং স্টার সিরামিকসের পরিচালক প্রতিমা সরকার সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। দুদক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গত সোমবার এই নয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে চিঠি পাঠায় দুদক। এর আগেও মোসাদ্দেক আলী ফালুকে গত ১৪ আগস্ট তলব করা হলে তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠানের কোম্পানি সচিবের মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেন।
সূত্র জানায়, এর আগে গত ২ আগস্ট মোসাদ্দেক আলী ফালুসহ নয়জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইমিগ্রেশনে চিঠি পাঠায় দুদক। চিঠিতে বলা হয়, ওই নয়জনের বিরুদ্ধে আট মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের প্রায় ৬৫ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৮২ টাকা হিসাবে) দুবাইয়ে পাচার করে অফশোর কোম্পানি খুলে বিনিয়োগ, দুবাইয়ে আরও শত কোটি টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানেও এর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
দুদক বিশ্বস্ত সূত্রে জেনেছে, এসব ব্যক্তি দেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তাই তাঁরা যাতে দেশ ছেড়ে অন্য দেশে চলে যেতে না পারেন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দুদকের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়।
যাঁদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়, তাঁরা হলেন বিএনপির নেতা ও সাবেক সাংসদ মোসাদ্দেক আলী ফালু, আরএকে পেইন্টস ও আশালয় হাউজিংয়ের পরিচালক এস এ কে একরামুজ্জামান, তাঁর ছেলে এবং আরএকে পেইন্টস ও আরএকে কনজ্যুমার প্রোডাক্টসের পরিচালক কামার উজ জামান, ঝুলপার বাংলাদেশ লিমিটেড ও রাকিন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির পরিচালক সৈয়দ এ কে আনোয়ারুজ্জামান, আরএকে পাওয়ার লিমিটেডের পরিচালক মাকসুদুল করিম, আরএকে কনজ্যুমার প্রোডাক্টসের দুই পরিচালক মোহাম্মদ আমির হোসেন ও এম এ মালেক, রোজা প্রোপার্টিজের পরিচালক আশফাক উদ্দিন আহমেদ এবং আরএকে পেইন্টস ও আরএকে ক্যাপিটাল লিমিটেডের পরিচালক শায়লিন জামান আকবর।
দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি দল এ অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে। দলের আরেক সদস্য হলেন সহকারী পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ