ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 September 2018, ২২ ভাদ্র ১৪২৫, ২৫ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

শহিদুলকে কারাগারে ডিভিশন দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে কারাগারে প্রথম শ্রেণির বন্দীর মর্যাদা দিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইজি প্রিজনসকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে।
গতকাল বুধবার শহিদুল আলমের স্ত্রী রেহনুমা আহমেদের করা একটি রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। 
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সারা হোসেন ও জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম; সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস।
সারা হোসেন পরে সাংবাদিকদের বলেন, শহিদুল আলমকে প্রথম শ্রেণির ডিভিশন দিতে গত ২৭ আগস্ট আমরা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আবেদন করেছিলাম। আদালত তখন ডিভিশনের আদেশ দিয়েছিলেন। কিন্ত গত কয়েকদিনেও তা প্রতিপালন হয়নি। তাই আমরা হাইকোর্টে আবেদন জানাই। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট শহিদুল আলমকে ডিভিশন দিতে নির্দেশ দিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে এই ডিভিশন সুবিধা দিতে বলা হয়েছে।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গত ৫ আগস্ট রাতে পুলিশ দৃক গ্যালারি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার করে। পরে ‘উসকানিমূলক ও মিথ্যা’ অপপ্রচারের অভিযোগে শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে এ মামলা করা হয়।
নিম্ন আদালত এ মামলায় শহিদুলকে জামিন না দেয়ায় তার আইনজীবীরা হাই কোর্টে এসেছিলেন। কিন্তু হাই কোটের একটি বেঞ্চ গত মঙ্গলবার জামিন আবেদন শুনতে বিব্রত বোধ করে। 
গতকাল বুধবার শুনানি শেষে সারা হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম কারাবিধি অনুযায়ী শহিদুল আলমের ডিভিশনের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিলেও কারা কর্তৃপক্ষ তা অনুমোদনের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠায়। কারা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত সে অনুমোদন পায়নি। এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি করা হয়।
তিনি বলেন, আমাদের কারাবিধি অনুযায়ী বিচারাধীন কারাবন্দীদের দুই ধরনের শ্রেণিতে রাখা হয়। প্রথম শ্রেণি ও দ্বিতীয় শ্রেণি। সামাজিক বা শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণে তাকে প্রথম শ্রেণির বন্দি হিসেবে গণ্য করা যায়। আদালত আদেশ দিয়েছেন, ড. শহিদুল আলমকে যেন জেলখানায় ডিভিশন দেওয়া হয়। সামাজিক অবস্থান এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার কারণেই তাকে ডিভিশন দিতে হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ