ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 September 2018, ২২ ভাদ্র ১৪২৫, ২৫ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

পাল্টে গেছে রূপসা ঘাটের চিরচেনা দৃশ্য

খুলনা অফিস : সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে হাইমাস্টের আলোতে ঝলমল রূপসা বাস টার্মিনাল। শত কর্মব্যস্ত মানুষের ভিড়ে এক জায়গায় স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার জো নেই। মাত্র বছর দু’ আগেও যেখান দিয়ে যেতে প্রায় হাঁটু পানি পাড়ি দিতে হতো যাত্রীদের, সেখানে আজ স্বস্তির নিশ্বাস। এ বাস টার্মিনালকে ঘিরে অনেকের আয়ের উৎস হয়ে উঠেছে।
নগরীর রূপসা ঘাট এবং বাসস্ট্যান্ড সংশ্লিষ্ট এলাকায় উন্নয়নের পর একটি দৃষ্টিনন্দন স্থানে পরিণত হয়েছে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) উদ্যোগে সেখানে তৈরি হয়েছে একটি বেঞ্চ ও নতুন বাস টার্মিনাল। সন্ধ্যার পর কেসিসির হাইমাস্ট লাইটের আলোর ঝলকানিতে আর রূপসা নদী পানিতে একাকার হয়ে গেছে। সৌন্দর্যের হাতছানিতে মুগ্ধ নদীর পাড়ে ঘুরতে আসা নগরবাসী।
কেসিসি সূত্রে জানা গেছে, জার্মান ডেভেলপ ব্যাংক (কেএফডব্লিউ) এর অর্থায়নে নগরীর রূপসা ঘাট এলাকায় নির্মাণ করা হয়েছে একটি আধুনিক বাস টার্মিনাল। নাম দেয়া হয়েছে রূপসা বাস টার্মিনাল। সেই সাথে উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে ঘাটের। নতুন করে স্থাপন করা হয়েছে পন্টুন। করা হয়েছে যাত্রী ছাউনী। এছাড়াও যাত্রী পারাপারে সব রকমের সুবিধা দিয়ে তৈরি করা হয়েছে ওয়াকওয়ে। দু’ ধাপে ঘাট এবং বাসস্ট্যান্ড নির্মাণে ব্যয় হয়েছে সাড়ে ১৮ কোটি টাকা। কেসিসির সিআরডিপির (নগর উন্নয়ন প্রকল্প) আওতায় কাজটি বাস্তবায়িত হয়েছে।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, নগরীর রূপসা বাস টার্মিনাল উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয় ১০ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আজাদ ইঞ্জিনিয়ার্স ফার্ম কাজটি সম্পন্ন করেন। ২০১৬ সালে কাজটি শুরু হয় আর শেষ হয় ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। এ টাকায় নির্মাণ করা হয়েছে দু’ তলা বিশিষ্ট ভবন, রাস্তা, ফুটপাত, হাইড্রেন, ক্রস ড্রেন, রিটেয়লিং ওয়াল, আরসিসি রোড, আলোকসজ্জা, ডিভাইডার। সড়কে দেয়া হয়েছে ইউনিব্লক। ভবনটিতে রয়েছে অফিস কক্ষ, নামাজ পড়ার কক্ষ ও ফুড কর্নার।
এছাড়া ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে যাত্রীদের নদী পারাপারে বসানো হয়েছে নতুন পন্টুন। বাস টার্মিনাল ভবন থেকে নদীর ঘাট পর্যন্ত যেতে নির্মাণ করা হয়েছে ওয়াকওয়ে। নদীর পাড়ে দেয়া হয়েছে সিসি ব্লক। নদীর পাড় থেকে ক্যাপসহ শীট পাইল করে ঢালাই করা হয়েছে।
বাসস্ট্যান্ডসহ আনুষঙ্গিক কাজের দায়িত্বে সিআরডিপির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভবন এবং এর আশপাশের উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে বাসস্ট্যান্ডকে কেন্দ্র করে। নগর পরিবহণ (লোকাল বাস)সহ আন্তঃজেলা পরিবহণ বাসগুলো এখানে সুষ্ঠুভাবে দাঁড়াতে পারবে। সে বিষয়টি মাথায় রেখে স্ট্যান্ডটিও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। ফুটপাতের পাশটি দৃষ্টিনন্দন করতে লাগানো হয়েছে ফুল ও গাছের চারা’।
অপরদিকে রূপসা বাস টার্মিনাল ও পাইকারী মৎস্য আড়ত এর মাঝে বিদ্যমান খালের ওপর দৃষ্টিনন্দন একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলো সব হয়েছে বাসস্ট্যান্ডকে ঘিরে। রূপসা ঘাটের দু’ পারের নদী সংরক্ষণে নেয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। নগরীর এই অংশে ঘাট সংশ্লিষ্ট এলাকায় নদী তীর সংরক্ষণে দেয়া হয়েছে ব্লক। নির্মাণ করা হচ্ছে আরসিসি দেয়াল। এ কাজে ব্যয় করা হয়েছে ৮ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট এলাকায় রয়েছে ছোট ছোট ঘাট। ফলে রূপসা ঘাট ঘিরে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিকেলে নদী পাড়ে মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে ক্রমেই বাড়তে থাকে সাধারণ মানুষের ভিড়।
এ কাজের সিআরডিপির উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান আহমেদ বলেন, ‘রূপসা নতুুন বাসস্ট্যান্ডের সাথে সাথে নদী তীর সংরক্ষণে নেয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। সেখানে ব্লক দিয়ে ভাঙনরোধ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়াও ওয়াল দিয়ে মাটি সরা রোধ করা হয়েছে। এসব স্থানে মানুষ অবসরকালীন সময় কাটাতেও পারবে বলে তিনি উল্লেখ করেন’। তবে এগুলো সঠিকভাবে নিয়মিত তদারকি না করলে নির্ধারিত সময়ে আগেই নষ্ট হয়ে যাবে।
পশ্চিম রূপসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল মালেক ও সাধারণ সম্পাদক খেলাফত হাওলাদারসহ স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী জানান, আগে যত্রতত্র বাসসহ অন্যান্য যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকত। বাসস্ট্যান্ডটি নির্মাণের ফলে সুকৃঙ্খলভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে যানগুলো। জনাকীর্ণ মোড়টিতে যানজট থাকছে না। মানুষের যাতায়াতও সহজ হয়েছে। ইজিবাইক, মাহেন্দ্রসহ অন্যান্য ছোট যানগুলোও পার্কিংয়ে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। তবে ওয়াসা কর্তৃক খননের কারণে বাস টার্মিনালের সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে। তারা টার্মিনাল চত্বর, ওয়াকওয়ে ও ডিভাইডারের ক্ষতি করেছে।
এসব মেরামত পুরোপুরি করেনি ওয়াসা। এছাড়া বাস টার্মিনালটি এখনও পূর্ণতা পায়নি। যার জন্য টার্মিনালের সৌন্দর্য পূর্ণতায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে কেসিসির ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, সিআরডিপি কাজ শেষে টার্মিনাল, টোল প্লাজাসহ সব কিছুই তাদের কাছে হস্তান্তর করেছে। ইতোমধ্যে সব কিছুই ইজারা দেয়া হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ