ঢাকা, শুক্রবার 7 September 2018, ২৩ ভাদ্র ১৪২৫, ২৬ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

চাঁদাবাজীর মামলায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল গ্রেফতার ॥ রিমান্ডে

 

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  বুধবার দিবাগত রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে মিরপুর মডেল থানার পুলিশ। পুলিশ জানায়, চাঁদাবাজির একটি মামলায় মোজাম্মেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিয়াজুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারের পর মোজাম্মেলকে থানায় আনা হয়। এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের পর তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমান্ডে পাঠায়।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সামসুদ্দিন চৌধুরীর ভাষ্য,বুধবার  দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকার নিজ বাসা থেকে মোজাম্মেলকে পুলিশ পরিচয়ে উঠিয়ে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, মিরপুর থানার পুলিশ প্রথমে মামলার কথা বলেনি। থানায় নেওয়ার পর মোজাম্মেলকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তারের কথা জানায়। মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে আগে কখনো কোনো থানায় জিডি পর্যন্ত হয়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে দুলাল নামের এক ব্যক্তি একটি মামলা করেছেন। এই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মিরপুর মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, দুলাল নামের এক ব্যক্তি বুধবার থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে একটি মামলা করেন। মামলার নম্বর ১৪। এই মামলায় মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বজলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ডিসি স্যারের নির্দেশ আছে। কথা বলা যাবে না।’

জানতে চাইলে মিরপুর মডেল থানার ওসি দাদন ফকির বলেন, চাঁদাবাজির মামলায় উল্লেখ থাকা মোবাইল নম্বর অনুযায়ী মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওসি দাদন ফকির বলেন, দুলাল নামে ‘পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট একজন’ তিন দিন আগে খন্দকার মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।“দুলাল মামলায় দাবি করেছেন, মোজাম্মেল হক তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছেন, এর মধ্যে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। ওই মামলাতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

যাত্রী কল্যাণ সমিতির ফেইসবুক পাতায় এক পোস্টে বলা হয়, “হঠাৎ রাত ৩টায় মিরপুর মডেল থানা থেকে কিছু পুলিশ এসে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিবকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ। কী জন্য এখনো কোন বিষয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।”এই সমিতি নিজেদের বর্ণনা করে ‘একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী, যাত্রীকল্যাণমূলক সামাজিক সংগঠন’ হিসেবে। ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে তাদের অফিস।

পরিবহনে যাত্রীদের অধিকার এবং নিরাপত্তার সচেতনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করে এই সংগঠন। দুই ঈদে এবং বার্ষিক ভিত্তিতে সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান নিয়ে তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করতে দেখা যায়।

গত রোজার ঈদের পর সমিতির প্রকাশিত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংগঠনটির বিরুদ্ধে ‘মনগড়া তথ্য’ প্রকাশের অভিযোগ আনেন এবং সমিতির মহাসচিবের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

গত ১০ জুলাই জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী বলেন, “একটা ভুয়া জনকল্যাণ সমিতি বাংলাদেশে আছে, যাদের কোনো রেজিস্ট্রেশন নেই। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে এরকম একটি লোক ওই সংগঠনের নেতৃত্ব দেয়। সময়ে সময়ে তাকে মতলবি মহল আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়। আমি দেখি সমাজের অনেক বিশিষ্টজনও এই লোকটির সংবাদ সম্মেলনে এসে হাজির হয়।”

একদিনের রিমান্ডে    

চাঁদাবাজির মামলায় যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হকের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল হক রিমান্ডের আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার এসআই বজলার রহমান আসামীর সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আসামী পক্ষে ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া, জায়েদুর রহমান প্রমুখ আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের শুনানি করেন।

শুনানিতে তারা  বলেন, গত ৪ সেপ্টেম্বর আসামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এজাহারে আসামীর ঠিকানা উল্লেখ করা হয়নি। অথচ পুলিশ তার ঠিকানায় গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি চাঁদা দাবি করেছেন অথচ একটা জিডিও করেন নাই বাদী। তিনি বলেন, আমরা সবাই যাত্রী, তাদের কল্যাণের জন্য তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি গবেষণা করেন না, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার হিসাব দেখে সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র তুলে ধরেন। আগামী ১০ তারিখে রাউন্ড টেবিলে তার একটা আলোচনা রয়েছে। সেখানে তিনি যেন অংশগ্রহণ করতে না পারেন সেজন্য তার বিরুদ্ধে মামলা করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো মামলা সাজানো। এখানে তাকে গ্রেপ্তারের বা রিমান্ডের বিন্দুমাত্র যৌক্তিকতা নেই। আমরা তার রিমান্ড বাতিল পূর্বক জামিনের প্রার্থনা করছি। জামিন দেন এরপর আমরা বিচার ফেস করবো। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে একদিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ১০/১৫ দিন ধরে  মোজাম্মেল হক বাংলাদেশ সড়ক পরিবহনের নেতা দাবি করে মিরপুর রোড শ্রমিক কমিটির নিকট হতে প্রতিমাসে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে বাদী ও সংগঠনের বিরুদ্ধে পত্র-পত্রিকাসহ ইলেকট্রনিক্স প্রিন্ট মিডিয়াতে খারাপ প্রতিবেদন প্রকাশ করাসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখায়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার মিরপুর সনি সিনেমা হলের সামনে মোজাম্মেল হক দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি ভয়ে তাকে ১০ হাজার টাকা প্রদান করি। তখন মোজাম্মেল হক বলে বাকি  টাকা ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় দিতে বলে চলে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ