ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 September 2018, ২২ ভাদ্র ১৪২৫, ২৫ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জানি আমি ন্যায় বিচার পাব না আপনাদের যা ইচ্ছে রায় দেন

“আমি অসুস্থ। জোর করে আদালতে আনা হয়েছে। ঘন ঘন কোনো হাজিরা দিতে পারবো না।”
“জেলে আদালত বিসানো নিয়ে উভয় পক্ষের তর্ক-বিতর্ক”

স্টাফ রিপোর্টার: পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে অস্থায়ী বিশেষ জজ আদালত স্থানান্তর হওয়ার পরদিনই গতকাল বুধবার জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার শুনানি হয়েছে। শুনানির সময় বিচারক ড. আক্তারুজ্জামানের উদ্দেশ্যে মামলার প্রধান আসামী কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, জজ সাহেবের কাছে কোনো কথা বা নিবেদন করা যায় না। উনি তারিখ দিয়ে উঠে চলে যান। আমাদের কারো কথা শুনেন না। সরকারের হুকুমে এবং নির্দেশে তিনি সব কিছু পরিচালনা করছেন। আমার পায়ে ব্যথা। ডাক্তার আমাকে পা সব সময় উঁচু করে রাখতে বলেছেন। হাতেও প্রচণ্ড ব্যথা। আমাকে জোর করে এখানে আনা হয়েছে। আমি খুবই অসুস্থ। আমি ঘন ঘন কোনো হাজিরা দিতে পারব না। রায় তো লেখাই আছে। আমার হাত-পা প্যারালাইজড হয়ে যাচ্ছে। আমি জানি ন্যায় বিচার পাবো না। আপনাদের যা ইচ্ছা রায় দেন, যত খুশি সাজা দিয়ে দেন।
গতকাল বেলা ১১টা ৭ মিনিটে ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আক্তারুজ্জামান আদালতে প্রবেশ করেন। তার আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে আইনজীবী ও সাংবাদিকরা প্রবেশ করেন। দুপুর ১২টা ১২ মিনিটে খালেদা জিয়াকে একটি হুইল চেয়ারে করে আদালতে আনা হয়। এ সময় খালেদা জিয়ার পরনে ছিল গোলাপী রংয়ের শাড়ি। আর বুক থেকে পা পর্যন্ত সাদা কাপড়ে ঢাকা। এরপর দুপুর ১২টা ২৩ মিনিটে আদালত শুরু হয়ে চলে আধা ঘণ্টারও কম সময়। শুনানি শেষে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামান ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর শুনানির নতুন তারিখ ঠিক করে দেন। যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হলেই এ মামলা রায়ের পর্যায়ে যাবে।
আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে প্রথমে বক্তব্য দেন দুদকের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল। মামলার সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং নতুন করে আদালতের স্থান নির্ধারণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন তিনি। কাজল আদালতকে জানান, এই মামলায় প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। মামলার দুই আসামী জিয়াউল ইসলাম মুন্না ও মনিরুল ইসলাম খানের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্যেই প্রায় ৯ মাস ধরে শুনানি বন্ধ রয়েছে। এই অবস্থায় পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের এই স্থানে অস্থায়ী আদালত ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আসামী খালেদা জিয়ার আইনজীবীর কাছে প্রজ্ঞাপনের কপি পাঠানো হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবেও তাদের ফোন করে জানিয়েছি। এছাড়া মিডিয়ার মাধ্যমে সকলকে অবহিত করা হয়েছে। তবে আসামীপক্ষের আইনজীবীরা এখন আদালতে উপস্থিত নেই।
কাজল এই অবস্থাতেই বিচার কার্যক্রম শুরু করতে আদালতের কাছে আর্জি জানান এবং মুন্না ও মনিরুলের কাছে জানতে চান তাদের আইনজীবীরা কোথায়।
এরপর বিচারক বলেন, যেহেতু তারিখ নির্ধারিত ছিল, আইনজীবীরা উপস্থিত হননি। তাদের উপস্থিত হওয়ার জন্য কোর্ট এক ঘণ্টা মুলতবি করা হচ্ছে।
ঢাকা বারের সভাপতি ও বিএনপিপন্থী আইনজীবী গোলাম মোস্তফা খান এ সময় দাঁড়িয়ে বলেন, প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে রাতে। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা কেউ আদালত স্থানান্তরের বিষয়ে অবহিত নন। এ কারণে তারা সবাই বকশীবাজারের আদালতে গেছেন। আমি একজন অবজারভার হিসাবে এখানে এসেছি। আর আমাদের সবার ফোন বাইরে রেখে দেওয়া হয়েছে। এখান থেকে যোগাযোগ করাও সম্ভব না। একজন অবজারভার হিসাবে আমার মনে হয় তারিখ পেছানোই যৌক্তিক হবে।
আদালতের পরিস্থিতিও ‘বিচার কার্যক্রম শুরুর মত নয়’ মন্তব্য করে গোলাম মোস্তফা বলেন, ৫০ ফুট বাই ২০ ফুটের এই ছোট জায়গার অবস্থাও তেমন ভালো না। আইনজীবীসহ সবার বসার জায়গা সেভাবে নাই। পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে ও জায়গায় বিচার কার্যক্রম চালানো হোক।
বিচারক আখতারুজ্জামান তখন বলেন, প্রজ্ঞাপনতো কালকে জারি হয়েছে। আর মামলার ডেটতো আগেই ছিল। তারিখ পেছাতে হলেওতো আইনজীবীদের পিটিশন লাগবে।
এ সময় কোনো আসামীর আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় এবং ‘যোগাযোগ সম্ভব না’ বলে শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণের কথা বলেন ঢাকা বারের সভাপতি।
তখন খালেদা জিয়া আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, এখানে যে আদালত বসানো হয়েছে এবং প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে, তা আমার আইনজীবীরা জানেন না। এটা জানলে আমি আসতাম না। আদালত পরিবর্তন হলে কমপক্ষে সাতদিন আগে নোটিশ দিতে হয়। তা জানানো হয়নি। তড়িঘড়ি করে বিচারের জন্য এ কারাগারের ভেতরে আদালত বসানোর এ আয়োজন। মাননীয় আদালত, আমি জানি এ আদালতে আমি ন্যায়বিচার পাব না। সরকারের নির্দেশে এ কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। আমি আর এই আদালতে আসব না।
এরপর আইনজীবী গোলাম মোস্তফা এবং কাজলের কিছু বক্তব্য শোনেন বিচারক। পরে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর মামলার শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে তিন আসামীর জামিন বাড়ানোর জন্য আবেদন জমা দিতে বলেন তিনি।
আদালতে কারাগার বসানো উপলক্ষে সকাল থেকে কারাগার এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা নেওয়া হয়। কারাগারের সামনের সড়কে যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারাগারের ফটকের সামনে নিরাপত্তা অন্যান্য দিনের চেয়ে আরো জোরদার করা হয়। গলির মুখে মুখেও ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বন্ধ ছিল ওই এলাকার দোকানপাট।
সকাল থেকে কারাগারের সামনে অবস্থান নেন গণমাধ্যমকর্মী, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও নেতাকর্মীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের গাড়ি।
বিশেষ আদালত ৫-এর কর্মকর্তা তাজুল ইসলাম জানান, আসামী ও বাদীপক্ষের আইনজীবীদের বলে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের ছয়জন করে মোট ১২ জন কারা অভ্যন্তরে বসা আদালতে যেতে পারবেন। ছয়জন আইনজীবীর তালিকা জমা দেওয়ার জন্য আসামীপক্ষের প্রধান আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজলকে বলা হয়েছে।
কারাগারে সাংবাদিকরা যেতে পারবেন। তবে সেখানে কোনো ক্যামেরাপারসন যেতে পারবেন না। সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন রেখে শুধু পরিচয়পত্র (আইডিকার্ড) নিয়ে যেতে পারবেন বলে জানান তাজুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বিকেলে কারা অভ্যন্তরে আদালত বসা নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। তবে একে ‘আইন পরিপন্থী’ বলেছেন খালেদা জিয়ার দল বিএনপি ও তাঁর আইনজীবীরা।
আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালত থেকে নাজিমুদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের কক্ষ নম্বর ৭-কে অস্থায়ী আদালত ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে সেখানেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হবে।
চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় মোট আসামী চারজন। খালেদা জিয়া ছাড়া অভিযুক্ত অপর তিন আসামী হলেন, খালেদা জিয়ার তৎকালীন রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছ চৌধুরীর তৎকালীন একান্ত সচিব জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন মোট ৩২ জন।
২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা করা হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে তিন কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা লেনদেনের অভিযোগে খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক হারুন-অর-রশীদ সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এ মামলায় খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ অন্য আসামীদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া অর্থদণ্ডও করা হয়। রায়ের পর খালেদা জিয়া রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে সাজা ভোগ করছেন।

সাংবিধানিকভাবে কারাগারে আদালত হতে পারে না -জয়নুল
গতকাল বুধবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাকক্ষে কারা আদালতে খালেদা জিয়ার বিচার বিষয়ে করণীয় বিষয়ক রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সুপ্রীমকোর্ট বারের সভাপতি ও খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হুইল চেয়ারে জোর করে হাজির করা হয়েছে। সরকার দেশের আইন-কানুন না মেনে বেআইনিভাবে গেজেট নোটিফিকেশন করেছে।
জয়নুল আবেদীন বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) হঠাৎ করে অন্ধকার কারা ঘরে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিচারের জন্য একটি আদালত গঠন করা হয়েছে। অতীতে আমরা কখনও দেখিনি এবং বাংলাদেশে কেন, পাকিস্তানের ইতিহাসেও নেই যে সাংবিধানিকভাবে কারাগারে কোনও আদালত হতে পারে। যদি দেশে সামরিক শাসন হয় সেক্ষেত্রে যা ইচ্ছা তা করতে পারে। কিন্তু সংবিধান মোতাবেক কারাগারে কোনও আদালত স্থাপন করা যায় না। তার কারণ হলো সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বিচার হতে হবে প্রকাশ্যে এবং জনগণের উপস্থিতিতে। অর্থাৎ যেখানে জনগণের উপস্থিতি থাকবে না, সেখানে বিচার করা যাবে না।
তিনি বলেন, এই সরকার সংবিধান মানে না, দেশের আইন-কানুন মানে না, দেশের বিচার মানে না। সবকিছু না মেনে বেআইনিভাবে গেজেট নোটিফিকেশন করে অসুস্থ ব্যক্তি খালেদা জিয়ার জন্য একটি আদালত করেছে। আমাদের প্রতিনিধি সেখানে গিয়েছে। সেখানে গিয়ে দেখেছে একটি অন্ধকার কূপ, একটি গুহা। চব্বিশ ফুট বাই চব্বিশ ফুট দৈর্ঘ্য-প্রস্থের আদালত কক্ষ। এই অবস্থার মধ্যে একটি আদালত বসিয়েছে এবং খালেদা জিয়া এত অসুস্থ যে তিনি আসতে পারেননি। তবুও তাকে হুইল চেয়ারে করে জোর করে নিয়ে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সংবিধানে আছে জোর করে কাউকে আনা যাবে না, বিশেষ করে অসুস্থ মানুষকে। অথচ খালেদা জিয়াকে জোর করে নিয়ে এসেছে। এ সমস্ত বিষয় নিয়েই আমরা আলোচনা করেছি। দলের মহাসচিব (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) এসেছিলেন এ নিয়ে আমাদের মতামত নেওয়ার জন্য। এখানে অন্য কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। খালেদা জিয়ার জন্য যে আদালত গঠন করা হয়েছে তা আইনগত কিনা, সে বিষয় নিয়েই আমরা আলোচনায় বসেছিলাম। আমরা আলোচনা করেছি। আমরা বলেছি, এই যে আদালত করা হয়েছে, এটা বেআইনি আদালত। তাই এটার পরবর্তী কী পদক্ষেপ হবে সেটা আমরা আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো এবং আপনাদের জানাবো।
ফৌজদারী কার্যবিধির ৯ ধারা অনুসারে কারাগারে খালেদা জিয়ার জন্য আদালত গঠন করা হয়েছে এবং এখানে সংবিধান লঙ্ঘনের কিছুই ঘটেনি আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জয়নুল আবেদীন বলেন, তাহলে কি দেশে এখন সামরিক শাসন চলছে? এটা আইনমন্ত্রী জবাব দেবেন। কর্নেল তাহেরের যখন বিচার হয়েছে তখন দেশে সামরিক আইন ছিল। সেখানে কোনও সাংবিধানিক আইন ছিল না। তাহলে বুঝতে হবে তারা আইন মানে না। আইনমন্ত্রী যদি দেশের আইন না মানেন তাহলে পরে সে দেশে বিচার ব্যবস্থা কীভাবে চলবে?’
‘কারাগারে অস্থায়ী আদালত স্থাপন করায় সংবিধান লঙ্ঘন হয়েছে’ বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার বিকালে এক প্রতিক্রিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সংবিধান মেনেই পুরনো কারাগারে অস্থায়ী আদালত স্থাপন করা হয়েছে। কারগারে আদালত স্থানান্তর করায় সংবিধান লঙ্ঘন হয়নি। নিরাপত্তাজনিত কারণেই পুরনো কারাগারে অস্থায়ী আদালত স্থাপন করা হয়েছে।
ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন খালেদার আইনজীবীরা - এটর্নী জেনারেল
এ আদালত স্থাপনের বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছেন বলে দাবি করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আদালত স্থাপনের ব্যাপারে সরকার যে গেজেট প্রকাশ করেছে সেটা আইন মোতাবেকই করেছে। এর আগে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ব্যাপারে জেলখানার পাশের ভবনকে আদালত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। তখনও সেটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল, কিন্তু লাভ হয়নি। কাজেই আমার মনে হয়, এটা সঠিকভাবে হয়েছে এবং এতে কোনও আইন লঙ্ঘন হয়নি।
মাহবুবে আলম বলেন, সরকার নিরাপত্তার জন্য যেকোনও ব্যবস্থা নিতে পারে। সেক্ষেত্রে তিনি (খালেদা জিয়া) কোনও বিষয় থেকে বঞ্চিত হলেন কিনা সেটা হচ্ছে বড় বিষয়। সেখানে তো বঞ্চিত হওয়ার কোনও কারণ দেখি না। সেখানে গিয়ে তার আইনজীবীরা, আত্মীয়রা অনবরত দেখা করছেন। তার জন্য সেবিকা রাখা হয়েছে। কাজেই তার অধিকার কোনোরকম খর্ব করা হচ্ছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ