ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 September 2018, ২২ ভাদ্র ১৪২৫, ২৫ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশে আড়াই লক্ষাধিক পরিবারে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা

ইবরাহীম খলিল : মালয়েশিয়ায় ধরপাকড় শুরু হওয়ায় জেলের ঘানি টানা থেকে বাঁচতে জরিমানা দিয়ে আগস্টের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফিরেছেন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ছাপিলা গ্রামের শফিকুল ইসলাম। হঠাৎ করেই অবৈধ অভিবাসীদের ব্যাপারে মালয়েশিয়া সরকার অগ্নিমূর্তি ধারণ করায় তার এই চলে আসা। মালয়েশিয়া ফেরত শফিকুল এই প্রতিবেদককে জানান, অবস্থা যা শুরু হয়েছে অবৈধভাবে সেখানে না থাকাটাই হচ্ছে বুদ্ধিমানের কাজ। তিনি জানান, এই অবস্থার মধ্যেও যারা আছেন তারা নিতান্তই অপারগ হয়ে। জমি জিরাত বিক্রি করে দালালকে টাকা দিয়ে অবৈধ পথে গেছেন। তারা দেশে ফিরেই কি করবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না। আমি দেখেছি গ্রেফতারের ভয়ে হাজার হাজার বাংলাদেশী জঙ্গলের ভেতর রাত কাটাতে। অভিযান থেকে বাঁচতে তারা অমানবিক দিন যাপন করছে। পরিবার পরিজনকে উৎকণ্ঠায় রেখেই এখনও তারা সেখানে অবস্থান করছে। তাদের ভবিষৎত অন্ধকার। এরপরও যদি কোনভাবে থেকে যাওয়া যায়। সে আশায় তারা মালয়েশিয়ায় আছেন। আর আমার পরিবারকে উৎকণ্ঠা মুক্ত রাখতেই চলে আসা।
মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসী আটকের অভিযান শুরু হওয়ায় যারা অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় গেছেন কিংবা যাওয়ার পর অবৈধ হয়ে পড়েছেন তাদের প্রত্যেকটি পরিবারের কপালে এখন দুশ্চিন্তার ভাজ। উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন যাচ্ছে। সংখ্যায় হিসেব করলে এই সংখ্যা আড়াই থেকে তিন লক্ষাধিক। এ সংখ্যাটাও অনুমান নির্ভর। বাস্তবে এরচেয়ে বেশি হওয়া কথা। কারণ বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় নানাভাবে লাখ লাখ বাংলাদেশী কর্মসংস্থানের আশায় বিদেশে পারি জমিয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অভিযানে ধরা পড়লে নির্ঘাত জেলে যেতে হবে নইলে দেশে ফিরতে হবে জরিমানা দিয়ে।
দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুকে সেরি মোস্তাফার আলী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আটক অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশীদের সংখ্যা দ্বিতীয় অবস্থানে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে জনশক্তি রফতানি শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় তিন লাখ কর্মী সাগর পথে ঢুকেছেন। এখনও এই ধারা বজায় রয়েছে। এছাড়া ট্যুরিস্ট, ছাত্র ভিসা নিয়েও হাজার হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছে। এসব অবৈধ অভিবাসী মুক্ত করে নতুন করে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ করবে নতুন সরকার।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন,  ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় অবৈধ অভিবাসীদের বৈধকরণ প্রক্রিয়া। এরপর ১৬ সালের ১৫ আগস্ট নিবন্ধনের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর করা হয়। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সর্বশেষ সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়। এই সময় শেষ হওয়ার পরই দেশটির কর্তৃপক্ষ আটক অভিযান শুরু করেছে। এই কর্মসূচীর আওতায় অনেক অবৈধ কর্মী বৈধ হয়েছেন। যারা এ সুযোগ নিতে পারেননি তারা আর দেশটিতে বসবাস করতে পারবেন না। তাদের দেশে ফিরতেই হবে। পুলিশের হাতে আটক হলেও তাদের দেশে  ফিরতে হবে। কারণ অবৈধ কোন কর্মীকে মালয়েশিয়ার কোন কোম্পানি নিয়োগ দিতে পারবে না। যদি কোন মালিক অবৈধ কর্মীদের নিয়োগ দেন তাহলে ওই মালিককেও শাস্তি পেতে হবে। ফলে কোন মালিকই এমন ঝুঁকি নেবেন না। বর্তমানে বৈধ করণ প্রক্রিয়ার সুযোগ না থাকায় মালয়েশিয়া জুড়েই এক যোগে অভিযান চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০ হাজার কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আটকদের ৩০ আগস্টের মধ্যে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরত যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এরপরও যারা থেকে গেছেন তাদের জেল জরিমানার আওতায় নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে মালয়েশিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী মালয়েশিয়ায় অভিবাসন বিষয়ক একটি কোম্পানির কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ৬৫ জন বাংলাদেশী অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছে। একইসঙ্গে সেখান থেকে ৩৭৭ টি পাসপোর্ট জব্দ করেছে মালয় ইমিগ্রেশন পুলিশ। যার মধ্যে ৩শ’৬১ টি বাংলাদেশী পাসেপার্ট। মঙ্গলবার দেশটির বান্ডার বার” নিলাই শহরে এই অভিযান পরিচালিত হয়। কোম্পানিটির মালিক মালয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে শক্ত অবস্থানের কথা জানানো হচ্ছে। এই অভিযান চলছে। এখন সময়ই বলে দিবে অবৈধ অভিবাসীদের কপালে কি আছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ