ঢাকা, শুক্রবার 7 September 2018, ২৩ ভাদ্র ১৪২৫, ২৬ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

ফিলিস্তিনী গ্রাম ধ্বংস করে পশ্চিম তীরকে দুই ভাগ করবে ইসরাইল

বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হচ্ছে ফিলিস্তীনিদের বাড়িঘর

৬ সেপ্টেম্বর, আল জাজিরা : দখলকৃত পশ্চিম তীরে একটি বেদুইন গ্রাম নিশ্চিহ্ন করে সেখানকার ১৮০ জন ফিলিস্তিনী নাগরিককে জোর করে সরিয়ে দিতে সেনাবাহিনীকে সবুজ সংকেত দিয়েছে ইসরাইলের একটি আদালত। বেদুইন গ্রামটি নিশ্চিহ্ন করার মাধ্যমে পশ্চিম তীরকে দুইভাগে ভাগ করে ফেলতে সক্ষম হবে ইসরাইল। ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও মানবাধিকার গ্রুপ ও ফিলিস্তিনী নাগরিকেরা এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন।কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম এখবর জানিয়েছ।

জেরুজালেমের বড় দুই অবৈধ বসতি মালে আদুমিম ও কাফফার আদুমিম এর কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে নিশ্চিহ্ন করতে চাওয়া খান আল আহমার গ্রামটি অবস্থিত। ওই দুটি বসতিই সম্প্রসারণ করতে চাইছে ইসরাইল সরকার।

খান আল আহমার গ্রামটিতে মূলত বেদুইন জাহালির উপজাতির বাস। ১৯৫০’র দশকে এই বাসিন্দাদের তাদের নিজ ভূমি নাকাব মরুভূমি থেকে বিতাড়িত করে ইসরাইলী সেনাবাহিনী। খান আল আহমারে বসতি গড়ার আগে তাদের অন্তত দুইবার নিজেদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হয়। চারপাশে ইসরাইলী অবৈধ দখলের মধ্যে ১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তিতে ‘এরিয়া সি’ নামে পরিচিত গ্রামটিতে ৪০টি ফিলিস্তিনী পরিবার তাঁবু ও খুপড়ি ঘরে বসবাস করে। ‘এরিয়া সি’ তে পশ্চিম তীরের ৬০ শতাংশ এলাকা চিহ্নিত করা আছে। এসব এলাকা পুরোপুরিভাবে ইসরাইলী প্রশাসন ও নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণে।

ওই গ্রাম নিশ্চিহ্ন করার বিরুদ্ধে একটি আবেদন বাতিল করে দিয়ে বুধবার ইসরাইলী আদালত একটি অস্থায়ী স্থগিতাদেশ জারি করেছে। ওই আদেশের কারণে এক সপ্তাহ ওই গ্রাম নিশ্চিহ্নের কাজ শুরু হবে না।

রায় ঘোষণার পর এক বিবৃতিতে রামাল্লাহভিত্তিক ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষ বলেছে, খান আল আহমার গ্রামটি নিশ্চিহ্ন করা ইসরাইলী ঔপনিবেশিক প্রজেক্টকে সংহত করেব। যে প্রজেক্টের মাধ্যমে ইসরাইল দখল সম্প্রসারণের মাধ্যমে পূর্ব জেরুসালেমকে বাকি পশ্চিম তীর থেকে কার্যকরভাবে আলাদা করে ফেলা হবে।

ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অবৈধ সিদ্ধান্ত ইসরাইলী প্রতিষ্ঠানগুলোর সেই ঔপনিবেশিক চরিত্রের মুখোশ উন্মোচন করে দেয় যা ফিলিস্তিনী ভূমি বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে কার্যকরভাবে পশ্চিম তীরকে বিচ্ছিন্ন করতে ও ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের যেকোনও সম্ভাবনাকে হত্যা করতে কাজ করবে।

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগডর লাইবারম্যান বিচারকের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে টুইটারে একে সাহসী সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘খান আল আহমার খালি করা হবে। তাদের সাহস সিদ্ধান্তের জন্য সুপ্রিম কোর্টকে আমি অভিনন্দন জানাই। আইনের বাইরে কেউ নয়। আমাদের সাবভৌমত্বকে সংহত করা থেকে কেউ আমাদের বিরত রাখতে পারবে না।’

আদালতের আদেশের পর খান আল আহমারে সেখানকার হতাশ বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেন। গ্রামবাসীদের আইনজীবী তওফিক জাবারিন বলেন, আমরা আদালতের সব প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছি, এখন আর কিছুই করার নেই। নিশ্চিহ্ন করা যদি কোনও কিছু আটকাতে পারে তা হলো রাজনৈতিক প্রক্রিয়া।

গ্রামটি নিশ্চিহ্ন করতে আদালতের অন্যতম বড় যুক্তি ছিল ইসরাইলের অনুমতি ছাড়াই গ্রামটি তৈরি হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনীরা বলছে, এই অনুমতি পাওয়া অসম্ভব কারণ তারা শুধু অবৈধ ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের অনুমতি দিয়ে থাকে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ইসরাইলী কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনীদের আবেদনের মাত্র ১ দশমিক ৫ শতাংশে সায় দিয়েছে।

জুন মাসের শুরুতে খান আল আহমারের কয়েকটি তাঁবু ও অবকাঠামো গুড়িয়ে দেয় ইসরাইলী বুলডোজার। ওই সময়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ইসরাইলী কর্তৃপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

ইসরাইলী অধিকার গ্রুপ বি’টেসেলেমের পরিচালক হাজাই আল আদ বলেন, ইসরাইলী আদালতের রায় ভয় অনৈতিক ও ভয়ানক।

জেরুসালেমে তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত শুধু এটাই প্রতিফলিত করে যে, ইসরাইলী আদালত ন্যায়বিচারের সেবায় নয় বরং সোজাসুজিভাবে দখলদারের সেবায় কাজ করছে। তিনি বলেন, এটা এমন আরেকটি উদাহরণ যাতে আমরা দেখতে পাই দখলকৃত মানুষ কখনও দখলদারদের আদালতে ন্যায়বিচার পায় না।

ইসরাইলী সরকার গ্রামটির বাসিন্দাদের ১২ কিলোমিটার দূরে ফিলিস্তিনী গ্রাম আবু দিসের পাশে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। নতুন এই স্থান একটি বর্জ্য ফেলার জায়গার পাশে অবস্থিত। অধিকার কর্মীরা বলছেন, ওই এলাকায় জোর করে মানুষদের সরিয়ে দেওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হতে পারে। আল আদ বলেন, দখলকৃত এলাকার সুরক্ষিত মানুষদের জোর করে সরিয়ে দেওয়া সোজাসুজিভাবে একটি যুদ্ধাপরাধ। আর আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি উচ্চ আদালতের একজন বিচারক একটি যুদ্ধাপরাধ বাস্তবায়নের আদেশ দিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ