ঢাকা, বৃহস্পতিবার 6 September 2018, ২২ ভাদ্র ১৪২৫, ২৫ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

খুলনায় ‘প্যাথেডিন’ মাদকসেবীদের হাতে

খুলনা অফিস: চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহার হয় ‘প্যাথেডিন’। কিন্তু একশ্রেণির মাদকসেবী নেশার সামগ্রী হিসেবে ‘প্যাথেডিন’ নিচ্ছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ীরা প্যাথেডিন কালোবাজারে বিক্রি করছেন। জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে প্যাথেডিনসহ এক ফার্মেসী মালিককে আটক করা হয়।
খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে, খুলনা জেলায় ডিডি পজেশন ও ডিডি খুচরা বিক্রয়ের লাইসেন্স প্রাপ্তির সংখ্যা রয়েছে ৩৭টি। এর মধ্যে ডিডি পজেশন (হাসপাতাল বা ক্লিনিক) লাইসেন্সধারীর সংখ্যা রয়েছে ৬টি। ডিডি খুচরা লাইসেন্সপ্রাপ্তি সংখ্যা রয়েছে ৩১টি। এছাড়া আরও দুইটি প্রতিষ্ঠান এ লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।
ওই সূত্র মতে, কারও কাছে বেআইনীভাবে প্যাথেডিন-মরফিন ১০ গ্রামের নিচে পাওয়া গেলে ২ বছর থেকে ১০ বছর পর্যন্ত শাস্তির বিধান রয়েছে। এছাড়া ১০ গ্রামের ওপরে পাওয়া গেলে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯০ এর ১৯ (১) টেবিলের ২ (ক)ম ও (খ) শাস্তিযোগ্য অপরাধে সর্বোচ্চ মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদ-ের বিধান রয়েছে।
খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সূত্র মতে, জীবন রক্ষাকারী প্যাথেডিন-মরফিন’র ব্যবসা করতে হলে প্রথমেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স গ্রহণ করতে হয়। লাইসেন্স’র শর্ত অনুযায়ী প্রতিদিন কমপক্ষে সকাল ৯টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ওষুধের দোকান খোলা রাখা, সার্বক্ষণিক মালিক (লাইসেন্সধারী) এবং ফার্মাসিস্টের উপস্থিতি, দোকানে বিভিন্ন ধরনের পর্যাপ্ত ওষুধের মজুদ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের ফটোকপি রেখে বিক্রি করা এবং ক্রেতার নাম একটি নির্দিষ্ট স্টক রেজিস্টারে সংরক্ষণ উল্লেখযোগ্য। কিন্তু এসব নিয়ম অধিকাংশ লাইসেন্সধারীই মানছেন না। কোনো না কোনো ক্ষেত্রে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে এ ব্যবসা চালিয়ে আসছেন।
১ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ‘ক’ সার্কেলের একটি টিম নগরীর সোনাডাঙ্গা থানাধীন ২৩/বি মজিদ সরণি সোনাডাঙ্গা এলাকায় মেসার্স লাকী মেডিকেল হলে অভিযান চালান। এ সময় ৬ পিস প্যাথেডিনসহ মো. মামুনকে আটক করেন। এ সময় অপর মালিক এম এ মান্নান পালিয়ে যান। এ সংস্থা ছাড়াও সম্প্রতি কেএমপি’র ডিবির একটি টিম খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অভিযান চালিয়ে বিক্রি করার সময় হাতেনাতে ওষুধের দোকানের কর্মচারীকে প্যাথেডিনসহ আটক করে। ফলে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর কালোবাজারে প্যাথেডিন-মরফিন বিক্রির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, যে সব ফার্মেসীতে প্যাথেডিন ও মরফিন বিক্রির লাইসেন্স রয়েছে তারাই শুধু বিক্রি করতে পারবেন। ওইসব লাইসেন্সকৃত দোকান থেকে অন্য ওষুধ ব্যবসায়ীরা যদি প্যাথেডিন-মরফিন বিক্রি করেন তাহলে দুইজন শাস্তিযোগ্য অপরাধের সামিল। সেক্ষেত্রে লাইসেন্সধারী শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে তার লাইসেন্স বাতিল করার বিধান রয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে কারও কাছে ১০ গ্রামের ওপরে প্যাথেডিন-মরফিন পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে দোষীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন কারাদন্ডের বিধান রয়েছে। তিনি কালোবাজারে প্যাথেডিন বিক্রি প্রতিরোধে তাদের অভিযানের টিম তৎপর রয়েছে।
‘ক’ সার্কেলের পরিদর্শক হাওলাদার মোহাম্মদ সিরাজ জানান, লাইসেন্সবিহীনভাবে ওই ফার্মেসী মো. মামুন ও এমএ মান্নান দুইজন যৌথভাবে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তারা দুইজনে দীর্ঘদিন ধরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে প্যাথেডিন মজুদ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মামুন জানান, এক ব্যক্তি এসে তাকে এসব প্যাথেডিন সাপ্লাই দিয়ে যেতেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ