ঢাকা, শনিবার 8 September 2018, ২৪ ভাদ্র ১৪২৫, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৩৯ হিজরী
Online Edition

বিএনপিকে দুই বছরের জন্য আমাদেরকে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে : মান্না

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির সঙ্গে ঐক্যের পর ক্ষমতায় আসতে পারলে দুই বছর ক্ষমতা তাদের হাতে ছেড়ে দিতে হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তফ্রন্ট নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেছেন, এই দুই বছরেই তারা সুশাসন কী সেটি করে দেখাবেন। বিএনপির সঙ্গে ঐক্যের আলোচনা অনেক দূর এগিয়ে গেছে বলেও সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে আলোচনায় জানিয়েছেন যুক্তফ্রন্টের এই নেতা। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের পর বিএনপি স্বেচ্ছাচারী হয়ে উঠবে না, এটা নিশ্চিত করেই আলোচনা চালাচ্ছেন তারা।
বিএনপির এবং যুক্তফ্রন্টের ঐক্যের চেষ্টা কতদূর এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, এটার কাঠামোটা দৃশ্যমান হয়েছে, এটা একটা বিরাট অর্জন এই মুহূর্তে। ঐক্য গড়ার পথে অনেক দূর এগিয়েছি আমরা। ঐক্য গড়ার সময় যে প্রস্তাব নিয়ে, দাবি নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়, আমাদের তেমন হয়নি। কারণ স্বৈরতন্ত্রের থাবা এতো তীব্র, মানুষের এখান থেকে মুক্তির আকাঙ্খা জোরাল হয়েছে।
আমাদের সমস্যা হতে পারত বেগম জিয়ার মুক্তির দাবি প্রধান করে আনতে। এখানে তার মুক্তির দাবি প্রধান নয়, দাবিনামার মধ্যে থাকলেই হলো। কেউ কেউ আবার বলেন, আইনগতভাবেই হোক আর যেভাবেই হোক উনি মুক্তির দাবিদার। আলোচনাগুলো কী নিয়ে হচ্ছে? এর জবাবে মান্না বলেন- সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, বেকারত্ব দূর করা, দুর্নীতি দূর করা, শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা, স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করা। এইটা আমাদের নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছি যে- নামব কীভাবে, ঘোষণা দেব কীভাবে? আন্দোলনটা গড়ে তুলব কীভাবে?
কেন মনে করছেন এই ঐক্য দেশের জন্য ভালো হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- এটা কোনো ব্যাখ্যার দাবি রাখে? দেশ ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছে। কোনো নির্বাচন ছাড়া গায়ের জোরে রীতিমতো শঠতা করে ক্ষমতায় থাকা হচ্ছে এবং সেই চক্রান্ত এখনও চলছে। এটা প্রতিহত করার জন্য কিছু করতেই হবে, এটা সেই উদ্যোগ। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এটার কোনো বিকল্প নেই।  
তিনি বলেন, বিএনপি ও যুক্তফ্রন্টের দুই রকম চাওয়া রয়েছে। তবে সবাই একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। এটার জন্য নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার চাই, যার অধীনে নির্বাচন করার জন্য আস্থা তৈরি হবে। এ নির্বাচন কমিশনটা সংস্কার করতে হবে, এই নির্বাচন কমিশন ওরকম নির্বাচন করার যোগ্যতা রাখে না। আর সংসদ বহাল রেখে আরেকটা সংসদ নির্বাচন হবে না।
এই সংসদ বাতিল করতে হবে এবং এই নির্বাচন দেখা, পরিচালনা, তত্ত্বাবধানে বিচারিক ক্ষমতাসহ সামরিক বাহিনীকে দায়িত্ব দিতে হবে। এই কয়টা ব্যপারে আমাদের একেবারেই অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি আছে।
ঐক্য হলো, এরপর কী হবে? ধরুণ সরকার এবারও নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবি মেনে নিল না, তাহলে কী হবে? বিএনপি বা যুক্তফ্রন্ট কি নির্বাচনে যাবে? এ প্রসঙ্গে মান্না বলেন,  একটা না হলে আরেকটা। অনেক পথ আছে, ‘এ’ আছে, ‘বি’ আছে, ‘সি’ আছে, ‘ডি’ আছে। তবে আমরা নিরপেক্ষ একটা সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে চাই, তার জন্য আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই করব। তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মতো এবারের নির্বাচন হবে না। এইবারে আমরা নির্বাচনে থাকব, তখন জনগণ আমাদের সাথে থাকবে। আমরা যদি একসাথে ভোট করি, যে পরিস্থিতিতেই হোক না কেন, আওয়ামী লীগ ভোট করতে পারবে না।
বিএনপি ১৯৯৬ সালে একবার একতরফা নির্বাচন করেছে। আবার ২০০৭ সালে ২২ জানুয়ারি আবার বিরোধী দলকে ছাড়া নির্বাচন করতে চেয়েছে, কিন্তু পারেনি। এখন সেই বিএনপিই বলছে তাদেরকে ছাড়া নির্বাচন করা যাবে না। ১৫ ফেব্রুয়ারি এবং ২২ জানুয়ারির বাতিল নির্বাচনের কী মূল্যায়ন করবেন? বিএনপি কি ভুল করেছে? মান্না বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে এ রকম শাসনের একটা মডেল দেখাব, যেখানে কোনো হানাহানি থাকবে না। এই জন্য সিট কতটা পাব সেই বিতর্কটা করছি না। আমরা ক্ষমতার ভারসাম্যটা বড় করে দেখছি।
আমরা সত্যিকার অর্থে দেশে সুশাসনের জন্য কাজ করব। আমরা কল্যাণ রাষ্ট্র করতে চাই, দেশের বেকার সমস্যা নিরসনে কাজ করে যাব। দলবাজি থেকে মুক্ত করতে হবে দেশকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ