ঢাকা, শুক্রবার 7 September 2018, ২৩ ভাদ্র ১৪২৫, ২৬ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

সাতক্ষীরায় হলুদ চাষে লাভবান হচ্ছে চাষিরা

সাতক্ষীরা: হলুদের ক্ষেত

আবু সাইদ বিশ্বাস, (সাতক্ষীরা): কয়কে বছরের মন্দা কাটাতে সাতক্ষীরাতে  সমন্বিত পদ্ধতিতে হলুদ চাষে সাফল্যতার মুখ দেখতে শুরু করেছে হলুদ চাষিরা। হলুদের ক্ষেতে, কচু, ওল, কাকরল, ঝাল, কচুরমুখি, পুইশাক সহ ক্ষেতে বেড়াতে বিভিন্ন সবাজ চাষ করে লাভবান হচ্ছে তারা। এতে হলুদের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবে আশা চাষিদের। 

বিগত কয়েক বছরে জেলাতে পানের বরজের সংখ্যা বৃদ্ধি, জমিতে লবণক্ষতা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা, কৃষি জমি হ্রাস, দেশের অভ্যন্তরে হলুদের দাম ও চাহিদা কমায় জেলাতে  হলুদ চাষ হ্রাস পায়। এতে জেলায় হলুদ উৎপাদন ৪০ ভাগ কমে যায়। 

প্রযুক্তির উন্নয়ন ও হলুদের দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে এবছর সাতক্ষীরা জেলাতে হলুদের আবাদ কিছুটা বাড়ছে।  

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ৬৪৫ হেক্টর জমিতে হলুদ আবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে তালা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ৩২০ হেক্টর জমিতে হলুদ আবাদ হবে। এর পরই রয়েছে কালীগঞ্জের অবস্থান। 

এ উপজেলায় ১১০ হেক্টর জমিতে হলুদ আবাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য উপজেলার মধ্যে সদরে ৯০ হেক্টর, কলারোয়ায় ৫৫, দেবহাটায় ১০, আশাশুনিতে ১৫ ও শ্যামনগরে ১০ হেক্টর জমিতে হলুদ আবাদ হয়েছে। 

অন্যদিকে ২০১৭-১৮ মৌসুমে জেলার সাতটি উপজেলায় মোট ৫৪৫ হেক্টর জমিতে হলুদ আবাদ হয়।  এর মধ্যে তালা উপজেলাতে ২৬০ হেক্টর জমিতে.কালীগঞ্জের, ৮৫ হেক্টর জমিতে, সদরে ৮০ হেক্টর, কলারোয়ায় ৭০, দেবহাটায় ৬, আশাশুনিতে ১০ ও শ্যামনগরে ৩৪ হেক্টর জমিতে হলুদ আবাদ হয়।

২০১৬-১৭ মৌসুমে জেলাতে হলুদের আবাদ হয় ৬৬৪ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ১২০, কলারোয়ায় ৯০, তালায় ২৮৬, দেবহাটায় ১৫, কালীগঞ্জে ১০০, আশাশুনিতে ১৫ ও শ্যামনগরে ৪৩ হেক্টর জমিতে হলুদ আবাদ  হয়।

 এছাড়া ২০১৫-১৬ মৌসুমে জেলায় মোট ৮০০ হেক্টর জমিতে হলুদ আবাদ হয়েছিল। সে হিসাবে, সাতক্ষীরায় পণ্যটির আবাদ কমে ২৫৫ হেক্টর জমিতে।

২০১৮-১৯ মৌসুমে সাতক্ষীরায় হলুদ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ হাজার টন। ২০১৭-১৮ মৌসুমে সাতক্ষীরায় হলুদ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৭ হাজার ৮৫ টন। এর মধ্যে তালা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ৩ হাজার ৩৮০ টন হলুদ উৎপাদন হতে পারে। বাকি উপজেলাগুলোর মধ্যে সদরে ১ হাজার ৪০ টন, কলারোয়ায় ৯১০, দেবহাটায় ৭৮, কালীগঞ্জে ১ হাজার ১০৫, আশাশুনিতে ১৩০ ও শ্যামনগরে ৪৪২ টন হলুদ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গত মৌসুমে জেলায় ১০ থেকে সাড়ে ১০ হাজার টন হলুদ উৎপাদন হয়েছিল। 

জেলার তালা উপজেলার খলিষখালী গ্রামের সৈয়িদ আলী শেখ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি হলুদ আবাদ করে আসছেন। তবে কয়েক বছর ধরে পণ্যটির আবাদ কমিয়ে ফেলেছে। জমিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো আর উৎপাদন হয় না। 

কয়েক জন চাষি জানান,সমন্বিত চাষের মাধ্যমে একই জমিতে হলুদের সাথে কয়েক ধরণে সবজির চাষ করা যায়। ফলে তদারকি সহ হলুদ চাষে খরচ অনেক কম।

 সরজমিনে দেখা যায়, চাষিরা  হলুদের সাথে একই জমিতে ঝাল গাছ, বেগুন চাষ, মেটে আলু ,ওলের চাকি চাষ করছে। দেখা যায়, হলুদের সাথে সাথে একই সাথে এ সকল ফসল অতিদ্রুত ফলানো যায়। এতে ঐ কৃষকের নিজের পরিবারের চাহিদা পুরণ করে বাজারে বিক্রি করে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব। এ বছর শুকনো হলুদের দাম বেশি থাকায় হলুদ বিক্রিতে মোটামুটি গতবারের থেকে বাজার পাবেন বলে আশা করছেন চাষিরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী আব্দুল মান্নান জানা জেলাতে হলুদের আবাদ বাড়াতে চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, হলুদ বেশ লাভজনক ফসল। সাতক্ষীরায় প্রতি হেক্টরে ১৫-১৬ টন পর্যন্ত হলুদ উৎপাদন করা সম্ভব। 

কিন্তু উপকূলীয় জেলা হওয়ার কারণে বেশ কিছুদিন ধরে এখানকার আবাদি জমিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা। এ দুই কারণে জেলার কৃষকরা হলুদ আবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। তবে আমরা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কৃষকদের হলুদ আবাদের ক্ষেত্রে সবসময় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে থাকি। যার ফলে এবছর আবাদ বাড়ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ