ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 September 2018, ২২ ভাদ্র ১৪২৫, ২৫ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বারবার নয় একদিনের আন্দোলনে সরকার পতনের জন্য প্রস্তুত থাকুন -খন্দকার মাহবুব

গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ইয়ুথ ফোরাম আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, বারবার আন্দোলন নয়, একদিনের আন্দোলনেই সরকারের পতন ঘটাতে হবে এমন আন্দোলনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। বিএনপির আরেক ভাইস-চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে  বলেন, ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় থাকা যাবে না। ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি ২০ দলের সময়। এই দুটি মাসের মধ্যেই বাংলাদেশে ধানের শীষের সরকার ক্ষমতায় আসবে। এর বাইরে কোনো সত্য নেই।
গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশে ইয়ূথ ফোরাম আয়োজিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমানের ১১তম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের উপদেষ্টা সভাপতি সাইদ আহমেদ আসলামের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির আরেক ভাইস-চেয়ারম্যান ও কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু। সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ সাইদুর রহমানের পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির (জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, মেজর (অব.) হানিফ, শাহ আব্দুল্লাহ আল বাকী, মাহমুদুল হাসান শামীম প্রমুখ।
খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে বিতাড়িত করতে হবে। সারাদেশে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করতে শুরু করেছে প্রশাসন। মামলার ভয় না করে আন্দোলনের মাঠে নামার প্রস্তুতি নিতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের শেষ সময় এসে গেছে। তাই তারা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। সরকার নিরাপত্তার কথা বলে খালেদা জিয়ার বিচার ব্যবস্থাকে কারাগারে স্থানান্তর করেছে। সরকার খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো না বলেই তাকে বাইরে বের করছে না। হঠাৎ করে কিসের নিরাপত্তার অযুহাতে সরকার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার কার্যক্রম কারাগারের ভেতর স্থানান্তরিত করল? কারণ, কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন খালেদা জিয়া অসুস্থ। তাকে আদালতে হাজির করা যাবে না। সরকার তাড়াহুড়ো করে খালেদা জিয়াকে অন্য একটি মামলায় সাজা দিতে চাচ্ছে।
সরকার গ্রেনেড হামলা মামলায় পাতানো রায়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সাজা দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উত্তপ্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করেন বিএনপির সিনিয়র এই আইনজীবী। দলের নেতাকর্মীদের গণতান্ত্রিকভাবে জনগণকে নিয়ে আন্দোলন করতে হবে। সরকার হটাতে হবে।
শামসুজ্জামান দুদু বলেন, কোনো ষড়যন্ত্র করেও অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবার ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। যত যাই কিছু করেন না কেন কোনো লাভ হবে না। ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি বিএনপির সময়। ডিসেম্বর এবং জানুয়ারি ২০ দলের সময়। এই দুটি মাসের মধ্যেই বাংলাদেশে ধানের শীষের সরকার ক্ষমতায় আসবে। এর বাইরে কোনো সত্য নেই।
তিনি বলেন, যদি আপনি পদত্যাগ না করেন ভালো কথা। আমরা তখন সেই (পদত্যাগের) ব্যবস্থা করবো। আপনি যেভাবে চাইবেন আমরা সেই ভাবেই খেলবো। একা একা খেলে আপনি জয়লাভ করবেন- এবার আর সেটা হবে না। মাঠে আমরা আছি, আন্দোলনের মাঠেও থাকবো নির্বাচনের মাঠেও থাকবো ইনশাআল্লাহ।
দুদু বলেন, আপনারা ঐক্যবদ্ধ হোন, হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। কিসের কর্মসূচি? কর্মসূচি ছাড়াই আমাদেরকে রাজপথে থাকতে হবে। বিএনপি শহীদ জিয়ার হাতে গড়া দল, যতবার ক্ষমতায় এসেছেন নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। আমরা গণঅভ্যুত্থান করে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় গেছি। বিএনপি আন্দোলন ও নির্বাচনের দল। আগামী দিনে আন্দোলনে জয়লাভ ছাড়া এই দেশে ভালো নির্বাচন হবে না।
অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা জনমনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছেন অভিযোগ করে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ক্ষমতা হারানোর ভয়ে আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদসহ দলটির নেতারা অস্বাভাবিক ভাষায় কথা বলছেন, তারা বলছেন- শেখ হাসিনা পদত্যাগ করলে নাকি আওয়ামী লীগের লক্ষ লক্ষ লোক মারা যাবে। কিন্তু কেন মারা যাবে? বাংলাদেশের মানুষ কি বর্বর নাকি? আপনারা শুধু মৃত্যু দেখেন কেন চোখের সামনে সৃজনশীলতা ও মুক্তিযুদ্ধ দেখতে পান না?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ