ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 September 2018, ২২ ভাদ্র ১৪২৫, ২৫ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

নির্বাচনে জনগণের আস্থা অর্জন জরুরি -স্পীকার

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীতে দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাচন কমিশনের সংগঠন ফোরাম অব ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বডিস অব সাউথ এশিয়ার (ফেমবোসা) দুই দিনব্যাপী সম্মেলন শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এর উদ্বোধন করেন। এ সময় অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনকে গণতন্ত্রের মূলভিত্তি বলে অভিহিত করে তিনি বলেন, এই নির্বাচনে জনগণের আস্থা অর্জন জরুরি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আফগানিস্তানের নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান ও ফেমবোসার চেয়ারম্যান ডা. গোলাজান এ. বাদি সাঈদ সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম (ইলেকট্রনিং ভোটিং মেশিন) জোর করে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।
সম্মেলনে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান ও মালদ্বীপের নির্বাচন কমিশনের মোট ২১ জন প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন এই সম্মেলনে। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ফেমবোসা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিদের উত্তরীয় পরিয়ে দেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে আফগানিস্তানের নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান ও ফেমবোসার বর্তমান চেয়ারম্যান ডা. গোলাজান এ. বাদি সাইদ এবং বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বক্তব্য রাখেন। এর আগে, অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নবম ফেমবোসার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটটির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম ভোট অব থ্যাংকস প্রদান করেন।
সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা, ভুটানের নির্বাচন কমিশন সচিব দাউয়া তানজিন, ভারতের নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসা, মালদ্বীপের রাষ্ট্রদূত এশাথ শান শাকির, নেপালের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডা. আইয়োদী প্রাশাদ জাদেভ, পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার শাহ ফয়সাল কাকার, শ্রীলংকার নির্বাচন কমিশন চেয়ারম্যান মাহিন্দ্রা দেশাপ্রিয়াসহ বাংলাদেশের সাবেক ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত ছিলেন। পরে ফেমবোসার নতুন সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার কাছে সভাপতির দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়।
নির্বাচনে জনগণের আস্থা অর্জন জরুরি: অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনকে গণতন্ত্রের মূলভিত্তি বলে অভিহিত করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হলো সংসদ। সামনে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে জনগণের আস্থা অর্জন জরুরি। আর অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের মূলভিত্তি।
উদ্বোধনী বক্তব্যে স্পিকার বলেন, শক্তিশালী গণতন্ত্র চর্চায় আরপিও ও সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন করতে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন দায়বদ্ধ। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা অন্যতম প্রধান শর্ত। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করাই ফেমবোসা’র মূল লক্ষ্য। স্পিকার আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।
অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: বর্তমান কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে আমরা ভালো ফল পেয়েছি। তাই জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রয়োজনে যেন ইভিএম ব্যবহার করা যায়, সেজন্য আমরা আরপিও সংশোধন করছি। এই সম্মেলনের মাধ্যমে আটটি দেশের নির্বাচন কমিশন পরস্পর আরও বেশি অভিজ্ঞতা আদান-প্রদানে সক্ষম হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জোর করে ইভিএম চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না: জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম (ইলেকট্রনিং ভোটিং মেশিন) জোর করে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা। তিনি বলেন, ইভিএমের জন্য তাড়াহুড়ার কিছু নেই। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে এটি ব্যবহার করে সবার মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন করার পর জাতীয় নির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে ইভিএম ব্যবহার করা যেতে পারে।
 ফেমবোসা সম্মেলন চলাকালে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা ইভিএম চালু করেছিলাম, কিন্তু তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়নি। আমাদের পরের কমিশন এটাকে কোলস্টোরেজের মধ্যে ফেলে রাখলো। আবার এই কমিশন চালু করেছে। আমরা যেটা শুরু করেছিলাম তার ধারবাহিকতা রাখা হলে এখন কোনও অসুবিধা হতো না। তাদের সময় চালু হওয়া ইভিএমের ধারাবাহিকতা থাকলে আজ বিতর্কের জন্ম নিতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইভিএমের মধ্যে কিছু সুবিধা-অসুবিধা থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে মেশিনটা উদ্ভাবন করা হলো তাতে আরো কী কী নিরাপত্তা সংযুক্ত করা যায়, আরও কীভাবে তা উন্নতি করা যায় এবং সমস্ত রাজনৈতিক দল যখন বিশ্বাস আনবে, সবাই যখন বলবে ঠিক আছে, তখনই জাতীয় নির্বাচনে এর ব্যবহার করা উচিত।
ইভিএম কারো ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না মন্তব্য করে শামসুল হুদা আরও বলেন, এত তাড়াহুড়ার কি আছে? তাড়াহুড়ার তো কিছু নেই। এখনও এটি পুরোপুরিভাবে পরীক্ষা করা হয়নি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে আরও ব্যবহার করা উচিত। তারপর সেটা মনিটর করে, তথ্যউপাত্ত সংগ্রহ করে কী হয়েছে, কী সুবিধা-অসুবিধা, যাচাইবাছাই করে নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটিয়ে কারিগরি ব্যবস্থাপনার আরও উন্নয়ন ঘটিয়ে যখন সফলতা আসবে তখনই জাতীয় নির্বাচনে এর ব্যবহার হবে। আর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একসঙ্গে করা ঠিক নয়। পরীক্ষামূলকভাবে করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করার দায়িত্ব মূলত সরকারের। সরকারই এটা করবে। তারা না করতে পারলে এটা অবশ্যই অসুবিধার কথা। কী করলে জনগণ আস্থা অর্জন করতে পারে, সরকারকেই সেই পদক্ষেপ নিতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে বাংলাদেশ থেকে যাত্রা শুরু করে ফেমবোসা। এরপর এই ফোরামের দেশগুলোর নামের আদ্যাক্ষরের ক্রম অনুযায়ী ২০১১ সালে পাকিস্তান, ২০১২ সালে ভারত, ২০১৩ সালে ভুটান, ২০১৪ সালে নেপাল, ২০১৫ সালে  শ্রীলংকা, ২০১৬ সালে মালদ্বীপ ও ২০১৭ সালে আফগানিস্তানে সংস্থাটির বাৎসরিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। দেশের নামের বর্ণক্রমে ঘুরে এসে ২০১৮ সালে বাংলাদেশে নবম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ