ঢাকা, শুক্রবার 7 September 2018, ২৩ ভাদ্র ১৪২৫, ২৬ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

কবিতা

মৃত্তিকার কাছে

-তমসুর হোসেন

জীবনের সব স্মৃতি হারিয়ে ফেলেছি একেবারে

মগজের নিরালা কামরায় যা সাজানো ছিল থরে থরে

স্বপ্নময় শৈশব, দুরন্ত কৈশরের সব স্মৃতি কখন যে

প্রবল বাতাসের আঘাতে মুছে গেছে চিরতরে

এখন পক্ষাগ্রস্ত বৃদ্ধের মতো দয়াহীন স্বজনের দিকে

তাকিয়ে থাকি সারাক্ষণ।

 

দৃষ্টির সুমুখে উপুড় হয়ে থাকে গনগনে ধূসর আকাশ

মেঘমলিন অস্তাচলে অদ্ভুত গোঙানিতে আমাকে ডাকে

মৃত্যুর ভীতিময় ফেরেশতা

অগণিত বিষাক্ত সর্প শোঁ শোঁ শব্দে আমাকে তাড়া করে নিয়ে যায় সেইদিকে

কোথায় লুকাবো আমি! পাপিষ্ট সত্তার বন্ধুর প্রান্তরে 

অসংখ্য কালো কেউটের অধিবাস।

 

দুর্বল কম্পিত দেহে দাঁড়িয়ে থাকি রাতের পর রাত

লয়প্রাপ্ত স্মৃতির রুদ্ধ দরোজায়

পাথুরে কপাটে ইস্পাতের হ্যাজবলে ঝোলে সুবিশাল তালা

ফিরে আসি আমি প্রতিদিন বুকে নিয়ে নিশব্দ শূন্যতা

ফিরে আসি ধূলিময় মৃত্তিকার কাছে অসহ্য অস্থিরতার হাত ধরে।

 

কোনদিন ভাবিনি এমন ফ্যাকাসে নিরানন্দ হয়ে যাবে জীবনের দিনগুলো

যা কিছু আয়ত্তে ছিল অনায়াসে হবে হাতছাড়া

ক্রমশঃ ছোট হয়ে আসবে দম্ভ আর দাপটের বিস্তৃত বিচরণভূমি

জমাজমি ধনরতœ বাগান আর ক্যাশবাক্সের টাকা সব চলে যাবে অন্যের দখলে

আমি শুধু একঝোপা অকেজো ডুপ্লিকেট চাবি নিয়ে নির্জীব পড়ে থাকব।

 

একদিন ভেবেছি ওসব ইতিহাস অকেজো অর্বাচীনের জন্য

গুছিয়ে রাখতে জানলে ইতিহাস একচুল বদলায় না

সারাটা জনম চুলচেরা হিসেব কষে ভাগ্যকে আগলে রাখতে চেয়েছি

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধ্বংসশীল দেহটাকে পাকাপোক্ত রাখার কসরত করেছি

গাঁটের অর্থ যেন কপট স্বজনের হাতে চলে না যায় সেদিকে রেখেছি খেয়াল

কাজ হয়নি মোটেই, যা হবার হয়েছে-সবকিছু অন্যের হয়ে গেছে।

 

মৃত্তিকা আমাকে ডাকে চায় পুরনো সখ্যতার দাবী জানিয়ে

রাতের গভীরে তার অস্থির আকুতি বাতাসের শব্দে ছড়িয়ে দেয়

আমি বুঝি না এ কোন অদ্ভূত ভাষা অজানা শব্দ শ্রবণে ঝড় তোলে

মেঘমালা থেকে বিজলীর ঝলকানি বীভৎস হুংকার ভীত বিহ্বল করে

লেপমুড়ি দিয়ে নিজকে লুকোতে চেষ্টা করি, কানে আংগুল প্রবেশ করাই

দেহের ভেতর মৃত্যুর ছায়া প্রবল স্পষ্ট হয়ে প্রতিভাত হতে থাকে 

চৈতন্য থেকে আমি অচৈতন্যের দিকে ধাবিত হতে থাকি 

 

মৃত্তিকা আমাকে মায়াপ্রেম ফেলে অনাদি অনন্তের পানে যেতে বলে।

 

বাইরে বৃষ্টির শব্দ

-আহসান হাবিব বুলবুল

বাইরে বৃষ্টির শব্দ শোনা যাচ্ছে

হয়তো এখন উত্তাপ কিছুটা কমবে,

বাতাসে শিশা, বিষাক্ত গ্যাস

নিষিক্ত হবে মৃত্তিকায়।

এক ঝাপটা বাতাসের শীতল পরশে

দখিনা বাতায়ন পাশে আবার

এসে দাঁড়াবো আমরা,

অনেক আশায় নিরাশায়।

 

শিশুরা আর চমকে উঠবে না মায়ের বুকে

আহত পাখিরা ডানা ঝাপটাবে না আর।

নিরন্তর বয়ে যাবে নদী তোমার ¯্রােতে,

স্বপ্নের বিহঙ্গরা ডানা মেলবে সুদূর নীলিমায়।

বৃষ্টি তুমি সৃষ্টি, প্রবল বেগে ধেয়ে এসো

তোমার বানে ভেসে যাক

জরা দুঃখ ক্লেশ অমানিশা যত,

ধরিত্রী আবার জেগে উঠুক সবুজ ছায়ায়।

 

চিত্রকল্প 

 -দেলওয়ার হোসেন 

 

রৌদ্রে পোড়া মাটির শরীরে

শুকনো পাতা

বিচিত্র ভাবনা সম্ভার

ত্রিভুজে বন্দী

কাব্যকুঞ্জে হাঁটে চিত্রকল্প

কবিতার সিঁড়ি বেয়ে

শব্দরা নামে,

শব্দরা হেঁটে যায় কবির কাছে

শব্দ সংগমে মত্ত কবি

নিখুঁত শব্দে গড়ে কাব্য শরীর।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ