ঢাকা, শুক্রবার 7 September 2018, ২৩ ভাদ্র ১৪২৫, ২৬ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

জ্বালানির জন্য হেলমেট

মোটরসাইকেল আরোহীদের জন্য হেলমেট ব্যবহারকে বাধ্যতামূলক করার উদ্দেশ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে এক ব্যতিক্রমধর্মী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, মাথায় হেলমেট না থাকলে রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে কোনো মোটর সাইকেল আরোহীকেই জ্বালানি তেল দেয়া হচ্ছে না। শত অনুরোধেও কোনো পাম্প মালিক এবং কর্মচারীরা অমন আরোহীদের কাছে পেট্রোল বা অক্টেন বিক্রি করছেন না। অনেক পাম্পেই ‘হেলমেট ব্যতীত মোটর সাইকেলে জ্বালানি ইস্যু করা হইবে না’ লিখে নোটিশ টাঙানো হয়েছে। জ্বালানি যারা ডেলিভারি করে সেসব কর্মচারীদেরও মালিকরা কঠোর আদেশ দিয়ে রেখেছেন। ফলে কর্মচারীরাও হেলমেটহীন আরোহীদের কাছে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ রেখেছে।  

ট্রাফিক মাস উপলক্ষে ‘নো হেলমেট, নো পেট্রোল’Ñ এই স্লোগানমুখে গত ২৭ আগস্ট প্রথমে রংপুর শহরে হেলমেটহীন মোটর সাইকেল আরোহীদের কাছে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। সেটাই ছড়িয়ে পড়েছে সারাদেশে। দেশের কোনো শহরেই হেলমেটহীনদের কাছে জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। প্রথম দু’চারদিন পর্যন্ত কোনো কোনো শহরে অনুরোধের পাশাপাশি ধমক ও হুমকি দেয়ার খবরও শোনা গেছে। কিন্তু পুলিশের সঙ্গে প্রশাসন তথা সরকারও রয়েছে জানার পর হেলমেটহীন মালিকরা বাড়াবাড়ির চিন্তা পরিত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে বিশেষ করে রাজধানীতে শুরু হয়েছে হেলমেটহীন আরোহীদের মোটর সাইকেল আটকের অভিযান। গত বুধবার পর্যন্ত এই অভিযানে এক হাজারের বেশি মোটর সাইকেল আটক করেছে পুলিশ। হেলমেটহীন মালিকদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হচ্ছে। এমন অবস্থায় একদিকে রাজপথে রাতারাতি মোটর সাইকেলের সংখ্যা অনেক কমে গেছে, অন্যদিকে বিক্রি বেড়েছে হেলমেটের। 

আমরা পুলিশের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। কারণ, বিশ্বের সকল দেশে হেলমেট ব্যবহার আইনত বাধ্যতামূলক হলেও এবং বাংলাদেশেও বিভিন্ন সময়ে হেলমেট ব্যবহারের জন্য অনুরোধ জানানো হলেও আইনটি মেনে চলার ব্যাপারে মোটর সাইকেলের মালিক তথা আরোহীদের উৎসাহিত করে তোলা সম্ভব হয়নি। কখনো কখনো ট্রাফিক সপ্তাহ ধরনের উপলক্ষে অনেককে হেলমেট ব্যবহার করতে দেখা গেলেও দু’-চারদিনের ব্যবধানেই তারা হেলমেট খুলে ফেলেছেন। অথচ যিনি চালান তার জন্য তো বটেই, যিনি পেছনে বসে থাকেন তার নিরাপত্তার জন্যও হেলমেট পরা অত্যাবশ্যক। কারণ, মোটর সাইকেলের প্রায় সকল দুর্ঘটনাতেই মৃত্যু ঘটে সাধারণত মাথায় আঘাত লাগার কারণে। অর্থাৎ বিষয়টির মধ্যে জোর-জুলুম চাপানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করার কোনো অবকাশ নেই। সবই করা হয়েছে ও হচ্ছে আসলে চালক এবং পেছনে বসে থাকা তার সঙ্গীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই। আর এমন আশা করাটাই স্বাভাবিক যে, যারা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য হেলমেট পরবেন তারা পথচারীসহ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ব্যাপারেও সচেতন থাকবেন। ফলে এমনিতেই দুর্ঘটনা অনেক কমে আসবে। 

হেলমেট ব্যবহারের ব্যাপারে পুলিশের উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি আমরা রাজধানীসহ সারাদেশের সড়ক পথে ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগের জন্যও আহ্বান জানাই। কারণ, পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটির পর বিশেষ করে রাজধানীর যানজট পরিস্থিতির আবারও অবনতি ঘটতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের চলাচলকে ঝামেলামুক্ত করার জন্য তো বটেই, জাতীয় অর্থনীতির সুষ্ঠু বিকাশের স্বার্থেও রাজধানীর যানজট সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে পুলিশের মাধ্যমে সরকারের উচিত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া। এ উদ্দেশ্যে নগর পরিকল্পনাবিদসহ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া দরকার। আমরা চাই, রাজধানী ঢাকা স্বল্প সময়ের মধ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি হয়ে উঠুক এবং কেবলই বোঝা হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরিবর্তে লাখ লাখ মানুষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত হোক। মানুষকে যাতে পথেই বেশির ভাগ সময় নষ্ট না করতে হয় সে ব্যাপারে সুচিন্তিত পরিকল্পনার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া দরকার অনতিবিলম্বে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ