ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 September 2018, ২২ ভাদ্র ১৪২৫, ২৫ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সরকার ‘নিয়ন্ত্রিত’ জাতীয় নির্বাচন করতে চায়

গতকাল বুধবার ডিআরইউ সাগর-রুনি মিলনায়তনে সুজন আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ড. বদিউল আলম মজুমদার -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় নির্বাচনও নিয়ন্ত্রিত হবে মন্তব্য করে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘বর্তমান কমিশন এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। পাঁচ সিটি নির্বাচন তারা সুষ্ঠু করতে পারেনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছিলেন নির্বাচনে যে অনিয়ম হবে না তা বলা যায় না। তার বক্তব্যেই বোঝা যায় অনিয়ম হবে এমন একটি স্ট্যান্ডার্ড সৃষ্টি হয়েছে। এ নীতি অব্যাহত থাকলে আগামী জাতীয় নির্বাচনও নিয়ন্ত্রিত হবে। সরকার ‘নিয়ন্ত্রিত’ নির্বাচন করতে চায়
গতকাল বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনে কেমন জনপ্রতিনিধি পেলাম’ শীর্ষক সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, হঠাৎ করে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কেনার তোড়জোড় সন্দেহজনক মনে হচ্ছে। সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আর মাত্র দেড় মাস বাকি। এখন ইভিএম কিনে ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় কোথায়?
তিনি বলেন, যে কোনো প্রযুক্তির ব্যবহার সর্ম্পকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল সৃষ্টি করতে বছরের পর বছর সময় লাগে। সেখানে নির্বাচনের মাত্র চার মাস আছে। এখন কিভাবে ইভিএম ব্যবহার করা সম্ভব হবে। নির্বাচনের আগে হঠাৎ করে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম কেনার উদ্যোগকে সন্দেহজনক মনে হচ্ছে।
বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, বর্তমান কমিশনের অধীনে জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। সিইসি বলেছেন যে নির্বাচনে অনিয়ম হবেই। এ কথা বলে তিনি যে স্ট্যান্ডার্ড দাঁড় করিয়েছেন, তাতে আমরা মনে করি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে সব রাজনৈতিক দলকে নিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
তিন সিটি নির্বাচন সম্পর্কে এক লিখিত বক্তব্যে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম বলেন, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে খুলনার নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। খুলনার নির্বাচনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় প্রধান প্রতিপক্ষকে মাঠছাড়া করা। বিএনপির পোলিং এজেন্টদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া। নির্বাচনের দিন জোর-জবরদস্তি করা ও নির্বাচন কমিশনের নির্বিকার থাকা।
বদিউল আলম বলেন, আমরা মনে করি, সারা দেশের মানুষের দৃষ্টি এখন জাতীয় নির্বাচনের দিকে। সে জন্য অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে সরকার, রাজনৈতিক দল, নির্বাচনের দায়িত্ব নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নাগরিক সমাজকে নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
দুই সিটি নির্বাচন সম্পর্কে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সিলেটের নির্বাচন ক্ল্যাসিক কেস। সিল মেরেও নিজেদের প্রার্থীকে জেতাতে পারেনি। রাজশাহীতে সরকারি দলের প্রার্থী এমনিতেও জিততেন। সিল মারার দরকার ছিল না।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে নিয়ন্ত্রিত করতে ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীনদের প্রচেষ্টা শুরু হয়ে গেছে বলে দাবি করে
সুজন সম্পাদক বলেন, নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন মানে প্রধান প্রতিপক্ষকে মাঠছাড়া করা। ইতোমধ্যে এ প্রচেষ্টা শুরু হয়ে গেছে। একটি জাতীয় দৈনিকে দেখলাম কারণ ছাড়াই বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ধরপাকড় শুরু করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এর মানে সরকার নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন করতে চায়।
বদিউল আলম বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সরকার সিল মারার ক্লাসিক গেম খেলেছে। এসব করেও কোথাও কোথাও তারা পরাজিত হয়েছে ৷ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে তিনি নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের জলজ্যান্ত উদাহরণ বলেও আখ্যা দেন তিনি।
সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের বিজয়ী প্রার্থীদের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। তিনি আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশনকে একটি জাতীয় সনদ বা সমঝোতা স্মারক করার পরামর্শ দেন। যেখানে নির্বাচনের আগে, নির্বাচনকালীন সময়ে এবং পরে কেমন পরিবেশ পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে, কার কী ভূমিকা থাকবে এবং সনদের শর্ত ভাঙলে কী হবে তা উল্লেখ থাকবে।
সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার বলেন, ইভিএম বুথে ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের কাছে সুইচ থাকবে। তিনি সুইচ টিপ দেওয়ার পর ভোট দিতে পারবেন। এ সময় যদি সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের একাধিকবার সুইচ টিপ দেন, তাহলে একজন ভোটারই একাধিক ভোট দিতে পারবেন। সুতরাং নির্বাচনকালীন সময়ে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা না থাকলে ইভিএম মেশিন দিয়েও ভোট কারচুপি করা সম্ভব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ