ঢাকা, মঙ্গলবার 25 September 2018, ১০ আশ্বিন ১৪২৫, ১৪ মহররম ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রোহিঙ্গা ইস্যু: আইসিসির বিচারিক সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন আঞ্চলিক সাংসদরা

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: মিয়ানমার রোম সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ না হওয়া সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক বিতারণের অপরাধে তাদের বিচার করার এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রয়েছে বলে নেয়া সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন আঞ্চলিক সংসদ সদস্যরা।

মালয়েশিয়ার সংসদ সদস্য ও এশিয়ার মানবাধিকার বিষয়ক সাংসদদের (এপিএইচআর) সভাপতি চার্লস সান্তিয়াগো বলেন, ‘এটি একটি মাইলফলক সিদ্ধান্ত এবং রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংস অপরাধের অভিযোগের জবাবদিহিতা আদায়ের পদক্ষেপ।’

জাকার্তা থেকে ইউএনবির কাছে আসা এক বিবৃতিতে সান্তিয়াগো বলেন, আইসিসির সিদ্ধান্তের ফলে এখন রোহিঙ্গাদের জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত করার বিচারিক ক্ষমতা পেল আইসিসি। আমাদের অবশ্যই এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।

বৃহস্পতিবার আইসিসির নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের জোর করে বিতারণে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়টি খতিয়ে দেখবে তারা। রোম সনদ অনুযায়ী এ বিষয়ে আদালত ক্ষমতার প্রয়োগ করতে পারবে। মিয়ানমার রোম সনদে স্বাক্ষর না করলেও রোহিঙ্গাদের বিতারণে যে অপরাধ হয়েছে তার ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে স্বাক্ষরকারী দেশ বাংলাদেশের ওপর।

এদিকে ইন্দোনেশিয়ার সাংসদ ও এপিএইচআর’র বোর্ড সদস্য ইভা কুসুমা সুন্দরি বলেন, ‘আইসিসির এখন একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করার সুযোগ রয়েছে। অর্থাৎ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং মিয়ানমারে দীর্ঘকাল ধরে চলা বৈষম্য ও অবিচারের অবসান ঘটানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মিয়ানমারে কয়েক দশক ধরে নিষ্ঠুর নির্যাতনের শিকার ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার জন্য এটি নিঃসন্দেহে কিছু আশা সৃষ্টি করবে। রোহিঙ্গা জনগণের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তের সুপারিশগুলোর দিকে আমরা তাকিয়ে আছি এবং আইসিসির আওতাধীন সব অভিযোগের জন্য দায়ীদের পূর্ণ তদন্ত ও বিচার সম্পর্কে আমরা আশাবাদী।’

গত আগস্টে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, গণহত্যার উদ্দেশে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মিয়ানমারের উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের বিচারের মুখোমুখি করা উচিৎ।

তবে এরকম অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার সরকার। তারা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে।

আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে পূর্ণ প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা রয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ