ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 September 2018, ২২ ভাদ্র ১৪২৫, ২৫ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

উন্নয়নের কিংবদন্তি সাইফুর রহমানকে ভুলে গেছে সিলেট বিএনপি

কবির আহমদ, সিলেট : সাইফুর রহমান মানেই বৃহত্তর সিলেটের উন্নয়ন, সাইফুর রহমান মানেই নতুন বিশ^বিদ্যালয় স্থাপন করা, সাইফুর রহমান মানেই শিক্ষার অভূতপূর্ব উন্নয়ন, সাইফুর রহমান মানেই রাস্তাঘাট, বড় বড় ব্রিজ কালভার্টের উন্নয়ন। উন্নয়নের কিংবদন্তি তৎকালীন ৪ দলীয় দলীয় জোট সরকারের সফল অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী সিলেটের উন্নয়নের রূপকার এম সাইফুর রহমানকে ভুলে গেছে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি। নবম মৃত্যুবার্ষিকীতে এই সফল অর্থনীতিবিদের স্বপ্নের নগরী প্রবাসী অধ্যুষিত আধ্যাত্মিক নগরী নামে খ্যাত সিলেটে নেই কোনো কর্মসূচি। অবশ্য বিএনপির অঙ্গসংগঠন ও জেলা বিএনপি দরগায়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) মসজিদ প্রাঙ্গণে গতকাল বুধবার বাদ আসর মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে দায়সারা কর্মসূচি দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন নেতৃবৃন্দ। কোটি জনতার মাথার মুকুট এম সাইফুর রহমানকে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা ভুলে যায়নি সিলেটের সাধারণ জনগণ। ৪ দলীয় জোট সরকারের সময় দেখা যেত তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন কাজ আদায় করার জন্য দিন-রাত তার পিছনে ছুটছেন নেতারা। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী পালন না করে কাজেই দোহাই দিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন বিএনপির সিলেটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। আজকের এই কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে সিলেটবাসীর কাছে। অবশ্য সফল এই অর্থমন্ত্রীর জন্মস্থান মৌলভীবাজারে পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে গতকাল পালিত হয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে।
সিলেটে বিএনপিকে মানুষের মনে গেঁথে দিতে যে ক’জন ব্যক্তি নিরলস কাজ করেছেন। বিভিন্ন সরকারের মেয়াদে উন্নয়নে অবহেলিত থাকা সিলেটে উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিয়েছিলেন যে ব্যক্তি তিনি এম সাইফুর রহমান। শ্রদ্ধা ভরে সিলেটের আপামর জনগণ বছরের পর বছর তাঁকে মনে রাখবে। গতকাল বুধবার ছিল সেই কীর্তিমানের নবম মৃত্যুবার্ষিকী। সিলেটবাসীসহ গোটা বিএনপি পরিবারের জন্য এটি বেদনাবিধুর দিন, শোকের দিন, সজ্জন নির্বিবাদী একজন ব্যক্তিত্ব হারানোর দিন। কেননা মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা তাঁকে এ দিনে দেয়নি স্বাভাবিক মৃত্যুর সুযোগ।
নবম মৃত্যুবার্ষিকীতে অনেকটা নিরব সিলেট বিএনপি পরিবার। শুধুমাত্র মিলাদ ও দোয়া মাহফিলেই আটকে আছে সিলেট জেলা বিএনপির কর্মসূচি। অথচ বিগতদিনগুলোতে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির উদ্যোগে মরহুম এই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়োজন করা হতো স্মরণসভা। তাঁর জীবন ও কর্মের উপর আলোচনায় ঢাকা থেকে এসে যোগ দিতেন সাবেক মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। কিন্তু এবার এ ব্যতিক্রম ঘটায় হতাশ হয়েছেন বৃহত্তর সিলেটের কোটি জনতা। সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন গতকাল বুধবার দৈনিক সংগ্রামকে জানান, একটি কাজে তিনিসহ নেতৃবৃন্দ ঢাকায় অবস্থান করছেন, এ জন্য কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করেনি নগর বিএনপি।
মরহুম অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান মানেই সিলেটবাসীর প্রাণ। এই সিলেটের মাটি ও ম্নাুষের নেতা ছিলেন তিনি। সিলেটকে নিয়ে তাঁর স্বপ্নের শেষ ছিল না। বিভিন্ন জেলার উন্নয়নের ফাইল তাঁর টেবিলে গেলে খুঁজতেন সিলেটের ফাইল কোথায় আছে। তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সিলেট জেলা বিএনপি ও সিলেট জেলা ও মহানগর জাসাস এবং শ্রমিকদল বিভিন্ন কর্মসূচির উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারান্তরীণ থাকার কারণে এবং গতকাল তাঁকে আদালতে তার শুনানীর দিন থাকার কারণে সিলেট বিএনপি শুধুমাত্র মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এ অজুহাতের কথাগুলো মানতে নারাজ সিলেটবাসী।
অন্যদিকে সাইফুর রহমানের ঘনিষ্টজন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ৪র্থ সিসিক নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচিত হয়ে রাজধানীতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কারণে সিলেটে অনুপস্থিত আছেন। তিনি সাইফুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী সাইফুর রহমান স্মৃতি সংসদের ব্যানারে আয়োজন করে থাকেন আলোচনা সভা। পাশাপাশি যান মৌলভীবাজারের বাহারমর্দনে সাইফুরের কবরস্থানে কবর জিয়ারত ও ফাতেহা পাঠ করার জন্য, এবারও সেটি হয়নি।
তবে সিটি কর্পোরেশনের গণসংযোগ কর্মকর্তা শাহাব উদ্দিন শিহাব দৈনিক সংগ্রামকে জানিয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন ঢাকা থেকে ফেরার পথে মৌলভীবাজারে স্বপরিবারে বাহারমর্দনে এম সাইফুর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে সেখানে যোগ দিবেন পুন:নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এরপরে সিলেট ফিরে সাইফুর স্মৃতি সংসদের ব্যানারে স্মরণসভারও আয়োজন করবেন তিনি।
উল্লেখ্য ২০০৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এই দিনে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন মহান জাতীয় সংসদের এক নাগারে ১২ বার বাজেট উপস্থাপনকারী উন্নয়নের মহানায়ক এম. সাইফুর রহমান। তাঁর কর্মময় জীবনে তাঁর অনন্য গুণে মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়ে ছিলেন। মৌলভীবাজারের বাহারমর্দনে এলাকাতে জন্ম নেয়া সাইফুর দেশের অন্যতম অর্থমন্ত্রী কর্মে তাঁর অনন্য গুণ তিনি উন্নয়নের যে স্বপ্ন দেখতেন তা বাস্তবায়নও করতেন। এটাই তার অবিচল আস্থা বিশ্বাস আর কাজের প্রতি নিখাঁদ আন্তরিকতা ও কর্তব্যকর্মে দায়িত্বশীলতার নজির। নিজ জন্মস্থান মৌলভীবাজারসহ পুরো সিলেট বিভাগেই রয়েছে তার উন্নয়নের ছোঁয়া।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ