ঢাকা, শুক্রবার 7 September 2018, ২৩ ভাদ্র ১৪২৫, ২৬ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

যুদ্ধের আশঙ্কা করছেন এরদোগান

৬ সেপ্টেম্বর, দৈনিক মিল্লিয়াত ও আনাদোলু এজেন্সি : তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান বলেছেন, ইদলিবের ঘটনাটি খুবই নির্দয়। সেখানে ভারি যুদ্ধের আশঙ্কা রয়েছে। শরণার্থীরা এতে অংশ নিতে পারে। আমি আবারো বলছি, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে স্থানীয়দের সেখান থেকে পালিয়ে যেতে হবে। ইদলিবে বিষয়ে রাশিয়া ও ইরানের সাথে শুক্রবার আলোচনায় বসব। আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা তেহরান থেকে একটি ইতিবাচক ফল আনতে সক্ষম হব।

কিরগিজিস্তানে তিন দিনের সফরের সময় তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এক সাক্ষাৎকারে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসওগ্লু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকারের মধ্যে নানা আলোচনা ও পরামর্শের কথা তুলে ধরেন। এরদোগান বলেন, আমরা এসব আলোচনাকে গুরুত্ব দিচ্ছি। সিরিয়ার চলমান সঙ্কট নিরসনের জন্য ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠেয় আজকের বৈঠক খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আজ শুক্রবার ইরানের রাজধানী তেহরানে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে এবং এতে যোগ দেবেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। এ আলোচনায় ইদলিব ইস্যু বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এরদোগান বলেন, ইদলিবের পরিস্থিতি তুরস্কের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইদলিবে ৩৫ লাখ লোকের বসবাস রয়েছে এবং সেখানে অবশ্যই হত্যাকা- বন্ধ করতে হবে। ইদলিবে অভিযান চালানো হলে সেখানকার বিরাট সংখ্যক মানুষ শরণার্থী হবে এবং একমাত্র তুরস্কেই তারা আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করবে। যখন আমরা সিরিয়ার শরণার্থী সমস্যার সমাধান নিয়ে কথা বলছি তখন ইদলিব অভিযানের ফলে নতুন করে শরণার্থী সৃষ্টি হতে যাচ্ছে যা বিপজ্জনক বিষয়।

সিরিয়ার ইদলিবে বিদ্রোহীদের দখলে থাকা অংশে বোমা নিক্ষেপ ও মিসাইল হামলায় হত্যাকা- নিয়ে চিন্তিত এরদোগান। তিনি বলেন, সেখানে বৃষ্টির মতো মিসাইল হামলায় বড় ধরনের গণহত্যার আশঙ্কা রয়েছে। সাংবাদিকদের এরদোগান বলেন, সিরিয়ান সেনারা ইদলিবের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে বড় ধরনের আক্রমণ চালালে সেখানে মানবিক বিপর্যয়ের ভয় হচ্ছে। ইদলিব প্রদেশে মস্কো ও দামেস্কো জিহাদি গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণ করে মূলোৎপাটনের প্রতিজ্ঞা করেছে। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের মিত্র রাশিয়া ইদলিবে হামালা বন্ধ থাকার ২২দিন পর আবার মঙ্গলবার বিমান থেকে বোমা হামলা চালাচ্ছে। তুরস্ক বিদ্রাহীদের বিষয়ে কয়েকবার রাশিয়ার সাথে আলোচনা করেছে, এতে ওয়াশিংটনের সমর্থন রয়েছে। রাশিয়ার সহযোগিতা আমাদের আমাদের গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকা বল ছুড়ছেন রাশিয়ার দিকে আর রাশিয়া বল ছুড়ছেন আমেরিকার দিকে। 

এরদোগান বলেন, গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে আটক মার্কিন পাদ্রী অ্যান্ড্রু ব্রানসনকে মুক্তির দাবি বেআইনি। আমেরিকার অন্যায় দাবি মেনে নেবে না তুরস্ক। মার্কিন পাদ্রীকে আটকের কারণে আমেরিকার সাথে তুরস্কের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। তবে আঙ্কারা আইনের বাইরে যাবে না। কেউই তুরস্কের কাছে দেশের আইনবিরোধী দাবি জানাতে পারে না। এটা ঠিক নয়।  তুরস্কের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় কোনো কাজ হবে না।

মার্কিন পাদ্রীর বিচারকে কেন্দ্র করে গত মাসে তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আমেরিকা এর পাশাপাশি এস-৪০০ ক্রয় ইস্যুতেও তুরস্ককে আমেরিকা হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। দুই বছর ধরে আটক রাখা মার্কিন যাজক ব্রানসনকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে তুরস্ক মুক্তি দিতে না চাওয়ার কারণে দেশ দুটি সম্প্রতি ঘোর বিরোধে জড়িয়ে পড়েছে।

ব্রানসনের সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) এবং ফেতুল্লাহ গুলেনপন্থী সংগঠনের যোগাযোগ থাকার অভিযোগ করেছে তুরস্ক। কারণ এ সংগঠনটি ২০১৬ সালে তুরস্কে সেনা অভ্যুত্থানচেষ্টার হোতা বলে আঙ্কারা মনে করে। ব্রানসনকে তুরস্ক দীর্ঘ ২১ মাস কারান্তরীণ রাখার পর জুলাই থেকে গৃহবন্দি করে রেখেছে। তার মুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে চাপ দিলেও দেশটি তা মানেনি।

পেনসিলভানিয়ায় বাস করা ফেতুল্লাহ গুলেনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নেয়নি অভিযোগে তুরস্ক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৬ সালের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার নিন্দা জানাতেও ব্যর্থ হয়েছে বলে তুরস্ক অভিযোগ করেছে।

অর্থনৈতিক সঙ্কট উত্তরণে দুই

অর্থনীতিবিদকে মন্ত্রী নিয়োগ প্রদান

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান বৃহস্পতিবার দুই অর্থনীতিবিদকে ডেপুটি মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদুলু নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়, নুরুদ্দিন নেবাতি নামের একজন অর্থনীতিবিদকে দেশটির ডেপুটি রাজস্বমন্ত্রী এবং ওসমান দিনচবাস নামের আরেক অর্থনীতিবিদকে দেশটির ডেপুটি অর্থমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

নুরুদ্দিন নেবাতিকে রাজস্বমন্ত্রী এবং ওসমান দিনচবাসকে ডেপুটি অর্থমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগ দেয়ার বিষয়টি সরকারি একটি গেজেটেও প্রকাশ করা হয়।

নুরুদ্দিন নেবাতি ইতঃপূর্বে তুরস্কের একেপি পার্টির ডেপুটি হিসাবে কর্মরত ছিলেন এবং একই সাথে তিনি ইন্টারপার্লামেন্টারি জেরুসালেম প্লাটফরমের একটি সংস্থার প্রধান হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন।

ধারণা করা হচ্ছে, তুরস্কের অর্থনৈতিক সঙ্কট উত্তরণে খ্যাতিমান এই দুই অর্থনীতিবিদকে উপমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন দেশটি প্রেসিডেন্ট এরদোগান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ